অল্প সময়ের মধ্যেই চীনের Transsion Holdings এর তিনটি ব্র্যান্ড, অর্থাৎ, Itel, Infinix ও Tecno দেশের বাজারে বেশ পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। Tecno Spark 6 Air হলো Spark 5 Air এর আপগ্রেড ভার্সন। এর দুটি র‍্যাম-রম ভ্যারিয়েন্ট এসেছে 2/32 ও 3/64। তবে এখানে চিপসেট আর সফটওয়্যারেও পার্থক্য আছে। দাম যথাক্রমে ৯৫০০ টাকা ও ১১০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

Tecno Spark 6 Air-এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ডিসপ্লে ও ব্যাটারী। আর দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে চিপসেট, আর ছোট ছোট ডিটেইলিং, যেমন, গ্লাস প্রটেকশন, সেন্সর, স্পিকার সেকশনগুলোতে গুরুত্ব না দেয়া।

ফোনটির ডিজাইন বেশ সুন্দর এখানে দ্বিমত করার সুযোগ দেখছি না। Spark 5 Air এর মতই প্রায়, শুধু ব্যাকপার্টের প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে। Ocean Blue ও Cloud White এই দুটি কালারে আনা হয়েছে Tecno Spark 6 Air। তবে অবশ্যই এটা একটা প্লাস্টিক বিল্ড স্মার্টফোন।

সামনের দিকে থাকছে এর বড় আকর্ষণ ৭” সাইজে বিশাল ডিসপ্লে। সাধারণভাবে এটা একটু বেশিই বড়, তবে যারা বেশি বড় ডিসপ্লে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটা হতে পারে এই ফোন পছন্দের একটি কারণ। তবে বাকি দিকগুলোতে বিশেষ কিছুই নেই এর ডিসপ্লেতে। এর অ্যাসপেক্ট রেশিও 20.5:9, রেজ্যুলেশন HD+ (720*1640) হওয়ায় পিক্সেল ডেনসিটি বেশ কম, 258 এবং এটি একটি IPS প্যানেল। ডিসপ্লের চিন এরিয়া মাঝারি আকারের।

এরপর ব্যাটারীর দিকে আসলে এখানে 6000 mAh এর একটি হিউজ ব্যাটারী থাকছে। থিকনেস 9.3mm, অবশ্যই একদম হালকা-পাতলা না, তবে ব্যাটারী হিসেবে খুব বেশি না। কোন ফাস্ট চার্জিং থাকছে না। ঘন্টা সাড়ে তিন লাগতে পারে একে পূর্ণ চার্জ করতে। তবে ডিসপ্লে রেজ্যুলেশনও বেশি নয়, চিপসেটও বেশি পাওয়ার কনজ্যুম করে না, তাই একবার পুরো চার্জ করলে আশা করি দিনতিনেক চার্জারের ছোঁয়া না দিলেও চলবে।

ক্যামেরার দিকে দেখলে প্রথম নজরে এর রেয়ারে মনে হবে চারটা ক্যামেরা, তবে আসলে না, এখানে তিনটা ক্যামেরা আছে, আর আরেকটাতে ক্যামেরার মত গোল করে লেখা AI :’) এখানে প্রাইমারী ক্যামেরার সাথে দেওয়া বাকি ক্যামেরা দুটোর একটি 2MP ডেপথ সেন্সর, অন্যটি AI Lens, যা ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানোর কাজটাই মূলত করে থাকে। প্রাইমারী ক্যামেরাটি 13MP, যার অ্যাপার্চার f/1.8, তাই লো লাইটে পারফর্মেন্স কিছুটা ভালোই হওয়ার কথা। সেলফি ক্যামেরা 8MP।

দাম হিসেবে এই ডিভাইস দুটোর চিপসেট আমার ভালো লাগেনি, 2/32 এডিশনে 2.0GHz Quad Core আর 3/64 এডিশনে 1.8GHz Octa Core। চিপসেটের নাম পর্যন্ত উল্লেখ করেনি, তবে সহজেই বোঝা যাচ্ছে এরা যথাক্রমে Helio A22 ও Helio A25। দুটি চিপসেটেরই সবগুলো কোর ARM Cortex A53, আর ট্রানজিস্টর সাইজ 12nm।

সেন্সর সেকশনেও নাথিং স্পেশাল। নো জাইরো সেন্সর, নো ম্যাগনেটোমিটার। শুধু G-Sensor, Ambient Light Sensor, Proximity Sensor উপস্থিত। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও আছে। আর এই দামের ফোনে স্বাভাবিকভাবেই 4G VoLTE, OTG সমর্থিত। সফটওয়্যারে ভার্সনভেদে থাকছে পার্থক্য। এখানে থাকছে তাদের কাস্টম ইউআই HiOS, তবে 2/32 ভার্সনে তা গো এডিশন এবং 3/64 ভার্সনে রেগুলার Android 10 বেজড।

তবে এই ফোনের বাজে একটি দিক হলো এখানে ইয়ারপিস ছাড়া আলাদা কোন স্পিকার নেই। এটা ৫-৬ হাজার টাকার আশেপাশের ডিভাইসে হলে মানা যায়, কিন্তু ১০ হাজার টাকার ফোনে একদমই না। ফলে সাউন্ড কোয়ালিটি ও লাউডনেস এখানে ভালো আশা করা যায় না।

সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে যদি স্পিকার ঠিকঠাক থাকতো আর দাম ৫০০ টাকা করে কম হত, তাহলে এটা বেশ ভালো ডিল হতে পারতো। যাই হোক, যারা একটি হিউজ ডিসপ্লের ডিভাইস খুঁজছেন, আর সাথে একটি ম্যাসিভ ব্যাটারী, তাদের জন্য এখনও আকর্ষণীয় হতে পারে।

তথ্য ও ছবি সোর্স

নিয়নবাতি স্কোর

  • ডিজাইন: ৫/৮
  • বিল্ড: ৪.৫/১০
  • ডিসপ্লে: ৮/১২
  • ক্যামেরা: ৭.৫/১৫
  • ব্যাটারী ও চার্জিং: ৭/১০
  • চিপসেট ও র‍্যাম: ১০.৫/২৮
  • স্টোরেজ: ৩.৫/৭
  • সেন্সর ও অন্যান্য: ৪/১০

মোট স্কোর: ৫০/১০০

ভ্যালু ফরম মানি পরিমাপের জন্য আমাদের বিশেষায়িত নিয়নবাতি স্কেলে ৫০ এর কম হলে আপ টু মার্ক নয়, ৫০ হলে এভারেজ, ৬০+ হলে ভালো ডিল, ৭০+ হলে গ্রেট ভ্যালু ফর মানি নির্দেশ করে। এই ডিভাইসটি এভারেজের মধ্যে থাকছে।

2 Comments

  1. Overpriced 2.1 কিংবা 2.0 দ্বারা কি বোঝাতে চাচ্ছেন আর এই কাস্টম ইউআই কিংবা ইউআই কি বিষয়টা বললে খুশি হতাম। আপনাকে আপনার এই উদ্যেগের জন্য ধন্যবাদ।

    • ওভারপ্রাইসড বলতে যা বুঝি, তার চেয়েও বেশি দাম… ইউআই মানে ফোনের সফটওয়্যার আরকি।

Leave a Reply