গত কিছুদিন বেশ ব্যস্ত ছিলাম অন্য কিছু কাজে, তাই নিয়নবাতিতে সময় দেয়া হয়ে উঠছিলো না। Walton Primo RM4 নিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম কয়েকদিন আগেই, কিন্তু শেষ করা হয়নি। তাই একটু দেরিতেই পোস্ট করছি।

১০৬০০ টাকায় আনা হয়েছে এই Walton Primo RM4, এই দামের মধ্যে বেশ সুন্দর কিছু ফিচার আছে এখানে। লেখাটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত দামটা প্রি-অর্ডারে মাত্র ৯৬০০ টাকা, তাছাড়া এমনি সময়েও ওয়ালটনের ওয়েবসাইট থেকে অর্ডারে কিছু ডিসকাউন্ট সাধারণত থাকে, যাতে ১০০০০ এর আশেপাশেই ফোনটি পেয়ে যাওয়ার কথা।

যাইহোক, আমরা দাম ১০৬০০ ধরে নিয়েই ফোনটিকে বিচার করছি এবং ফোনটি নিয়ে কথা বলার সময় এটা মনে রাখতে হবে যে realme C3, Infinix Hot 9 Play, Walton RX7 Mini তিনটিই মোটামুটি মার্কেট আউট, কাজেই ফোনটির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আমার মতে realme C12 ও Tecno Spark 6 Air।

ডিসপ্লে, ব্যাটারী, র‌্যাম-রমসহ কয়েকটি সেকশন বেশ আকর্ষণীয় Walton Primo RM4। তবে অভিযোগেরও বেশ কিছু জায়গা থাকছে, যেমন চিপসেট নিয়ে অনেকের অভিযোগ থাকতে পারে, তবে আমার অবশ্য চিপসেটের বাইরেও কয়েকটি ব্যাপার নিয়ে কিছু বলার আছে।

Walton Primo RM4-এর ডিজাইনের কথা বললে অসাধারণ কিছু মনে হয়নি, আবার খারাপও না। ক্যামেরা মডিউলটি বেশ লম্বা হয়ে গেছে আমার মতে, যেটা খুব একটা ভালো দেখাচ্ছে না। তিনটি কালারে এসেছে, ডার্ক ব্লু, নাইট গ্রিন, ব্লাক। কোন গ্র্যাডিয়েন্ট নেই, তবে ক্যামেরার দিকে একটা শাইনিং ইফেক্ট আছে, যেটা ভালোই দেখায়।

সামনের দিকে ডিসপ্লেটি 6.5″ HD+ (1600*720), যেটা এখন বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। কোন গরিলা গ্লাস প্রটেকশন নেই, জাস্ট 2.5D গ্লাস। বেজেল এরিয়া, বিশেষ করে টপ বেজেল একটু বেশিই বলব, অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এর ডাইমেনশন 167mm*76.8mm।

ক্যামেরা সেকশনে রেয়ারে ভার্টিকাল অ্যালাইনমেন্টে থাকছে তিনটি ক্যামেরা। ক্যামেরা সেটআপ Primo H9 Pro-এর অনুরূপ। মেইন ক্যামেরাটি 13MP Sony Sensor, যদিও সুনির্দিষ্টভাবে তারা জানায়নি এটা সনির কোন সেন্সর, যাইহোক, এর অ্যাপার্চার f/2.0 এবং অটোফোকাস (PDAF) সমর্থিত। তবে স্লো-মোশন রেকর্ডিং সুবিধা সম্ভবত থাকছে না।

এর সাথে তারা একটি 5MP ওয়াইড অ্যাঙ্গেল লেন্স দিয়েছে, যা 2MP ম্যাক্রো কিংবা AI লেন্স থেকে অবশ্যই ভালো অপশন বলব। তবে খারাপ ব্যাপার হলো এবারও ডেপথ সেন্সরটি HM5, H9 Pro ও GH9-এর মতই 0.3MP, এবং পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি এটি জাস্ট শো, এজ একদমই ডিটেক্ট করতে পারে না ওয়ালটনের এই ডেপথ সেন্সর। সামনে তারা দিয়েছে 8MP সেলফি ক্যামেরা, যার অ্যাপার্চার f/2.2।

এখানে দেওয়া হয়েছে 4GB 64GB ইন্টারনাল স্টোরেজ, যা এই দামে বেশ ভালো। তবে চিপসেটে খুব একটা ভালো নয় Walton Primo RM4, কেননা এখানে থাকছে Helio A25, যার অক্টাকোর প্রসেসরে ৪টি 1.8GHz ও ৪টি 1.5GHz ARM Cortex A53 কোর রয়েছে এবং সাথে PowerVR GE8320@600MHz GPU।

এই দামে আরেকটু বেটার চিপসেট থাকলে ভালো হত, তবে মার্কেটের দিকে তাকালে এটা ডিলব্রেকারও না। realme C12 G35 দিচ্ছে, বাকি কেউ A25 থেকে বিশেষ বেশি দিচ্ছে বলে আমার জানা নেই। এখন 3/32+G35 থেকে আমার মতে 4/64+A25 বেটার চয়েস, কেননা G35 যদিও পারফর্মেন্স ও বেঞ্চমার্কে অনেকটা এগিয়ে, তবে দিনশেষে দুটোর পার্থক্য কিন্তু মূলত শুধু ক্লকস্পিডের।

ফোনটির প্রধান আকর্ষণগুলোর একটি হলো এর 5950 mAh এর হিউজ ব্যাটারী, কিন্তু মুশকিল হলো তারা ব্যাটারী সাইজ বাড়াতে গিয়ে ফোনটাকে বড্ড মোটাসোটা করে ফেলেছে। 10.1″ থিকনেস, আর সাথে 214g ওজন নিয়ে কোনভাবেই এটা কোন কমফোর্টেবল ডিভাইস না। অন্য যেসব ফোনে 6000 mAh ব্যাটারী দেখেছি, তার থিকনেস 9.3mm-9.8mm পর্যন্ত চোখে পড়েছে, এমনকি 7000 mAh ব্যাটারী নিয়েও Samsung Galaxy M51 এর থিকনেস 9.5mm।

এখানে কোন ফাস্ট চার্জিং নেই, এই বাজেটে আশাও করা যায় না, তাই ৩.৫-৪ ঘন্টা লেগে যেতে পারে এই হিউজ ব্যাটারীকে শূন্য থেকে পূর্ণ করতে। অবশ্য একবার পূর্ণ করে নিলে ২-২.৫ দিন সহজেই পার হয়ে যাওয়ার কথা এর হিউজ ব্যাটারী, HD+ ডিসপ্লে ও পাওয়ার সেভিং চিপসেটের সমন্বয়ে।

এখানে লাইট সেন্সর, একসেলারেশন সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর আর অরিয়েন্টেশন সেন্সর থাকছে। অরিয়েন্টেশন সেন্সরের কাজ সম্পর্কে আমি অনিশ্চিত, কারো জানা থাকলে প্লিজ কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। ম্যাগনেটোমিটার (কম্পাস) ও জাইরো সেন্সর এখানে অনুপস্থিত।

সবশেষে বলব, বর্তমান মার্কেটে যে অপশনগুলো আছে, সে হিসেবে এটা ভালোই। তবে উন্নতির বেশ কিছু জায়গা ছিলো। ডিজাইন আরো এট্রাক্টিভ চিপসেট হালকা বেটার, থিকনেস ও ওজন আরেকটু কম, ক্যামেরাতে কিছুটা ইম্প্রুুভমেন্ট, কম্পাস ও ভার্চুয়াল জাইরো সেন্সর প্রভৃতি দিকগুলোতে ইম্প্রুভমেন্টের সুযোগ ছিলো।

ফোন কেনার সময়, বিশেষ করে বাজেট লেভেলে র‍্যাম-রম-চিপসেট-ক্যামেরা-ব্যাটারী দেখেই সাধারণত ফোনকে বিচার করা হয়। তবে ছোটখাট ব্যাপারগুলোও কিন্তু কখনো কখনো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই ফোনটি নিতে হলে আপনি কেমন ইউজার এবং আপনার জন্য ছোটখাট ড্রব্যাকগুলো কতটা ইফেক্ট ফেলে সেটা একটু বিবেচনায় রাখার পরামর্শ থাকবে।

তথ্য ও ছবি সোর্স

নিয়নবাতি স্কোর

  • ডিজাইন: ৩.৫/৮
  • বিল্ড: ৪.৫/১০
  • ডিসপ্লে: ৬/১২
  • ক্যামেরা: ৭.৫/১৫
  • ব্যাটারী ও চার্জিং: ৭/১০
  • চিপসেট ও র‍্যাম: ১৮/২৮
  • স্টোরেজ: ৪.৫/৭
  • সেন্সর ও অন্যান্য: ৪/১০

মোট স্কোর: ৫৫/১০০

2 Comments

Leave a Reply