ওয়ালটন একটা ব্র্যান্ড, যারা ১৫,৫৯০টাকার ফোনে দেয় Helio P22, ১২,৪৯৯ হাজার টাকার ফোনে Helio G25 এবং ১০,৬৯৯ টাকার ফোনে Helio G35 দেয়। যাই হোক, নতুন একটি এন্ট্রি লেভেল ওয়ালটন স্মার্টফোন Walton Primo R8 এবং ওয়ালটনের সাম্প্রতিক ফোনগুলো থেকে এটা আমার বেশ কম্পিটিটিভ মনে হয়েছে।

অল্প সময়ের মধ্যে ওয়ালটন বেশ অনেকগুলো স্মার্টফোনই রিলিজ করেছে। এর মধ্যে ইভ্যালি সাইক্লোনে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ZX4-ও দেখা গিয়েছিলো। তাছাড়া NF5, N5, RX8, HM6, F10 রিলিজেরও বেশিদিন হয়নি। এবং এই স্মার্টফোনগুলোর দাম আমার কাছে খানিকটা বেশিই মনে হয়েছিলো, বিশেষ করে RX8 আর NF5 এর বেলায় দাম হিসেবে স্পেকে যথেষ্ট কমতি ছিলো আমার মতে।

সে হিসেবে Walton Primo R8 কিন্তু বেশ প্রমিজিং একটি স্মার্টফোন মনে হয়েছে, হয়ত এটাকে আমি এককভাবে বাজেট বেস্ট বলবো না, কেননা উন্নতির কিছু জায়গা অবশ্যই ছিলো, তবে Helio G35, 4/64 নিয়ে ভালো অপশনগুলোর মধ্যে একটি বলতেই পারি।

ডিজাইন এবং স্পেকের দিকে দেখলে একটা ফোনের খুব বেশি মিল পাওয়া যায় Walton Primo R8-এর সাথে, Micromax In 1B-র কথা বলছি। আমার তো মনে হচ্ছে In 1B-র একটা বাংলাদেশি সংস্করণ হলো Walton Primo R8, তফাৎ নেই তা নয়, তবে তা খুঁজে পাওয়া একটু মুশকিল-ই।

গ্র্যাডিয়েন্ট ধরণের ডিজাইনে আয়তাকার ক্যামেরা মডিউল পর্যন্ত একটা ভার্টিকাল শেড থাকছে। এখানে ম্যাট ফিনিশ দেয়ায় আঙুলের ছাপ নিয়ে চিন্তা নেই। রেয়ার মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর উপস্থিত, আর দুঃখজনকভাবে, তার সাথে আছে রেয়ার মাউন্টেড স্পিকার, তাই ফ্ল্যাট সার্ফেসে, যেমন বিছানায় রাখলে সাউন্ড অনেক সময় কিছুটা ব্লক হতে পারে।

ডিসপ্লেতে আছে 6.5″ IPS প্যানেল, রেজ্যুলেশন HD+ (720×1600), একদমই কমন ধরণের ডিসপ্লে এই রেঞ্জে। স্মার্টফোনটির এক্সটেরিয়র ডাইমেনশন হলো 164.5 mm x 75.8 mm x 8.9 mm। 5000 mAh ব্যাটারী রয়েছে, সে অনুযায়ী 8.9 mm থিকনেস আর ওজন 192g, যা ঠিকঠাক আছে। এর ব্যাটারী সাধারণ ইউসেজে প্রায় ২ দিন ব্যাকআপ দিতে পারে। তবে থাকছে না কোন ফাস্ট চার্জিং। রেগুলার বাটনস এন্ড পোর্টসের সাথে একটা গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট বাটনও আছে।

Helio G35 ইতোমধ্যেই এই রেঞ্জের জাতীয় চিপসেট হয়ে উঠেছে, রিয়েলমি, শাওমি, ইনফিনিক্স, সিম্ফনির পর ওয়ালটনও এবার G35 সহ ফোন আনলো ১১ হাজার টাকার নিচে। Helio G35 যদিও G সিরিজ থেকে এসেছে, এটা নিশ্চিতভাবেই এন্ট্রি লেভেল চিপসেটগুলোর একটি, তবে এই দামের মধ্যে বেশ ভালো। এর সাথে 4GB র‌্যাম আর 64GB রমের উপস্থিতি একে প্রতিপক্ষ কিছু ফোন থেকে বিশেষ এডভান্টেজ দিয়েছে। কাজেই দাম অনুযায়ী পারফর্মেন্স ও মাল্টিটাস্কিংয়ে ভালোর কাতারে Walton Primo R8-কে রাখাই যায়।

Walton Primo R8-এ দুটো রেয়ার ক্যামেরা থাকছে। এই বাজেটে ত্রিপল ক্যামেরা এখন বেশ কমন, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসলে মেইন ক্যামেরা বাদে বাকিগুলো কাজে আসে না। তাই দুটো ক্যামেরা নিয়ে কোন আপত্তি নেই, বরং তৃতীয় অপ্রয়োজনীয় কোন ক্যামেরা দেয়া থেকে ভালো, তবে অবশ্যই আল্ট্রাওয়াইড লেন্স দিলে ভিন্ন ব্যাপার, যেটা অল্প কিছু ফোন দিচ্ছে।

যাই হোক, প্রাইমারী ক্যামেরাটি হলো 13MP এবং অ্যাপার্চার f/1.8, যেটা লো লাইটে কম্পারেটিভলি বেটার রেজাল্ট দেয়ার কথা। এর সাথে একটি 2MP ডেপথ সেন্সর আছে। সেলফি নেয়ার জন্য 8MP f/2.2 ক্যামেরা থাকছে।

এর ক্যামেরাতে বেশ অনেকগুলো চমৎকার ফিচার আছে। রেয়ার ও সেলফি উভয় ক্যামেরাতে পোট্রেট মোড থাকছে। রেয়ার ক্যামেরাতে স্লো-মো রেকর্ড করা যায়। তবে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে উভয় ক্যামেরাতে Auto Exposure ও Auto Focus লক ফিচারটি।

সেন্সরের কথা বললে জাস্ট বেসিক সেন্সরগুলো আছে, মানে কিনা, এক্সেলেরোমিটার, লাইট ও প্রক্সিমিটি সেন্সর। ১০ হাজার টাকা+ বাজেটের ফোনে এখানে আরো বেটার কিছু অফার করা উচিৎ বলে মনে করি, হার্ডওয়্যার জাইরো না থাকলেও কম্পাস সেন্সরের সাথে ভার্চুয়াল জাইরো অন্তত দিলে ভালো হত।

১০-১১ হাজার টাকার আশপাশে বেশ কিছু চমৎকার ডিভাইস বর্তমানে মার্কেটে আছে, তার মধ্যে Symphony Z35, Z40, Z30 Pro, Infinix Hot 10 Play, realme C12, C21 (3/32) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। কাজেই মার্কেট এখানে যে খুবই কম্পিটিটিভ, তা বলাই বাহুল্য। কাজেই মার্কেটে ভালো অবস্থানে আসতে ওয়ালটনের পক্ষ থেকে ভালো কিছুই করতে হত।

উন্নতির বেশ অনেকগুলো জায়গাই এখানে ছিলো, যেমন রেয়ার মাউন্টেড স্পিকারের পরিবর্তে বটম মাউন্টেড দেয়া, আল্ট্রাওয়াইড লেন্সের সংযোজন, সেন্সর সেকশনে কম্পাস ও জাইরোর অন্তর্ভুক্তি প্রভৃতি। এই বাজেটে কেউ কেউ কিছু কিছু দিকে অবশ্যই বেটার কিছু অফার করছে। কিন্তু, বাজেট ফোন হিসেবে সবকিছু যে একসাথে পাওয়া যায় না, এটাই স্বাভাবিক।

পারফর্মেন্স ও স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট এই ফোনের মূল সেলিং পয়েন্ট। এছাড়া প্রাইমারী ক্যামেরা কাগজে-কলমে ভালোই মনে হচ্ছে, 6.5″ ডিসপ্লে অনেকে 6.8″ অপশনগুলো থেকে প্রিফার করতে পারেন। সব মিলিয়ে আমি বলছি না যে এটা এই বাজেটের বেস্ট ফোন, তবে এটা বলছি যে আমার মতে এটা ভালোগুলোর মধ্যে একটি।

Leave a Reply