মাসদুয়েক আগ পর্যন্ত, যখন আমি ডেস্কটপ ব্যবহার করতাম, তখন নিয়মিতই ডিস্ট্রো পরিবর্তন করতাম। যদিও আভিধানিকভাবে আমি ডিস্ট্রো হপার নই, কেননা আমার জন্য স্থায়ী হওয়ার মত পারফেক্ট ডিস্ট্রোর খোঁজে আমি ছিলাম না, তবে কোনকিছু আকর্ষণীয় লাগলে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য বা কখনো স্বাদ বদলের জন্য সরাসরি মূল হার্ডডিস্কেই ইন্সটল করতাম (আর আমার i3-3220 প্রসেসরের সাথে সীমিত র‌্যামের ডেস্কটপ ভার্চুয়ালাইজেশনে সক্ষম হলেও ঠিক যুৎসই না)। আরেকটা সুবিধা ছিলো, অফলাইনে আমার তেমন কোন কালেকশন বা কিছু ছিলো না, যেকারণে প্রায়সই পুরো হার্ডডিস্ক মুছে ফেলা তেমন ব্যাপার ছিলো না আমার জন্য (যদিও কিছু জিনিস নতুন করে সেটআপ তো করতেই হত)। আর মাল্টিবুটিংও করতাম, একসাথে ৬টা পর্যন্ত ডিস্ট্রো ইন্সটল করেছি। বাই দা ওয়ে, সাধারণভাবে অবশ্যই এগুলো ভালো প্রাক্টিস না, পিসিকে প্রোডাক্টিভ কাজে ইউজ করতে হলে নেভার বি লাইক মি।

এতক্ষণ যে টার্মগুলো ব্যবহার করেছি, অনেকের হয়ত পূর্বপরিচিতি নেই। পরের কথায় যাওয়ার আগে টার্মগুলোর অর্থ বলে রাখি। লিনাক্স কার্নেলকে ভিত্তি করে উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট, পপ ওএস, ফিডোরা এরকম বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে, এরকম অপারেটিং সিস্টেমগুলোকে লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন বা ডিস্ট্রো বলা হয়। ডিস্ট্রো হপিংয়ের ব্যাপারটা Urban Dictionary থেকে জেনে নিতে পারেন। ভার্চুয়ালাইজেশন সাধারণ অর্থ একটি হোস্ট অপারেটিং সিস্টেম (উইন্ডোজ/লিনাক্স/ম্যাক সবই হতে পারে) এর মধ্যে হার্ডওয়্যারের কিছু অংশ বরাদ্দ দিয়ে আরেকটি ভার্চুয়াল ডেস্কটপ তৈরি করে তাতে আলাদাভাবে কোন ওএস চালানো। আর একাধিক অপারেটিং সিস্টেম একসাথে ইন্সটল করা হলো মাল্টিবুট, যেখানে কম্পিউটার চালু করার সময় কোনটি চালু হবে নির্বাচন করা যায়।

যাইহোক, ল্যাপটপের গল্পটা ভিন্ন। নতুন ল্যাপটপ Lenovo IdeaPad Slim 3i 15ITL কেনা হয়েছে কিছুদিন আগে, মূলত একাডেমিক প্রয়োজনে। শুরুতে এটি জেনুইন উইন্ডোজের সাথে এসেছে। একাডেমিক কিছু ব্যাপারে উইন্ডোজ প্রয়োজন ছিরো, তবে এর বাইরে দৈনন্দিন সব কাজে আমি অবশ্যই লিনাক্স প্রিফার করে থাকি, যেকারণে সহজ সমাধান হলো ডুয়াল বুট করা। যাইহোক, ল্যাপটপের ক্ষেত্রে ডেস্কটপের মত তত বেশি এক্সপেরিমেন্ট করার ইচ্ছে নেই, এছাড়া টেস্টিংয়ের প্রয়োজনে ভার্চুয়াল বক্স দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়া যাবে বোধ করি। তাই এখানে যে ডিস্ট্রো ইন্সটল করব, তাতে দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ারই চিন্তা ছিলো, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে।

এক্ষেত্রে অনেকগুলো চয়েস ছিলো আমার হাতে, যেগুলো দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য মোটামুটি সব দিকেই ঠিকঠাক। কেডিই নিয়ন, জরিন ওএস, লিনাক্স মিন্ট, পপ ওএস, মানজারো কোনটিরই ঠিক ডিলব্রেকিং ধরণের ড্রব্যাক নেই। লিনাক্স মিন্ট দেয়ার কথা প্রথমে ভাবছিলাম, যেহেতু এটা একটা বিশ্বস্ত নাম, আইএসও ডাউনলোড ও পেনড্রাইভে বুটেবলও করেছিলাম, তবে পরে মন খুব সায় দিলো না, আরেকটু এক্সাইটিং কিছু হলে ভালো মনে হলো। কেডিই প্লাজমা আর গ্নোমের ফিলোসফিতে বিশাল তফাৎ থাকলে দু’দিক থেকে দুটোই আমার প্রিয়, তবে উইন্ডোজের ইন্টারফেসের সাথে কোথায় যেন প্লাজমার মিলটা আছে বেশ (যদিও কাস্টমাইজেবিলিটি ধারেকাছে না), তাই ডুয়াল বুটের ক্ষেত্রে প্লাজমা প্রিফার করিনি। বছরখানেক আগে হলে আমার ডিফল্ট চয়েস হয়ত পপ ওএস হত, কিন্তু রিসেন্ট ২১.১০ এডিশনে গ্নোম ৪০ ইমপ্লিমেন্ট করেও একে জোর করে আগের এডিশনের সেম এক্সপ্রেরিয়েন্স বানানোর চেষ্টা ঠিক মনে ধরে নাই। আর এখানেই মূলত ফিডোরার কথা মনে হলো, কারণ ফিডোরা-ই মনে হয় গ্নোমের এক্সপ্রেরিয়েন্স সবচেয়ে বিশুদ্ধ দেয়।

ডিশিসনটা আমার নিজের জন্যই সারপ্রাইজিং ছিলো, কারণ বছরদুয়েক আগের অভিজ্ঞতায় ফিডোরা সবচেয়ে সুখকর ছিলো না, প্রথমবারে অ্যানাকোন্ডা ইন্সটলারে ইন্সটলেশন, আনকাস্টমাইজড গ্নোমের সাথে অনভ্যস্থতা, কার্সর হারিয়ে যাওয়ার বাগসহ অনেক কারণেই। গ্নোম ৪০ আসার পর আরেকবার টেস্ট করেছিলাম, তখন বেশি অসুবিধে বোধ করেছিলাম অ্যাপইন্ডিকেটর নিয়ে, মানে কোন অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চললে কোন ইন্ডিকেশন থাকতো না, যেটা ফিডোরার সমস্যা ভেবেছিলাম, যদিও পরে বুঝেছি গ্নোমের ডিফল্ট বিহেভিয়র এমনি, একটা এক্সটেনশন প্রয়োজন ছিলো।

ডুয়াল বুট করা উদ্দেশ্য থাকায় শুরুতে তিনটি প্রস্তুতিমূলক কাজ করেছি। ডিফল্ট ইন্সটলেশনে ড্রাইভগুলোতে Bitlocker Encryption এনাবল করা ছিলো- সেটিংস থেকে ডিজেবল করে নিয়েছি। ফিডোরা সিকিউর বুট সমর্থন করে, সম্ভবত সিকিউর বুট ডিজেবল না করলেও হত, তবে আমি বায়োস মেনু থেকে ডিজেবল করে নিয়েছিলাম [পরে পুনরায় সিকিউর বুট এনাবল করেছিলাম, এতে কোন সমস্যা হয়নি।]। তার সাথে উইন্ডোজের ফাস্ট বুট ডিজেবল করে নিয়েছি, যেটা ডুয়াল বুটে অসুবিধে সৃষ্টি করতে পারে।

বাকি ইন্সটলেশন ছিলো একদম স্মূথ। পেনড্রাইভ বুটেবল করতে আমি Ventoy ব্যবহার করি, এটা দিয়ে জাস্ট একবার বুটেবল করতে হয়, এরপর শুধু আইএসও কপি-পেস্ট এবং একসাথে একাধিক আইএসও বুটেবল রাখা যায়। কোন অসুবিধে ছাড়াই ফিডোরা এর সাথে কাজ করেছে। টোটাল স্টোরেজকে উইন্ডোজ ডিস্ক ম্যানেজার থেকে মোটামুটি সমান দুটি পার্টিশনে ভাগ করে একটা উইন্ডোজকে বরাদ্দ দিয়েছি, অন্যটির স্পেস ফিডোরার জন্য বরাদ্দ রেখেছি। এরপর ফিডোরা ইন্সটলার থেকে সে স্থানে / ও /boot/efi পার্টিশনদুটি তৈরি করেছি। অবশ্য এতক্ষণে মনে হচ্ছে একটা ভুল হয়েছে, /home আলাদা করা উচিৎ ছিলো (লিনাক্স ইন্সটলেশন ও পার্টিশনিং নিয়ে আরো দেখুন)। এনাকোন্ডা (ফিডোরার ইন্সটলারের নাম) এই দফা একদমই আমাকে বিরক্ত করেনি, দ্রুত ও ঠিকঠাক কাজ করেছে। ইন্সটলের পর ফিডোরা বা উইন্ডোজ কোনটাতেই বুট করতে অসুবিধা হয়নি।

ডেস্কটপে বাংলালায়ন ওয়াইম্যাক্সের মডেম লিনাক্সে কাজ না করা নিয়ে যুদ্ধের অনেক স্মৃতি আছে, এখন বাংলালায়ন নিজেও টিকে নেই। স্মৃতিগুলো মনে পড়তে হঠাৎ আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলাম, সময় যেন বড্ড বেশিই দ্রুত চলে। যাহোক, ল্যাপটপ অল ইন ওয়ান ধরণের হওয়ায় কম্পোনেন্ট সাপোর্টের কনসার্ট একটু তো থাকেই, যেহেতু উইন্ডোজকে কেন্দ্র করেই ডিভাইসগুলো ডিজাইন হয়ে থাকে। ভালো কথা হলো ক্যামেরা, ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, টাচপ্যাড সবকিছু ফিডোরাতে পারফেক্টলি কাজ করছে, শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বাদে। দুঃখজনকভাবে এই সেন্সরটির অফিসিয়াল লিনাক্স সাপোর্ট নেই এবং অনলাইনে উবুন্টুর জন্য একটা ড্রাইভার পেলেও ফিডোরাতে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

ফিডোরার লেটেস্ট এডিশন ফিডোরা ৩৫ চলছে গ্নোম ৪১ এর সাথে। গ্নোম ৪০-এর মত হিউজ আপডেট এটা নয়, তবে তার কন্টিনিউয়েশন হিসেবে আরো কিছু ইম্প্রুভমেন্ট এখানে এসেছে, যার মধ্যে মাল্টিটাস্কিং সেটিংস, স্ট্যাটাস মেনুতে পাওয়ার অপশনস, আর বিশেষভাবে আপডেটেড গ্নোম সফটওয়্যার উল্লেখযোগ্য। গ্নোম ৩.৩৮ বা আগের এডিশন থেকে কেউ এখানে আসলে সম্পূর্ণ নতুন একটা এক্সপ্রেরিয়েন্স পাবে।

গ্নোম ৪০ থেকে স্টার্টআপের পর শুরুতে ডেস্কটপ প্রদর্শন না করে সরাসরি Activities ভিউ প্রদর্শন করা হয়, যেখান থেকে ওয়ার্কস্পেস ও অ্যাপ্লিকেশনগুলো এক্সেস করা যায়। ভালো কাজ করেছে, কারণ গ্নোম ডেস্কটপে ডেস্কটপ আইকন, ডক কিছুই থাকে না শুধু টপ-প্যানেল ছাড়া, অর্থাৎ ডেস্কটপ চালু করার পর Activities-এ যাওয়াই হলো প্রায় সবসময়ে প্রথম কাজ।

গ্নোম ৪০ থেকে ডক ও ওয়ার্কস্পেস হরাইজন্টাল করা হয়েছে, যা আগে ভার্টিকাল ছিলো। এটা অনেকের মত আমারও বেটার লেগেছে, তবে একটা জিনিস যে এখন এক্টিভিটিজ বাটন (একইসাথে হট কর্নার) আছে সবার ওপরে ডানে, অন্যদিকে শো অ্যাপ্লিকেশনস বাটন সবার নিচে বামের দিকে, মানে একটা বিশাল রাস্তা মাউস ট্রাভেল করতে হয় অল অ্যাপ্লিকেশনসে যেতে। অবশ্য শর্টকাট বা টাচপ্যাড জেশচারে অভ্যস্থতা থাকলে এটা অসুবিধা না।

অ্যাপ্লিকেশন গ্রিডে গ্নোম বেশ কিছু এডিশন ধরেই উন্নতি করছে, গ্নোম ৪০-এ এসে এটা বেশ চমৎকার একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে। পছন্দমত রি-অ্যারেঞ্জ, ফোল্ডার তৈরি, হোভারে পূর্ণ নাম প্রদর্শন এরকম ফিচারগুলো এখন এতে রয়েছে। অন্য সবকিছুর সাথে মিলিয়ে এখানেও এখন স্ক্রলিং হরাইজন্টাল। অ্যাপ গ্রিডেও ওয়ার্কস্পেসগুলো শো করে, সহজে সুবিধামত ওয়ার্কস্পেসে অ্যাপ ওপেন করা যায়।

গ্নোমে মাল্টিপল ওয়ার্কস্পেসের ব্যবহার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বাই ডিফল্ট মিনিমাইজ বাটন নেই, টুইক টুল থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন বা রাইট ক্লিক মেনু থেকে মিনিমাইজ করতে পারেন, তবে গ্নোম শেল মূলত ওভাবে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়নি, বরং বিভিন্ন ওয়ার্কস্পেসে অ্যাপগুলো সাজিয়ে রেখে ব্যবহার করার মত তৈরি করা। এটা অভ্যস্থতা ও স্বচ্ছন্দ্যবোধের ব্যাপার, তবে আগের তুলনায় বর্তমানের হরাইজেন্টাল সেটআপসহ পরিবর্তনগুলো এই ওয়ার্কফ্লোকে বেশ কমফোর্টেবল করেছে বলে মনে হয়েছে।

ডেস্কটপের মাউস থেকে ল্যাপটপের টাচপ্যাডে এসে জেসচারগুলো বেশ উপভোগ করছি। ওপরের দিকে থ্রি ফিঙ্গার সয়াইপ আপ করে প্রথমবারে অ্যাক্টিভিটিস ভিউ, দ্বিতীয়বারে অ্যাপ্লিকেশন গ্রিড। ডানে বামে থ্রি ফিঙ্গার সয়াইপ করে ওয়ার্কস্পেস পরিবর্তন। আমার লেনোভো ল্যাপটপে ফিডোরাতে টাচপ্যাড ন্যাভিগেশন ও জেসচার পারফেক্টলি কাজ করছে।

গ্নোম সেটিংসে খুব বেশি কাস্টমাইজেবিলিটি অপশন না পেলেও গ্নোমের কাস্টমাইজেবিলিটির বড় অংশ হয় গ্নোম এক্সটেনশনসের মাধ্যমে, একইসাথে গ্নোমকে আরো ফাংশনাল করতে পারে এক্সটেনশনের ব্যবহার। ড্যাশ টু ডক, ড্যাশ টু প্যানেল, আর্ক মেনু এরকম জনপ্রিয় এক্সটেনশনগুলো গ্নোমের এক্সপ্রেরিয়েন্সকে ট্রেডিশনাল- তথা উইন্ডোজ লাইক এক্সপ্রেরিয়েন্সের সাথে ম্যাচ করতে পারে। আরো অনেক চমৎকার গ্নোম এক্সটেনশন আছে, যা গ্নোমের ফাংশনালিটি ইমপ্রুভ করে।

আমি বর্তমানে চারটি এক্সটেনশন ব্যবহার করছি। ব্যাকগ্রাউন্ড লোগো এটা ফিডোরায় প্রি-ইন্সটল্ড, জাস্ট সিম্পল একটা ফিডোরা ওয়াটারমার্ক যুক্ত করে দেয় ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে। ক্লিপবোর্ড ইন্ডিকেটর বেশ কাজের জিনিস, কপি করা জিনিসগুলো সংরক্ষণ রাখে। কিছু আগে অ্যাপইন্ডিকেটরের সমস্যার কথা বলছিলাম, AppIndicator and KStatusNotifierItem Support নামক লম্বা নামের এক্সটেনশনটি এটা সলভ করতে পারে। আর সবশেষে, ব্লার মাই শেল, যেটা গ্নোম শেলে সুন্দর ব্লার যোগ করে, ছবিতে যেমনটা দেখা যাচ্ছে-

তবে গ্নোমের একটা সমস্যা হলো আপডেটের সাথে সাথে পুরনো এক্সটেনশনগুলো প্রায়ই সাপোর্ট হারায়। যেমন ইমোজি সিলেক্টর এক্সটেনশনটি এখনো গ্নোম ৪০ বা ৪১ এর জন্য আপডেট না করাতে ওটা ব্যবহার করা আপাতত সম্ভব না।

একটা মজার বিষয় লক্ষ্য করলাম, থিম ও আইকন থিম হিসেবে ডিফল্ট Adwaita আর খারাপ লাগছে না। এমনিতে এডভাইটা আগের থেকে অনেক পলিশড ও মডার্ন এখন, তবে আমার কাছে সুন্দরতম থিম এটা কখনোই ছিলো না। তারপরও একে পরিবর্তনের প্রয়োজন এখন বোধ করছি না, মাঝখানে Pop থিমে সুইচ করেও পরে আবার এডভাইটাতে ফিরে এসেছি।

অবশ্য এই সময়ে এই Adwaita-প্রীতি ভালো লক্ষণ, কারণ আপকামিং গ্নোম ৪২ আরেকদফা বড় রকম পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে GTK4 ও Libadwaita-র সাথে। এখানে গ্লোবাল ডার্ক মোড যুক্ত হচ্ছে, তবে থিমিং সাপোর্ট মূলত থাকবে না। গ্নোম ২ থেকে গ্নোম ৩-এ আসার পর থেকে আসলে অনেক ফিচার বাদ পড়েছে, এটা নতুন আরেকটা সংযোজন মাত্র। গ্নোম ডেভেলোপাররা মনে করেন প্রতিটা প্রিফারেন্সের জন্য কিছু মূল্য দিতে হয়, যেকারণে তারা মূলত “as it is” ধরণের মডার্ন ডেস্কটপ নিয়েই কাজ করছেন, যেখানে তাদের মতে আউটডেটেড কিংবা অপ্রয়োজনীয় ফিচারগুলো বাদ দিতে তারা কখনোই দ্বিধা করেন না 🙂 অবশ্য কিছু এক্সাইটিং ফিচারও আসছে নতুন আপডেটে, দেখাই যাক কী হয়!

ফিডোরা রেডহ্যাট ফ্যামিলির সদস্য। এখানে প্যাকেজ rpm এবং প্রি-ইনক্লুডেড আছে Flatpak সমর্থন। সফটওয়্যার ইন্সটলের জন্য গ্রাফিকাল গ্নোম সফটওয়্যার রয়েছে, যেটা গ্নোম ৪১-এর আপডেটে চমৎকার রিফাইন্ড হয়েছে। নতুন ক্যাটাগরী বিন্যাস (Create, Work, Play,…) কনফিউজিং মনে হয়, এর বাইরে এটা দারুণ করেছে।

হোমপেজ ও ক্যাটাগরী পেজে এডিটর’স চয়েস, নিউ এন্ড আপডেটেড সেকশন থাকছে। অ্যাপ্লিকেশন পেজেও এসেছে মেজর রিডিজাইন, পূর্বের তুলনায় গোছানো দেখাচ্ছে সবকিছু। কমান্ড লাইনে স্বচ্ছন্দ্য হলে dnf রয়েছে প্যাকেজ ম্যানেজমেন্টের জন্য।

রিসোর্স ইউসেজের কথায় আসলে ৮ জিবি র‌্যাম আর i5-1135G7 প্রসেসরের সাথে এখানে স্বাভাবিকভাবেই ফিডোরা খুব ভালোভাবে চলেছে। তবে এর আগে ২ জিবি ও পরে ৪ জিবি র‌্যামের সাথে i3-3220 ডেস্কটপে যখন ফিডোরা চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে সয়াপ স্পেস (ভার্চুয়াল র‌‌্যামের মত) যুক্ত করে এরকম কনফিগারেশনেও ফিডোরা চালানো সম্ভব, তবে ২ জিবি র‌্যাম হলে গ্নোমের দিকে না যাওয়াই ভালো, কেননা অন্য কাজগুলোর জন্য খুব কমই র‌্যাম বাকি থাকবে। স্টার্টআপে এটা প্রায় ১.৮ জিবি র‌্যাম নেয় এবং নিচের স্ক্রিনশট রাউজারে শুধু নিয়নবাতি আর ফেসবুক চালু থাকা অবস্থায় নেয়া। অবশ্য র‌্যাম কম থাকলে মডার্ন সিস্টেমগুলো সে অনুযায়ী ম্যানেজ করে থাকে।

সাধারণত বিভিন্ন লিনাক্সে ব্যাটারী উইন্ডোজের তুলনায় বেশি ড্রেইন হয়ে থাকে, তবে ফিডোরা এখানে ভালো ফলাফল দেখিয়ে থাকে। 45 Wh ব্যাটারী থেকে ব্রাউজিংসহ লাইট ইউসেজে ৫ ঘন্টার আশেপাশে ব্যাকআপ দিতে পারে। অবশ্য আমি ইনডোরে লো ব্রাইটনেসে ব্যবহার করে থাকি, বেশি ব্রাইটনেসে বা রিসোর্স ইন্টেনসিভ ইউসেজে ব্যাকআপ স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। উইন্ডোজ আর ফিডোরাতে ব্যাকআপে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বোধ হয়নি, অবশ্য উইন্ডোজ তত একটা চালিয়ে দেখা হয়নি।

সবশেষে, ফিডোরা এক্সিস্ট করছে ২০০৩ সাল থেকে এবং বলাই যায় যে এত বছর সময়ে বিশ্বস্ত একটি অবস্থানে ফিডোরা আসতে পেরেছে। সবচেয়ে চকচকে না হলেও একটা মডার্ন, পলিশড ইউআই-এর সাথে ঝরঝরে এক্সপ্রেরিয়েন্স দিচ্ছে ফিডোরা। লিনাক্সে দীর্ঘদিন হলেও এক ডিস্ট্রোর সাথে কয়েক মাসের বেশি কাটানো খুব একটা হয়নি। এবার কী হয় দেখা যাক!

Leave a Reply

Your email address will not be published.