Symphony i98: মাত্র ৬৩০০ টাকায় ২ জিবি র‍্যাম ও অক্টাকোর প্রসেসর

Symphony i98-কে কিছুদিন আগেই রিলিজ হওয়া Symphony i99-এর আরো অ্যাফোর্ডেবল ভার্সন বলা চলে, যেমনটা হয়েছিলো Z30 ও Z28 এর বেলাতেও। অর্থাৎ, যাদের বাজেট একটু কম, তাদের জন্য i99 এর একটি বিকল্প হতে পারে i98। তিন জায়গায় কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে এখানে, ডিসপ্লে, ক্যামেরা ও ব্যাটারী, বাদবাকি অনেকটা i99-এর মতই।

এতদিন সিম্ফনি দামের শেষে ৯০ রেখে দিত, এবার অবশেষে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে শেষে রেখে ৯৫, এ কেমন বিচার? 😕 তো যাইহোক, ফোনটির দাম রাখা হয়েছে ৬২৯৫ বা ৬৩০০ টাকা। এই দামের মধ্য ২ জিবি র‍্যাম ও Unisoc SC9863A চিপসেট এই স্মার্টফোনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।

Symphony i98 ডিসপ্লে

এবার আর নচ ডিসপ্লে দেয়নি সিম্ফনি, তবে ডিসপ্লে সেকশনে থাকছে বেশ বড় একটি ডিসপ্লে, 5.99″-র IPS প্যানেল, জানি না এটাকে 6″ বললে কী সমস্যা ছিলো, গণিতের হিসেবে 5.99 কে 6 লেখা দোষের নয়। যাইহোক, এটি একটি HD+ ডিসপ্লে এবং এর রেজ্যুলেশন 1440*720 অর্থাৎ, অ্যাসপেক্ট রেশিও 18:9।

ফোনটিতে গ্র্যাডিয়েন্ট কালারিং থাকছে এবং তিনটি কালার ভ্যারিয়েন্টে এসেছে, Caribbean Blue, Amazon Green, Midnight blue। ক্যামেরা মডিউলে i99 থেকে বেশ পার্থক্য থাকছে, এখানে ক্যামেরা মডিউল থাকছে মাঝামাঝি। আর না, এটা ডুয়াল ক্যামেরা নয়, উপরেরটি ক্যামেরা, নিচেরটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। এই বিষয়টা ভালো লাগে যে, সিম্ফনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এরকম অল্প বাজেটের ফোনেও বাদ দেয় না যেখানে কিছু কোম্পানির ১০,০০০ টাকার ফোনেও এটি অনুপস্থিত থাকে।

তিনটি কালারে এসেছে

ক্যামেরার কথা যদি বলি, এখানে রেয়ার ক্যামেরা 8MP ও 5MP। আসলে দাম কমাতে হলে ফিচারও কিছুটা কমাতে হয়, এটা মেনে নিতে হবে, আর এই বাজেটে এরকমটাই দেখা যায়। ক্যামেরার কোয়ালিটি কেমন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারছি না, যেহেতু আমি ফোনটি ব্যবহার করিনি, তবে ভালো ব্যাপার হলো এখানে স্লো-মোশন ফিচার দেওয়া হয়েছে এবং রেয়ার ক্যামেরার পাশাপাশি সেলফি ক্যামেরাতেও সফটওয়্যার বেজড বোকেহ মোড থাকছে, যেটা i99 সহ সিম্ফনির সাম্প্রতিক কিছু ফোনে ছিলো না। দুটো ক্যামেরাতেই থাকছে AI সুবিধা।

Symphony i98-এ চিপসেট থাকছে Unisoc SC9863A, যেটা i99-এও ছিলো এবং এত অল্প দামের মধ্যে এটি খুব ভালো একটি চিপসেট। i99, Z12, Z15, Z20, Z25 ফোনগুলোতেও সিম্ফনি এই চিপসেট ব্যবহার করেছিলো, তবে তাদের তুলনায় এর দাম কিন্তু আরো কম। ৬৩০০ টাকায় এটা চমৎকার ব্যাপার।

এই চিপসেটে আছে অক্টাকোর প্রসেসর, যার সবগুলো কোর ARM Cortex-A55 এবং চারটির ক্লকস্পিড 1.6GHz এবং বাকি চারটির 1.2GHz। GPU রয়েছে IMG8322 (PowerVR GE8322)@550MHz। অধিকাংশ এন্ট্রি লেভেল চিপসেটে থাকা Cortex-A53 কোরের তুলনায় A55 18% বেটার পারফর্মার ও 15% বেশি পাওয়ার ইফিশিয়েন্ট বলে ARM থেকে বলা হয়েছে। ফলে এই ফোন থেকে এই বাজেট অনুযায়ী ভালো পারফর্মেন্স আশা করাই যায়।

তবে এই চিপসেটের একটি ডাউনসাইড হলো এর ট্রানজিস্টর সাইজ 28nm, ফলে পাওয়ার কনজাম্পশন কিছুটা বেশি। এখানে চলে আসে ব্যাটারীর কথা, 3000 mAh ব্যাটারী থাকছে i98-এ, যা নিয়ে কমপ্লেইন করতে পারছি না বাজেট বিবেচনায়। মডারেট ইউসেজে স্ক্রিন অন টাইম ৫ ঘন্টা বা কিছু বেশি পাওয়া যেতে পারে। সাধারণ ব্যবহারে এক চার্জে একদিন পার হতেও পারে, একটু ভারি ব্যবহারে হয়ত পুরো দিন পার হবে না।

খুব হেভি মাল্টিটাস্কিং না হলেও Unisoc SC9863A এর সাথে ২ জিবি DDR4 র‍্যামের কম্বিনেশন নিয়ে মোটামুটি কয়েকটি অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালাতে সমস্যা হবে না আশা করা যায়। সাথে ১৬ জিবি ইন্টার্নাল স্টোরেজ থাকছে আর এক্সপেন্ড করার সুযোগ আছে পুরো 128GB পর্যন্ত। এত অল্প দামের ফোনে DDR4 র‍্যাম দেওয়া প্রশংসনীয়।

OTG ও Dual 4G VoLTE সমর্থন এখানে থাকছে। সেন্সর সেকশনে G-Sensor, Proximity ও Light সেন্সরের মত বেসিক সেন্সরগুলো উপস্থিত। থিকনেস 8.95mm, যা এই বাজেটের ফোনের জন্য স্লিম বলা যায়। ওজনেও বেশ হালকা, 162g। তবে i98-এ সামনের ইয়ারপিসই স্পিকারের কাজ করে, আলাদা কোন স্পিকার নেই।

আর এখানে থাকছে Android 10 এর রেগুলার এডিশন, অর্থাৎ গো এডিশন নয়। বরাবরের মত সিম্ফনির অলমোস্ট স্টক ইউআই ব্যবহারের কারণে পারফর্মেন্স, র‍্যাম ম্যানেজমেন্ট আশা করা যায় ভালোই হবে। এখানে থাকছে ডার্ক থিম, জেশচার ন্যাভিগেশন, স্মার্ট কন্ট্রোল, ওয়ান হ্যান্ডেড মোড সহ ভালো কিছু ফিচার।

সব মিলিয়ে i98-কে বেশ ব্যালেন্সড একটি ডিভাইস মনে হয়েছে। ৬০০০-৬৫০০ টাকার মধ্যে এটা সহজেই সাজেস্ট করা যায়। অল্প সময় ব্যবধানে প্রায় একইরকম ফোন কিছু ফিচার কমিয়ে কেন একটু কম দামে মার্কেটে আনতে হবে এই প্রশ্ন অনেকের থাকতে পারে। তবে আমার কাছে এটা বেশ ভালো ব্যাপার মনে হয়েছে। যাদের বাজেট একটু কম, তারাও কিছু কম্প্রোমাইজ করে একই রকম পারফর্মেন্সের ডিভাইস নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, এটা আমি পজিটিভলি দেখি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লেখাটি সম্পূর্ণরূপে কনফিগারেশনভিত্তিক। হয়ত প্রকৃত অভিজ্ঞতায় পুরোপুরি না-ও মিলতে পারে। যেহেতু ফোনটি ব্যবহার আমি করিনি। তাই এ বিষয়ে আসলে কিছু করার নেই আমার। এটি প্রচলিত অর্থে রিভিউ নয়, ফোনের কনফিগারেশন নিয়ে আমার মূল্যায়ন।

ডিভাইসটির কোন দিক নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করিনি কারণ সিম্পলি এই বাজেটে এর ফিচারগুলো আমার পর্যাপ্ত মনে হয়েছে। বিশেষ করে ক্যামেরা বা ব্যাটারী যে জায়গাগুলোতে একটু কমতি আছে, সেখানে সিম্ফনি ইতোমধ্যেই অল্প বাজেট বাড়িয়ে একটি বিকল্প ডিভাইস রেখেছে। কাজেই আমার মনে হয়নি এখানে অভিযোগ করা ঠিক হবে। এটি কোনভাবেই পেইড রিভিউ নয়।

নিয়নবাতি স্কোর

একটি ডিভাইস তার কনফিগারেশনের ভিত্তিতে কতটা ভ্যালু ফর মানি তা নির্ণয়ের জন্য বিশেষায়িত আমাদের এই স্কেলে ৫০ পেলে তা বাজেট অনুযায়ী ঠিকঠাক একটি ডিভাইস, ৬০ এর বেশি পাওয়া অর্থ হলো ভালো একটি ডিল এবং ৭০ এর বেশি পেলে গ্রেট ভ্যালু ফর মানি।

  • ডিজাইন: ৫.৫/৮
  • বিল্ড: ৬/১০
  • ডিসপ্লে: ৭.৫/১২
  • ক্যামেরা: ৮/১৫
  • ব্যাটারী ও চার্জিং: ৬/১০
  • চিপসেট: ১৪/২০
  • মেমোরি-স্টোরেজ: ৯/১৫
  • সেন্সর ও অন্যান্য: ৬/১০

মোট স্কোর: ৬২/১০০

নিয়নবাতি স্কেল অনুযায়ী Symphony i98 ভালো একটি ডিল। এই বাজেটের এভারেজ ফোনগুলো থেকে এটি এগিয়ে আছে।

Loading spinner

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these <abbr title="HyperText Markup Language">html</abbr> tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*