Asus ExpertBook B1 B1500, আমার নতুন ল্যাপটপ

একটা দীর্ঘ সময় ধরে তালবাহানা করার পর ডিসেম্বারে বাসা দিয়ে ল্যাপটপ কিনে দেওয়ার কথা, তবে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম বলে তখন নিই নি। তখন কথা ছিল কোর আই ৩ ল্যাপটপ কেনা, তবে তকদিরে ছিল কোর আই ৫। প্রথমে HP ProBook সিরিজের ল্যাপটপ কেনার চিন্তা করলেও কেনার সময় Asus ExpertBook B1 সিরিজের ল্যাপটপ নিই। এটি মিলিটারি গ্রেডের ল্যাপটপ। ল্যাপটপটি Ryans Computers এর খুলনা শাখায় অফলাইনে অর্ডার করেছিলাম। তাদের স্টকে না থাকায় ঢাকা শাখা থেকে এনে দিয়েছিলো। তবে ভাবিনি অর্ডার করার ২ দিনের মধ্যে পণ্য হাতে পাবো।

ASUS ExpertBook সিরিজের ল্যাপটপগুলো বিজনেস ও অফিসিয়াল ব্যবহারের দিকে ফোকাসড হয়ে থাকে, বহনযোগ্যতা এই সিরিজে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় এবং আসুস বলছে এই ল্যাপটপগুলোতে রয়েছে মিলিটারী গ্রেড টাফনেস। অর্থাৎ লাইটওয়েট অথচ মজবুত এবং পাওয়ারফুল ল্যাপটপ অফার করছে ExpertBook সিরিজ। ASUS এই সিরিজে ৩ বছরের আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি দিচ্ছে, যেখানে VivoBook এর ক্ষেত্রে তা ২ বছরের।

ExpertBook সিরিজের অধীনে অনেকগুলো সাবসিরিজ আছে। B1 সিরিজটি ExpertBook-এর মধ্যে তুলনামূলক অ্যাফোর্ডেবল সিরিজগুলোর একটি, যার অধীনে আছে B1400 (14″) ও B1500 (15.6″) এবং এদের বিভিন্ন প্রসেসর ও স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে এই ল্যাপটপগুলো রয়েছে বিভিন্ন দামের মধ্যে। আমার ল্যাপটপটির পূর্ণ মডেল নাম হলো Asus ExpertBook B1 B1500CEPE। এখানে আছে 15.6″ ডিসপ্লে, Intel Core i5-1135G7 প্রসেসর, 8GB DDR4-3200MHz র‌্যাম, 512GB NVMe PCIe SSD এবং এর দাম ৭৬৫০০ টাকা।

তো প্রথমে আমার ব্যাবহারের ক্ষেত্র শেয়ার করি।  আমি একজন ছাত্র এবং ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছি। স্বাভাবিকভাবেই ব্রাউজার, জুম, টেলিগ্রামের মতো রেগুলার কিছু অ্যাপ আর কোডার হিসেবে Visual Code Studio, Code Blocks এর মত সফটওয়্যারগুলো  প্রয়োজন হয়, পাশাপাশি অন্যান্য দৈনন্দিন সফটওয়্যারগুলো। এই সফটওয়্যারগুলোর কোনটিই হাই ডিমান্ডিং নয় না হলেও (ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছা থাকায়) AutoCAD-সহ পরবর্তীতে সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় কিছুটা হেভি সফটওয়্যারও যেন সামলাতে পারে এটা গুরুত্ব দিতে হয়েছে। আমি একদমই গেম খেলি না। মাঝে মাঝে টুকটাক গ্রাফিক্স  এর কাজ করা লাগে। এর বাইরে লিনাক্স চালাই মাঝে মাঝে।

এবার ল্যাপটপের কথায় আসি। Asus ExpertBook B1500C তৈরি হয়েছে চায়নাতে। ল্যাপটপটি অনেকটা ডিপ নেভি ব্লু , আসুসের ভাষায় Star Black। এর ডাইমেনশন 35.80 x 23.65 x 1.94 cm, এবং ওজন 1.73 kg। এরকম বাজেটে মেটাল বিল্ড আরো প্রিমিয়াম কিছু ল্যাপটপও রয়েছে, তবে লাইটওয়েট এই ল্যাপটপটির লুক এন্ড ফিল সার্বিকভাবে আমার জন্য যথেষ্ট। বিশেষ করে একে ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকানো যায়, এটি মিলিটারি গ্রেডের ল্যাপটপ।

ল্যাপটপটির কীবোর্ড আমার কাছে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে। নাম্বারপ্যাডসহ এটা একটা পূর্ণাঙ্গ কীবোর্ড। ব্যবহার করতে খুব স্বচ্ছন্দ্যবোধ করেছি এবং টাইপিংয়ের ফিল চমৎকার। এখানে মনো-কালার (সাদা) ব্যাকলিটও থাকছে। টাচপ্যাডটিও ঠিকঠাক মনে হয়েছে।  তবে আমি ব্যাবহারের জন্য ল্যাপটপ কেনার সময় RGB মেকানিক্যাল কিবোর্ড+ মাউস কিনেছি।

 

ল্যাপটপটিতে পোর্টস এর কমতি চোখে পড়লো না। এতে অপটিকাল ড্রাইভ নেই। ১ টি মাল্টিমিডিয়া কার্ড স্লট, ১ টি মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট, USB 2.0 Type-A পোর্ট ১ টি, USB 3.2 Gen 2 Type-A পোর্ট ২ টি, USB 3.2 Gen 1 Type-C পোর্ট ১ টি, HDMI Port ১ টি, VGA/D-Sub ১ টি, একটি কম্বো হেডফোন পোর্ট এবং Kensington Security Slot রয়েছে। এছাড়াও পাওয়ার বাটনের সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে, এটি বেশ ভালো।

 

এবার ডিসপ্লে সেকশনে আসি। ল্যাপটপটির ডিসপ্লে রেজ্যুলেশন 1920×1080 (WxH) FHD। এই প্যানেলটি Anti-Glare LED এই ডিসপ্লের ব্রাইটনেস সর্বোচ্চ 220 nits। ভিউয়িং এঙ্গেলে নেগেটিভিটি চোখে পড়েনি। তবে এর কালার গ্যামুট মাত্র 45% NTSC, যেটি আমার কাছে কম মনে হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *