এর আগে আমরা ৮,৯৯০ টাকা প্রাইসট্যাগে রিয়েলমির পক্ষ থেকে দেখেছি realme C2 ও C11, যেখানে C2 থেকে C11 বেশ খানিকটা ইম্প্রুভড ছিলো। তবে এখন এই বাজেটে রিয়েলমির নতুন ফোন realme C20A, আসলে বোঝাই যাচ্ছে এটা C11-এর রিপ্লেসমেন্ট, মানে এখন থেকে বাজারে নতুন করে C11 সরবারহ না করে এর পরিবর্তে C20A সরবারহ করা হবে।

ডিজাইন, ডিসপ্লে, ব্যাটারী, সেন্সর, চিপসেট, র‍্যাম-রম সবই আসলে C11-এর মতই রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্যামেরাতে এটা C11 থেকে পিছিয়ে, স্পিকার দেয়া হয়েছে রেয়ার মাউন্টেড। অর্থাৎ, এটা আসলে আপগ্রেড না ঠিক, ডাউনগ্রেড বলাই ঠিক হবে।

প্রায় সেম ডিজাইন থাকলেও রিফাইমেন্টের ছোঁয়া এসেছে, বিশেষ করে এর ক্যামেরা মডিউলটি আমার C11 থেকে বেশ কিউট মনে হয়েছে। তবে এক্সটেরিয়রে আমরা C11 থেকে কমতি যেখানে দেখি, তা হলে C20A-তে থাকছে রেয়ার মাউন্টেড স্পিকার, এমনকি কিছুদিন আগে C21-এও কিন্তু একই কাজ করেছিলো, যেটা ছিলো ১১,৯৯০ টাকা দামের। আর এবারও কিন্তু রিয়েলমি কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেয়নি।

C20A – Lake Blue

ডিসপ্লে 6.5″, অবশ্যই HD+ রেজ্যুলেশনের একটি IPS প্যানেল এখানে থাকছে, যার রেজ্যুলেশন 720×1600। এর ব্রাইটনেস 400nits, তাই আউটডোরে অপারেট করতে একটু অসুবিধা হতে পারে, যেটা বাজেট ডিভাইস হিসেবে স্বাভাবিক।

এর চিপসেট হিসেবে দেয়া হয়েছে Helio G35। ১০-১১ হাজার টাকায় অনেকেই এখন এই চিপসেট দিচ্ছে, ৯ হাজার টাকার মধ্যে এটা বেশ ভালো। তবে পারফর্মেন্সের বেলায় একটা বড় বাঁধা হতে পারে এর ২ জিবি র‍্যাম। তারপর এখানে অ্যান্ড্রয়েডের গো ভার্সন থাকছে না, রেগুলার অ্যান্ড্রয়েড ১০ রয়েছে, তার ওপর রিয়েলমি ইউআই দিয়ে আমার মনে হচ্ছে র‍্যামকে বেশ বিপদে ফেলে দেয়া হয়েছে।

স্টোরেজের বেলায় এখানে 32GB ইন্টার্নাল স্টোরেজ দেয়া হয়েছে, এটা এনাফ না হলে, এবং অনেকের জন্যই হয়ত এনাফ হবে না, সেক্ষেত্রে দুটি সিম স্লটের সাথে একটি ডেডিকেটেড মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট থাকছে স্টোরেজ বাড়িয়ে নেয়ার জন্য।

বেশ বড় একটি ব্যাটারী থাকছে, 5000 mAh। কোন ফাস্ট চার্জিং স্বাভাবিকভাবেই থাকছে না, আর এর চার্জিং পোর্ট মাইক্রোইউএসবি টাইপ বি। এর চিপসেট খুব বেশি ব্যাটারী হাঙরি নয়, কাজেই এক চার্জে সাধারণ ব্যবহারে দেড় দিনের বেশি ব্যাটারী ব্যাকআপ পাওয়া যেতে পারে।

C20A – Iron Grey

ওকে, এখন ক্যামেরা সেকশনে আসি। realme C11-এ ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ থাকলেও এখানে থাকছে একটি রেয়ার ক্যামেরা, যেটা নিয়ে কোন অসুবিধা নেই, কেননা সফটওয়্যার দিয়ে পোট্রেটের কাজ করতে পারলে আলাদা সেন্সর নিষ্প্রয়োজন। তবে মেইন ক্যামেরা এতে 8MP, যা এরকম বাজেটে আনএক্সপেক্টেড। এর অ্যাপার্চার f/2.0। সামনে থাকছে একটি 5MP সেলফি শ্যুটার, এর অ্যাপার্চার f/2.2।

তবে ভালো লেগেছে যে এই ফোনে ম্যাগনেটিক ইনডাকশন সেন্সর থাকছে। ফলে কম্পাস ব্যবহারের সুবিধা এবং খুব সম্ভবত ভার্চুয়াল জাইরোস্কোপ ফাংশনালিটি পাওয়াও সম্ভব হবে। এর সাথে থাকছে অ্যাক্সেলেরেশন, প্রক্সিমিটি ও লাইট সেন্সর।

realme C20A-এর ম্যাট ফিনিশ ডিজাইন আমার বেশ পছন্দ। ম্যাগনেটিক ইনডাকশন সেন্সর দেয়াটা আরেকটা ভালো দিক। এরপর বড় ব্যাটারীর সাথে পাওয়ার সেভিং একটি চিপসেট এখানে আছে। তবে ২ জিবি র‍্যাম, তার সাথে কাস্টম ইউআই দেয়ায় এর পারফর্মেন্সে ব্যাঘাত ঘটবে, তা বলা বাহুল্য। ক্যামেরাতেও ভালো কিছু অফার করছে না C20A। এরপর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর না থাকা, রেয়ার মাউন্টেড স্পিকার ব্যাপারগুলোও এর দুর্বলতার মধ্যে।

সবমিলিয়ে, realme C20A-কে আমি খুব ভালো বলতে পারছি না, বাজেট হিসেবে C11 থেকে আরো বেটার কিছু তারা অফার করতে পারতো বলে বোধ করি, কিন্তু তার পরিবর্তে বরং আরো কমিয়ে দেয়াটা…

Leave a Reply