একটু অদ্ভুত কম্পারিজন, কারণ ফোনদুটোর দামের কিন্তু বেশ পার্থক্য আছে। Symphony ATOM এর দাম যেখানে ৭৩০০ টাকা, Itel Vision 2 এর দাম সেখানে ৯০০০ টাকা। আর এন্ট্রি লেভেলে ১৭০০ টাকার এই তফাৎ কিন্তু মোটেও কম নয়। তারপরও আমার মনে হয়েছে পাশাপাশি স্মার্টফোনদুটোর কম্পারিজন খুব একটা বেমানান দেখাবে না।

Itel Vision 2 হলো গতবছর সাড়া জাগানো স্মার্টফোন Vision 1 এর সাক্সেসর। Vision 1 যেমন খুব কম বাজেটে নচ ডিসপ্লে ও আইফোনের মত ক্যামেরা মডিউল দিয়ে তাক লাগিয়েছিলো, তেমনিভাবে Vision 2 তে সবচেয়ে কমদামে পাঞ্চহোল ক্যামেরা কাটআউট দিয়ে চমক দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে ATOM সিম্ফনির একদমই নতুন একটি সিরিজ। এই সিরিজের প্রথম ফোন হিসেবে সিম্ফনি এটম এসেছে, এবং স্মার্টফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ক্যামেরা।

ডিজাইনের দিক দিয়ে ম্যাট ফিনিশ, সানরাইজ প্যাটার্ন, ট্রেন্ডি ক্যামেরা হাউজিং মিলিয়ে Itel Vision 2 কিন্তু বেশ স্টাইলিশ একটি ডিজাইন নিয়ে এসেছে। তবে আমার চোখে Symphony ATOM-এর মিনিমাল ডিজাইন দেখতে বেশি ভালো লেগেছে। এটা অবশ্য ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করছে। Deep Blue ও Gradiation Green দুটো কালারে Vision 2 আনা হয়েছে। Midnight Blue, Denim Blue ও Pine Green তিনটি কালারে এসেছে সিম্ফনি এটম।

তবে ডিসপ্লে সেকশনে এত কম দামে পাঞ্চহোল দেয়ায় Vision 2-র প্রশংসা করতে হচ্ছে। তারা 6.6″ HD+ ডিসপ্লে দিয়েছে, সঠিক রেজ্যুলেশন খুব সম্ভব 1600*720। অন্যদিকে এটম দিয়েছে নচ ডিসপ্লে, যার সাইজ 6.22″, রেজ্যুলেশন HD+ (1520*720)। যারা একটু ছোটখাট ফোন পছন্দ করেন, তাদের জন্য আবার সিম্ফনি এটম ভালো হতে পারে। তবে এর চিন ও বেজেলের জন্য সামনে থেকে দেখতে সুন্দর দেখায় না, যেখানে Vision 2 আকর্ষণীয়।

এরপর যদি ক্যামেরা সেকশনে আসি, এখানে Vision 2-তে তিন-তিনটি রেয়ার ক্যামেরা দেয়া হয়েছে, কিন্তু মূলত একটিই কাজের, 13MP প্রাইমারী ক্যামেরা, যার অ্যাপার্চার উল্লেখ করা হয়নি। অন্য দুটি হলো 2MP ম্যাক্রো ও ডেপথ, সেলফি ক্যামেরা 8MP। যে ক্যামেরা সেটআপ এতে দেয়া হয়েছে, তা এই রেঞ্জে অবশ্যই ঠিক আছে, তবে সিম্ফনি কিন্তু এবার মাত্র একটি ক্যামেরা দিয়ে চমক দেখিয়েছে, এটি হলো 13MP f/1.8 একটি সনি সেন্সর, যা এই রেঞ্জে চমৎকার ব্যাপার, এবং একে আরো অসাধারণ করে তুলেছে ইন্টিগ্রেটেড গুগল ক্যামেরা গো!

হ্যা, সিম্ফনি এটমে ডিফল্ট ক্যামেরা অ্যাপ হিসেবে গুগল ক্যামেরা গো যুক্ত করে দেয়া হয়েছে, আর ক্যামেরার জন্য সফটওয়্যার কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তো জানারই কথা। আলাদা ডেপথ সেন্সর না থাকলেও সফটওয়্যার বেজড সুন্দর পোট্রেট ছবিও এতে পাবেন, বিশেষ করে রাতের বেলায় এর f/1.8 অ্যাপার্চার, সাথে গুগলের নাইট মোড মিলে লো বাজেটের অন্য স্মার্টফোনগুলো থেকে বেটার রেজাল্ট দিতে পারে। সেলফি ক্যামেরা যদিও 5MP f/2.2, রেজ্যুলেশন অবশ্যই কম, তবে এখানেও সফটওয়্যার কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তাই ক্যামেরা সেকশনে Symphony ATOM একটি বেটার চয়েস হতে পারে।

হার্ডওয়্যার সেকশনে দুটো ফোনের মধ্যে পার্থক্য থাকছে, Vision 2-তে অক্টাকোর (4×1.6GHz+4×1.2GHz) Unisoc SC9863A চিপসেটটি দেয়া হয়েছে, যার কোরগুলো A55। এর জিপিইউ হিসেবে থাকছে PowerVR GE8322@550MHz। তবে এই চিপসেটটি 28nm আর্কিটেকচারে তৈরি, যেটা এসময়ে খুবই বেমানান।

অন্যদিকে এটমের চিপসেট কোয়াড কোর 1.8GHz Helio A20, যার কোরগুলো A53। এখানে জিপিইউ PowerVR GE8300@550MHz। এই চিপসেটটি 12nm আর্কিটেকচারে তৈরি।

দুটো চিপসেটই একদম এন্ট্রি লেভেলের, তবে এখানে SC9863A সিপিইউ জিপিইউয়ের দিক দিয়ে খানিকটা বেশি পাওয়ারফুল। আবার পাওয়ার ইফিশিয়েন্সির দিক দিয়ে Helio A20 অনেক বেটার। SC9863A-তে তূলনামূলক ব্যাটারী খরচ কিছুটা বেশি হয়, আবার হিটিংও একটু বেশি হতে পারে।

স্ট্যাবিলিটির কথা বললে যেহেতু হিটিং কম হয়, তাই A20 বেশি সময়ের জন্য পারফর্মেন্স ধরে রাখতে পারার কথা, যেখানে SC9863A হিটআপের সাথে কিছুটা পারফর্মেন্স ড্রপ হতে পারে। তো, দুটো চিপসেটের কিছু সুবিধা-অসুবিধা আছে, একটু বেশি পারফর্মার চাইলে SC9863A, আর বেশি স্ট্যাবল, বেশি ব্যাকআপ চাইলে Helio A20 অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে।

র‌্যাম-রম দুটো ডিভাইসেই সমান থাকছে, 2/32। আইটেল অবশ্য আগে ৭ হাজারেও 2/32 দিয়েছে, তবে সিম্ফনি ৭-৮ হাজার টাকায় আগে 2/16 দিতো। এবার বেশি স্টোরেজ দিয়েছে, যা বেশ ভালো।

ব্যাটারী সেকশনে আসলে দুটো স্মার্টফোনই দিচ্ছে 4000mAh ব্যাটারী। তবে যেমনটা বলা হয়েছে, একইরকম ইউসেজে লো পাওয়ার কনজ্যুমিং চিপসেটের জন্য আপনাকে বেশি ব্যাকআপ দিতে পারে এটম। Vision 2 হয়ত সাধারণ ব্যবহারে এক-দেড়দিন চলার জন্য যথেষ্ট হবে, যেখানে এটম হয়ত দুদিনের কাছাকাছি চলবে। দুটো ফোনেরই থিকনেস কিন্তু বেশ কম, 8.3″ স্লিম বডি থাকছে দুটো ডিভাইসেই।

চার্জিংয়ের দিক দিয়ে দুটো ডিভাইসই ধীরগতির, তবে আইটেল একটু বেশিই পিছিয়ে। ATOM-এ থাকছে 7.5W চার্জার থাকছে, অন্যদিকে Vision 2-তে 5W। যেহেতু বেশ বড় ব্যাটারী, যথাক্রমে সাড়ে তিন ও সাড়ে চার ঘন্টার মত লাগতে পারে ডিভাইসদুটো শূন্য থেকে পুরো চার্জ করতে।

সিম্ফনি এটমে লাইট, প্রক্সিমিটি ও গ্রাভিটি সেন্সর থাকছে, যেমনটা এই বাজেটে স্বাভাবিক। আইটেল তাদের স্মার্টফোনের খুঁটিনাটি তথ্যগুলো অফিসিয়ালি প্রোভাইড করে না, তাই এখানে কী কী সেন্সর আছে নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না, তবে এরকম সেন্সরগুলোই থাকার কথা।

দুটো স্মার্টফোনেই Android 10-এর গো এডিশন ব্যবহার করা হয়েছে। সিম্ফনি এর আগে এরকম ডিভাইসগুলোতে রেগুলার এডিশন দিয়ে থাকতো, আইটেল Vision 1-এ Android 9 এর রেগুলার এডিশন ছিলো, তবে গো ভার্সনে মুভ করাটা আমার মনে হয় ঠিকই আছে।

রেগুলার অ্যান্ড্রয়েড থেকে গো এডিশন লাইটওয়েট ও এখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে র‌িসোর্স কম ব্যবহার করা হয়। সহজভাবে, এটা লো কনফিগারেশন হার্ডওয়্যারের জন্য বিশেষায়িত। তাই লো কনফিগারেশনে বেটার পারফর্মেন্স পেতে সহায়ক গো এডিশন। এখানে ডার্ক মোড সুবিধা থাকছে।

এর সাথে যদি ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও এরকম বিভিন্ন অ্যাপের লাইট ভার্সন ব্যবহার করা হয়, তাহলে ২ জিবি র‌্যাম বা এন্ট্রি লেভেল চিপসেট নিয়েও বেশ স্মূথ পারফর্মেন্স পাওয়া যেতে পারে। এরকম স্মার্টফোনগুলো কিন্তু খুব বেশি চাপ নেয়ার উপযুক্ত না, এটা মাথায় রাখা ভালো।

দুটো স্মার্টফোনই ফোরজি ও ওটিজি সমর্থিত। থাকছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও ফেস আনলক। ভিশন ২ বটম ফায়ারিং স্পিকার দিলেও এখানে সিম্ফনি এটম রেয়ার মাউন্টেড দিয়েছে, ফলে ফ্ল্যাট সার্ফেসে রাখলে সাউন্ড কিছুটা ব্লক হতে পারে।

সবশেষে, দুটো স্মার্টফোনের দামের পার্থক্য অনেকটা থাকলেও কম্পারিজনে কিন্তু তার প্রকাশ তেমন ঘটেনি। অবশ্যই পাঞ্চহোল ডিসপ্লে ভিশন ২ এর একটি আকর্ষণীয় দিক হলেও বাকি দিকগুলোতে এটি এর দামের মর্যাদা আমার মতে রাখতে পারেনি। ভিশন ১ এর সাফল্যের পর ভিশন ২ থেকে হয়ত আরেকটু বেশি এক্সপেক্টেশন হয়ত অস্বাভাবিক ছিলো না।

আপনার মতে কোন ডিভাইসটি বেটার ডিল? আপনার বাজেট যদি ৯০০০ টাকা হয়, আপনি কি ভিশন ২ কিনতে পছন্দ করবেন নাকি কিছু টাকা বাঁচিয়ে সিম্ফনি এটম নিতে চাইবেন অথবা তৃতীয় কোন স্মার্টফোন দেখবেন? জানিয়ে দিন কমেন্ট সেকশনে।

আরো দেখুন

সিম্ফনি এটম: গুগল ক্যামেরা গো এবং আরো দারুণ ফিচার

Itel Vision 2 কিনতে চাইলে এই লেখাটি অবশ্যই দেখুন…

2 Comments

  1. symphony atom naki z18 konta best hobe?

    • এটা আপনার চাহিদা ও পছন্দের ওপর ডিপেন্ড করে। আমার পছন্দ ATOM।

Leave a Reply