আপডেট: এই পোস্টটি ১০,৪৯০ টাকা দাম হিসেবে লেখা হয়েছে। বর্তমানে কিন্তু এর দাম ৯,৯৯০ টাকা। আমার মতে এই দাম Symphony Z35-এর জন্য একটি চমৎকার প্রাইসিং এবং নতুন দামে বর্তমান মার্কেটে এই বাজেটে এটি অন্যতম সেরা একটি অপশন।

Symphony Z35, ফোনটার অনেক কিছু ভালোই ছিলো, কিন্তু Z40-র মতই আরো একবার ৩/৩২ তারা আনলো ১০,৪৯০ টাকায়, যে দামে Z40-ও পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য Z40-র সাথে Z35-এর তফাৎ বেশ ভালোই আছে এবং Z35 মূলত তাদের টার্গেট করে বানানো যাদের বেশ হিউজ ডিসপ্লে ও বিশাল পরিমাণ ব্যাটারী ব্যাকআপ দরকার, অন্যদিকে Z40 ছিলো বেশ ব্যালেন্সড একটি ডিভাইস। আরেকটা ব্যাপার, Z35 আর Z40 দুটোরই 4/64 ভ্যারিয়েন্ট আসার কথা (গীকবেঞ্চ অনুযায়ী), বাট এখনো Z40-র 4/64-ই আসলো না, Z35 কবে আসে আল্লাহ মালুম।

ডিজাইন দিয়ে যদি শুরু করি, সিম্ফনিতে এধরণের ডিজাইন একদমই নতুন। Symphony Z35-এ মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইন করা হয়েছে, মানে ফোনটি বিভিন্ন কোণ থেকে দেখলে মনে হবে ব্যাকপার্টের প্যাটার্ন মুভ করছে। অবশ্য সিম্ফনিতে নতুন হলেও ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের বেশ কিছু স্মার্টফোনে আমরা এধরণের ডিজাইন দেখেছি, এই ফোনের সরাসরি কম্পিটিটর, Infinix Hot 10 Play-ও একই ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজসহ এসেছে। তো এই ডিজাইনটা বেশ সুন্দর অবশ্যই, একটা এন্ট্রি বাজেট স্মার্টফোন হিসেবে কিছুটা প্রিমিয়াম ধরণের একটা লুক বলা যায়।

এরপর ডিসপ্লেতে আসলে, Z40-র মত এবার কিন্তু আর পাঞ্চহোল নেই, বরং আছে একটি V-শেপ নচ। তবে এবারের ডিসপ্লে আরো বড়, 6.82″। আর এই ডিসপ্লের রেজ্যুলেশন 720*1640, মানে কিনা 20.5:9 অ্যাসপেক্ট রেশিও। অবশ্যই এটা অনেকের জন্যই বেশিই বড় হতে পারে, বিশেষ করে বহনযোগ্যতার কথা চিন্তা করলে। কিন্তু, আমরা জানি এখন অনলাইন ক্লাস করা ও নেয়া, ইউটিউবে ভিডিও দেখা এরকম ব্যাপারগুলোর জন্য অনেকেই বড় ডিসপ্লে প্রিফার করেন, তাদের জন্য ঠিক আছে।

চিন ও বেজেলের কথা বললে একদম মিনিমাল বলা যায় না, তবে এই বাজেটে খুব সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ না করাই ঠিক হবে। আর HD+ রেজ্যুলেশন-ই এই বাজেটে থাকে, খুব স্বাভাবিক। ফোনটির ডাইমেনশন হলো 173.8 mm* 78.6 mm*9.45 mm। 9.45 mm থিকনেস এর ব্যাটারী সাইজ অনুযায়ী ঠিক আছে, অবশ্যই এটা স্লিম কোন ডিভাইস না, কিন্তু ব্যাটারী সাইজ হিসেবে বেশি বলা যাচ্ছে না। ওজনও ব্যাটারী অনুপাতে 208g ঠিকঠাক।

তো, বড় ডিসপ্লের ফোন আনাটা খারাপ না, কনজ্যুমারদের একটা অংশ বড় ডিসপ্লে চায়, কিন্তু মার্কেটটা কেমন যেন একঘেয়ে হয়ে গেছে আজকাল বলে আমার মনে হয়। আই মিন, ১০ হাজার টাকার আশেপাশের মার্কেট চিন্তা করলে বড় ডিসপ্লের ফোন আনা হচ্ছে, কিন্তু ট্যাব আনতেই চাচ্ছে না কোম্পানিগুলো। আবার 6.5″-র চেয়ে ছোট ডিসপ্লের ফোন পাওয়াও দুষ্কর। তো মার্কেটে আরেকটু বৈচিত্র থাকা উচিৎ বলে আমার মনে হয়, কারণ সবার চাহিদা তো এক না!

এক্সটেরিয়রে রেগুলার সব পোর্টস এন্ড বাটনসের সাথে একটা এক্সট্রা বাটন রয়েছে, যেটা সিম্ফনি Z সিরিজের সিগনেচার হয়ে উঠছে, আমি বলছি গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বাটনের কথা। এবার বাটনটি পাওয়ার ও ভলিউম বাটনের সাথে একই দিকে, মানে ডান সাইডে দেয়া হয়েছে, যদিও আগের কয়েকটি মডেলে বাম দিকে এই বাটনটি ছিলো।

সিম্ফনি এখন আগের থেকে কিছুটা বেটার চিপসেটসহ তাদের ফোনগুলো আনছে। Z35 যেহেতু ওভাবে পারফর্মেন্সসেন্ট্রিক ডিভাইস নয়, তাই এই দামে Helio G35 দেয়াটা ভালো ব্যাপার। অবশ্য এখন এটা এরকম রেঞ্জে একটা জাতীয় চিপসেট হয়ে উঠছে। যাইহোক, Helio G35-কে খুব বেশি পাওয়ারফুল ভাবলে সেটাও ঠিক হবে না, কেননা এর সবগুলো কোর ARM Cortex A53, কোন হাই পারফর্মেন্স A70 সিরিজ ইভেন A55 কোরও নেই, বা জিপিইউ-ও আহামরি নয়। তবে দাম হিসেবে এটা বেশ ভালোই।

বড় ডিসপ্লের ফোনগুলোতে সাধারণত আমরা বড় ব্যাটারীর উপস্থিতি দেখি। Z35-ও ব্যতিক্রম নয়, ম্যাসিভ 6000mAh ব্যাটারী তারা দিয়েছে। বাজেট লেভেলে বড় ব্যাটারী আজকাল সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠলেও এখন পর্যন্ত Type C আর ফাস্ট চার্জিং কিন্তু দুর্লভ ব্যাপার। তাই বড় ব্যাটারীকে চার্জ আপ করতেও দরকার হয় অনেক বেশি সময়।

কিন্তু ঠিক এইখানে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে সিম্ফনি। কেননা তারা এবার Type C পোর্ট তো দিয়েছেই, যেটা Z40-তেও ছিলো, এর সাথে দিয়ে 15W (5V/3A) ফাস্ট চার্জিং, যেটা অবশ্যই এপ্রিশিয়েট করতে হয়। ৩ ঘন্টার আশেপাশে সময় দরকার হতে পারে এর ব্যাটারীকে পূর্ণ চার্জ করতে এবং একবার চার্জ করলে দিনদুয়েক চলে যাওয়ারই কথা সাধারণভাবে।

আর কোথায় চমক আছে জানেন? সফটওয়্যার হিসেবে এবার থাকছে দি লেটেস্ট Android 11, যেটা এই রেঞ্জে কিন্তু প্রায় দেখাই যায় না। আমি জানি, অনেকেরই অভিযোগ থাকে সিম্ফনি কাস্টম ইউআই ব্যবহার করে না কেন, তবে পার্সোনালি বললে আমি বাজেট রেঞ্জে স্টক ইউআই প্রিফার করি, যেহেতু কাস্টম ইউআই প্রায়সই একটু ভারি হয়ে থাকে এন্ট্রি লেভেল ফোনগুলোর জন্য, কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাগ, এডসও থাকে, আর সেদিক থেকে Z35 লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েডের স্টক ইউআই প্রোভাইড করছে এটা চমৎকার ব্যাপার।

আমার মনে হয় Z35 এই দুটো জায়গায়, অর্থাৎ চার্জিং ও সফটওয়্যার সেকশনেই সবচেয়ে বড় চমক এনেছে, যেটা অনেকের জন্য র‌্যাম-রমের দিকটি কম্প্রোমাইজ করে এই ফোনটি নেয়ার কারণ হতে পারে।

কিন্তু Z40-র সাথে কম্পেয়ার করলে, ক্যামেরা সেকশনে বেশ কমতি থাকছে Symphony Z35-এ। Z30, Z30 Pro, Z40-তে আমরা 5MP আল্ট্রাওয়াইড সেন্সর দেখেছিলাম, এবার আর সেটি থাকছে না। এখানে দাম অপরিবর্তিত রেখে Z40-র থেকে বড় ডিসপ্লে, ব্যাটারী, ফাস্ট চার্জিং দেয়ার পর ক্যামেরা সেকশনে একটু কম দেয়াটা ওকে, কিন্তু যেটা ভালো লাগেনি, ত্রিপল ক্যামেরা বানানোর জন্য তারা এবার AI লেন্স যুক্ত করে দিয়েছে। অবশ্য কোম্পানিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, এই লেন্স না থাকলে অনেকে হয়ত ভাবতো, এত দাম দিয়ে দুই ক্যামেরার ফোন কিনলে কেমন দেখায়..

যাই হোক, বাকি ক্যামেরাগুলো Z30-র অনুরূপ বলে আমার অনুমান, এবং ক্যামেরা সফটওয়্যারও Z30-র টিই থাকছে। Z40-তে  সফটওয়্যারে ভিন্নতা ছিলো, সেলফি ক্যামেরাতে পোট্রেট মোডে ছবি তোলা যেত, তবে Z35-এ যাবে না, যেমনটা যেত না Z30-তে। অবশ্য একদমই তুলতে পারবেন না এমন নয়, সেক্ষেত্রে থার্ড পার্টি কোন ক্যামেরা সফটওয়্যার দরকার হবে, যেমন ব্যবহার করতে পারেন Google Camera Go। এখানে প্রাইমারী ক্যামেরাটি 13MP f/2.0 সাথে ডেপথ সেন্সর আছে 2MP। সেলফি ক্যামেরাটি 8MP।

বাই দা ওয়ে, এর ক্যামেরাকে খারাপ মনে করার কিন্তু কারণ নেই, আশা করি বেশ  এই দামে আল্ট্রাওয়াইড অন্য ব্র্যান্ডগুলো খুব কম ফোনেই দেখা গেছে, AI লেন্স অহরহ দেখা যায়। কিন্তু সিম্ফনির ক্ষেত্রে, তারা Z16, Z28, Z30, Z30 Pro, Z40 সবগুলোতে আল্ট্রাওয়াইড দিয়ে এসে এখানে বাদ দেয়াটাই দৃষ্টিকটু।

সেন্সর সেকশনে এবার জাইরো সেন্সর নেই, যেটা Z40-তে ছিলো। ব্যাড মুভ ফ্রম সিম্ফনি। যদি এই টাইপের খুঁটিনাটি ব্যাপারগুলোতে নজর রাখা হয়, দাম একটু বেশি হওয়া মেনে নেয়া যায়। Z40 ওভারঅল যতটা কমপ্লিট প্যাকেজ ছিলো, Z35-কে আমি তেমনটা বলতে পারছি না।

তো সবশেষে, ফোনটা নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া কিছুটা মিশ্র বলা যায়। 6000 mAh ব্যাটারীর ফোন এই দামে আরো থাকলেও ফাস্ট চার্জিং ফিচার কোনটিতেই নেই, টাইপ সি এর দেখা পাওয়া দুর্লভ, যা কিনা থাকছে Z35-এ। আবার লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১১-র অনেকটা পিওর এক্সপেরিয়েন্স পেতে Z35 এই দামে সম্ভবত একমাত্র অপশন। কাজেই বড় ডিসপ্লে, বড় ব্যাটারীর সাথে দ্রুত চার্জিং, মোটামুটি স্টক অ্যান্ড্রয়েড ১১-র জন্য বেছে নিতে পারেন Symphony Z35।

কিন্তু দামটা যদি যদি ৫০০ টাকা কম হত, বা স্টোরেজ ৩/৬৪ হত তাহলে ব্যাপারটা বেশ জমত, হতে পারতো একটি এন্ট্রি লেভেল কিলার। কিংবা যদি আল্ট্রাওয়াইড আর জাইরো সেন্সর ইনক্লুডেড থাকতো, সেক্ষেত্রেও দাম বা ৩/৩২ নিয়ে নিয়ে এতটা কমপ্লেইন করতাম না… বাই দা ওয়ে, তারা একটি ফ্রি টিশার্ট দিচ্ছে সাথে 😁

অফিসিয়াল ওয়েবপেজ

Leave a Reply