vivo Y20: বাহির থেকে সুন্দর, কিন্তু ভেতর থেকে? (নিয়নবাতি স্কোর: ৪৭/১০০)

vivo Y20

vivo Y20 দেখতে খুব সুন্দর, এখানে বিশেষ দ্বিমত থাকার কথা নয়। তবে ভেতর থেকে কতটা সুন্দর সেটাও কিন্তু দেখার বিষয়। যেহেতু আমার কাছে ডিভাইসটি নেই, তাই অবশ্যই এর রিয়েল লাইফ এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করতে পারছি না। তবে এর কনফিগারেশন দামের সাথে কতটা মানানসই, আর বিশেষ করে এখানে থাকা Qualcomm Snapdragon 460 কতটা পাওয়ারফুল, তা নিয়ে ডিসকাস করব।

ভিভো সাধারণত ভ্যালু ফর মানি ডিভাইস বাজারে আনে না। তারা সুন্দর ডিজাইন, ক্যামেরা ও আনুসঙ্গিক কিছু ফিচার দিয়ে গ্রাহকদের মত জয় করার চেষ্টা করে। এই ফোনের ডিজাইন খুব চমৎকার। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সাইড মাউন্টেড হওয়ায় ব্যাকপার্ট বেশ ক্লিন দেখায়, ক্যামেরা মডিউলটিও আমার খুব সুন্দর লেগেছে। Nebula Blue ও Obsidian Black দুটি কালারে এসেছে ডিভাইসটি, যার মধ্যে Obsidian Black কালারটি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

ডিসপ্লে সেকশনে দেওয়া হয়েছে ওয়াটারড্রপ 6.51″ এর HD+ (1600*720) IPS প্যানেল। ১৫০০০ টাকায় HD+ অবশ্যই একটি ডাউনসাইড এবং এখন এরকম দামে কেউ কেউ পাঞ্চহোল বা হায়ার রিফ্রেশ রেট দিচ্ছে যার কারণে রেজ্যুলেশন আপনি হয়ত কম্প্রোমাইজ করার কথা ভাববেন, কিন্তু এই ডিভাইসে থাকছে নচ আর 60Hz রিফ্রেশ রেট। আর এর ডিসপ্লেতে কোন গরিলা গ্লাস প্রটেকশনের তথ্যও নেই।

ক্যামেরা সেকশনে কিন্তু এখানে একদমই ভালো কিছু দেখছি না। রেয়ারে ত্রিপল ক্যামেরা সেটআপে থাকছে 13MP f/2.2 প্রাইমারী সেন্সর, যেখানে স্লো-মোশন ও টাইম ল্যাপস ফিচার থাকছে। এর সাথে সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য 2MP f/2.4 করে ম্যাক্রো ও বোকেহ ক্যামেরা বা ডেপথ সেন্সর থাকছে, মানে বুঝেনই তো, এ যুগে এক ক্যামেরাওয়ালা ফোন হলে লোকে কী বলবে! সামনে নচে দেওয়া হয়েছে 8MP f/1.8 ক্যামেরা।

চিপসেট সেকশনে এখানে থাকছে Snapdragon 460, যেটা realme C17-এও ব্যবহার হয়েছে। C17 নিয়ে আমাদের পর্যালোচনা দেখে নিতে পারেন। হয়ত আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, C17 এর চিপসেট নিয়ে এত সমালোচনা অথচ প্রায় একই দামে Y20-এর চিপসেট নিয়ে প্রশ্ন উঠছে না কেন। কারণটা খুবই স্বাভাবিক, রিয়েলমি পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক ব্র্যান্ড, ভিভো একদমই সেরকম নয়।

SD460 নিয়ে C17-এর রিভিউয়ে যেমনটা বলেছিলাম, এখানে চারটি হাই-পারফর্মেন্স Cortex-A73@1.8GHz (Kryo 240 Gold) কোর থাকছে, A70 সিরিজের কোন সম্ভবত 400 সিরিজে এটাই প্রথমবার। ফলে গীকবেঞ্চে সিঙ্গেল কোরে SD450 থেকে এটা প্রায় 70% বেটার পারফর্মার। অন্য চারটি কোর হলো Cortex-A53@1.6GHz (Kyro 240 Silver)। এখানে GPU থাকছে Adreno 610, যেটা SD665-এও ব্যবহৃত হয়েছে। এর ট্রানজিস্টর সাইজ 11nm।

পারফর্মেন্সের বিচারে এটা SD665 ও SD636 এর মাঝামাঝি রাখা যায়। সাধারণ ব্যবহারে সবকিছু ভালোভাবেই চলবে আশা করছি। ১৫০০০ টাকায় এটা স্পেশাল কিছু না হলেও পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক না এমন একটি ডিভাইসের জন্য আমার মতে একদম ঠিক আছে।

মেমোরি বা স্টোরেজেও বিশেষ কিছু অফার করছে না vivo Y20। 4GB র‍্যাম ও 64GB ইন্টার্নাল স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে ডিভাইসটি। দুটি সিম স্লটের সাথে ডেডিকেটেড এসডি কার্ড স্লট থাকায় স্টোরেজ এক্সপেন্ডের সুযোগ থাকছে।

বর্তমান সময়ে স্ট্যান্ডার্ড, 5000mAh ব্যাটারী থাকছে এখানে, তবে বড় ব্যাটারী থাকলেও থাকছে না কোন ফাস্ট চার্জিং সমর্থন। 10W চার্জার দিয়ে চার্জ শূন্য থেকে পূর্ণ করতে ঘন্টা তিনেক লেগে যেতে পারে। চার্জিংয়ের জন্য থাকছে Type C পোর্ট, এছাড়া 3.5mm ইয়ারফোন জ্যাকও আছে।

তবে সেন্সর সেকশনটিতে এসে ভালো লাগলো গুরুত্বপূর্ণ সেন্সরগুলোর উপস্থিতি দেখে। Accelerometer, Ambient light, Proximity সেন্সরের সাথে E-compass ও Virtual Gyroscope সেন্সর আছে। তাই কম্পাস ব্যবহার বা 360 ডিগ্রি ছবি-ভিডিও উপভোগ করা নিয়ে সমস্যা নেই।

মূল্যায়ন

তো, আমি যেটা বুঝিনি সেটা হলো এই ডিভাইসের ফোকাস ঠিক কোথায় বা এটা ঠিক কাদেরকে সাজেস্ট করা যেতে পারে। না এটা পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক, না এটা ক্যামেরা সেন্ট্রিক, না এর ডিসপ্লে খুব ইমপ্রেসিভ, না এর বিল্ড ম্যাটেরিয়াল প্রিমিয়াম। লোয়ার মিড রেঞ্জ ফোনে একসাথে এর সবগুলো থাকবে না, তবে অন্তত একটা তো থাকা উচিৎ, যাতে সে ধরণের ইউজাররা একে পছন্দ করে।

অবশ্যই এর ভালো কিছু দিক আছে, যেমন: ডিজাইন, থিকনেস, সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, প্রয়োজনীয় সেন্সরগুলোর উপস্থিতি। সাধারণত ফোনের বিচার-বিশ্লেষণে এই পয়েন্টগুলো গুরুত্ব না পেলেও এগুলো একটি লোয়ার-মিড রেঞ্জ ডিভাইসকে ব্যালেন্সড করে। তবে এককভাবে কিন্তু এরা ডিল মেকার না। এই ডিভাইসটিতে যদি,

  • FHD+ পাঞ্চহোল ডিসপ্লে থাকতো, তাহলে একে মাল্টিমিডিয়া সেন্ট্রিক হিসেবে সাজেস্ট করা যেত অথবা
  • চিপসেট SD665 হলে পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক হিসেবে সাজেস্ট করা যেত অথবা
  • গ্লাস বিল্ড ও সামনে গরিলা গ্লাস প্রটেকশন ও ফাস্ট চার্জিং থাকতো, তাহলে প্রিমিয়াম বিল্ডের জন্য সাজেস্ট করা যেত,
  • ক্যামেরা সেটআপ আরো ভালো হত, তাহলে ক্যামেরা সেন্ট্রিক ডিভাইস হিসেবে সাজেস্ট করা যেত অথবা
  • দাম ২০০০ টাকা কম হত, সেক্ষেত্রে দাম অনুযায়ী সবকিছু ভালো আছে বলা যেত।

যেহেতু এর কোনটিই হয়নি, আপাতত Redmi 9 এর পরিবর্তে একই দামে এটা নেওয়ার কারণ দেখছি না। যদি একটু ফ্যান্সি ডিজাইন চান, সাথে পাঞ্চহোল, মিডিয়াম কোয়ালিটি স্টেরিও স্পিকার, Infinix Note 7-ও দেখতে পারেন।

নিয়নবাতি স্কোর

নিয়নবাতি স্কেল একটি ডিভাইস কতটা ভ্যালু ফর মানি তা নির্ণয়ের জন্য বিশেষায়িত। এই স্কেল অনুযায়ী ৬০ পেলে সেটি এই দামে ভালো একটি ডিভাইস, ৭০ পেলে গ্রেট ভ্যালু ফর মানি। ৫০ এর কম পেলে তা ওভারপ্রাইসড।

নিয়নবাতি স্কেলে vivo Y20 এর স্কোর:

  • ডিজাইন: ৫.৫/৮
  • বিল্ড: ৪/১০
  • ডিসপ্লে: ৪.৫/১২
  • ক্যামেরা: ৬/১৫
  • ব্যাটারী ও চার্জিং: ৪/১০
  • চিপসেট: ১০/২০
  • মেমোরি-স্টোরেজ: ৬/১৫
  • সেন্সর ও অন্যান্য: ৭/১০

মোট স্কোর: ৪৭/১০০

নিয়নবাতি স্কেল অনুযায়ী সুন্দর ডিজাইন ও অন্যান্য কিছু চমৎকার দিক থাকলেও এই দামে এটা গড়পড়তা একটি ডিভাইস থেকে পিছিয়ে থাকে। এটি একটি ওভারপ্রাইসড ডিভাইস।

5 Comments

  1. আমি একটি বিষয় জানতে চাচ্ছি। Samsung Galaxy A01 এর দাম নাকি ৩০০০ টাকা কমে ৭০০০ টাকা হয়েছে। এখন Symphony i99 নাকি Samsung a01 নেওয়া উচিৎ। কমেন্টটি পোস্ট রিলেটেড না তাও করলাম। আশা করি আপনার মতামত জানাবেন। ওহ আর একটা কথা দুটো ফোনই BTRC এর নিবন্ধনভুক্ত কি? দয়া করে জানাবেন। আপনার প্রত্যেকটা পোস্টই জাস্ট অসাম।

    • আমার জানামতে A01 এর দাম অফিসিয়ালি ১০০০০ টাকা-ই আছে। যদি ৭০০০ টাকাতে পান, তাহলে অবশ্যই A01 বেটার, বিশেষ করে স্যামসাংয়ের ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং এর SD439 চিপসেটের জন্য। তবে ১০০০০ টাকা হলে A01 আমার মতে নট এ গুড চয়েস।
      যেহেতু সিম্ফনি দেশীয় ব্র্যান্ড, তো এখানে আনঅফিসিয়াল হওয়ার সম্ভাবনা নেই, আর স্যামসাং অফিসিয়াল শোরুম থেকে নিলে ভয় থাকে না। এখানে একটি বিষয় দ্রষ্টব্য অনেক সময় বিটিআরসির ডেটাবেজ আপডেট থাকে না বলে মেসেজ করলে নিবন্ধনভুক্ত নয় বলতে পারে। সেক্ষেত্রে কয়েকদিন পরে ইন শা আল্লাহ ঠিক হয়ে যাবে।

  2. আমি গেম খেলিনা। ইন্টারনেট চালানোর জন্য কোন ফোনটি ভালো হবে? ৮০০০ টাকার ভিতরে। Samsung হলে ভালো হয়।

    • Symphony i99 (৭০০০ টাকা) অথবা Symphony Z30 (৮৩০০ টাকা) এই দুটোর মধ্যে দেখতে পারেন।

Leave a Reply