আসসালামু আলাইকুম। আমি যখন প্রথমদিকে, অর্থাৎ অষ্টম বা নবম শ্রেণিতে রসায়ন আর পদার্থবিজ্ঞানের ব্যাপারগুলোর সাথে প্রাথমিকভাবে পরিচিত হই, তখন আমার জন্য একটু কনফিউজিং ছিলো, এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটা আসলে কোথায়। আর আমার বিশ্বাস এটা আরো অনেকের বেলাতেই হয়েছে। এটা নিয়ে একটা সহজ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করি।

আসলে বিজ্ঞানের মোটামুটি সব শাখার মধ্যেই কমবেশি সম্পর্ক আছে। বিজ্ঞানকে আমরা প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করি, যেমন প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান ও সাধারণ বিজ্ঞান। রসায়ন আর পদার্থবিজ্ঞানের বেলায় দেখা যায়, দুটোই আসলে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যেই পড়ে আর আসলে দুটোতেই আমাদের আলোচনা কিন্তু একই জিনিস নিয়ে, পদার্থ।

কিন্তু পদার্থের মধ্যেই বিষয়বস্তুতে ভিন্নতা আছে পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়নে। পদার্থবিজ্ঞানের সংজ্ঞা এভাবে দেয়া যায়, বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থ ও শক্তি এবং এদের অন্তঃক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেটা পদার্থবিজ্ঞান। আর রসায়ন হলো বিজ্ঞানের যে শাখায় আমরা পদার্থের গঠন, ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করি।

আমরা যদি আলোচ্য বিষয়গুলো দেখি, পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো পদার্থের আচরণ, গতি, বল, শক্তি এবং বল ও শক্তির সাথে পদার্থের অন্তঃক্রিয়া। পদার্থের আচরণের মধ্যে আছে আয়তন, বল প্রয়োগে বাঁধাদানের ক্ষমতা, আকর্ষণ (মহাকর্ষ), স্থিতিস্থাপকতা, সান্দ্রতা, প্লবতা প্রভৃতি। আবার রসায়নের মধ্যে পদার্থের উপাদান, কাঠামো, ধর্ম (ধাতব ধর্ম, অম্লত্ব, পারমাণবিক ব্যাসার্ধ, তড়িৎ ঋণাত্মকতা প্রভৃতি), পারস্পরিক ক্রিয়া বিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অর্থাৎ, যদিও দুটোতেই পদার্থের আলোচনা হচ্ছে, তবে পদার্থেরই ভিন্ন ভিন্ন বিষয়বস্তুর আলোচনা হয় এই বিষয়দুটোতে। হ্যা, অবশ্যই মিলও অনেক আছে, কিছু কিছু ব্যাপার পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়ন দুটো বিষয়েই চলে আসে, আবার এদের পরস্পর নির্ভরশীলতাও আছে, তবে পার্থক্যও পরিষ্কারভাবে বিদ্যমান। আমার মত করে বললে, পদার্থের বাহ্যিক গুণগুলো পদার্থবিজ্ঞানে, আর একটু গভীরে, মানে কিনা অণু-পরমাণু-আয়নের জগত রসায়নে চর্চা করা হয়।

একটা উদাহরণ দিই, একটা বাস চলছে। পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আমি হয়ত দেখবো বাসটার ভর, গতি, প্রযুক্ত বল, বাঁধাদানকারী বলের প্রভাব, শক্তির পরিবর্তন তথা তাপ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তির উৎপাদন, ইঞ্জিনের কর্মদক্ষতা প্রভৃতি। আবার রসায়নের বেলায় দেখা হবে বাসটা কী দিয়ে তৈরি, উপাদানে অণু-পরমাণুগুলোর কাঠামো, দহন বিক্রিয়াতে তাপশক্তি উৎপাদন প্রভৃতি।

উদ্দেশ্যের দিক থেকেও পদার্থবিজ্ঞান আর রসায়নের মিল আর পার্থক্য দেখা যায়। মানুষ স্বভাবকৌতুহলী, প্রকৃতির ঘটনাগুলো মানুষকে কৌতুহলী করে। প্রকৃতির রহস্যগুলোর অনুসন্ধান আর নিয়মগুলো জানা পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম উদ্দেশ্য। রসায়নে আরেকটু গভীরে গিয়ে মৌলগুলোর ধর্ম ও বৈশিষ্ট্যগুলো উদঘাটনের চেষ্টা করা হয়। এই অর্জিত জ্ঞানগুলো যে শুধু আমাদের কৌতুহলের নিবারণ করে, তা কিন্তু নয়, বরং এই জ্ঞানগুলোর প্রয়োগে প্রযুক্তির বিকাশ রসায়ন আর পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ একটি উদ্দেশ্য।

3 Comments

Leave a Reply