কেডিই প্লাজমার ভালো লাগা কিছু ব্যাপার

লিনাক্স ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় তিনটি নামের একটি হলো কেডিই প্লাজমা (KDE Plasma, অন্য দুটো Gnome ও XFCE)। প্লাজমা ডেস্কটপের জন্য অবশ্যই কেডিই কমিউনিটি প্রশংসার দাবি রাখে। Krita, Kdenlive, KDE Connect, Elisa, GCompris সহ আরো অনেক দারুণ কিছু ওপেন সোর্স অ্যাপ্লিকেশন তৈরি হয়েছে কেডিই কমিউনিটির মাধ্যমে। ফিচার, ফাংশনালিটি, ফ্রেন্ডলিনেস, কাস্টমাইজেবিলিটি, অপটিমাইজেশন সবদিকে কেডিই প্লাজমা ক্রমাগত আরো অসাধারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরদুয়েকের মধ্যে লক্ষ্যণীয় উন্নতি হয়েছে প্লাজমা এক্সপ্রেরিয়েন্সে।

অনেকরকম ফিচার, ইফেক্ট, এনিমেশন সত্ত্বেও কেডিই বেশ রিসোর্স এফিশিয়েন্ট, যেটা কয়েক বছর আগেও তারা এতটা ছিলো না। XFCE বা মাতের মত লাইটওয়েট অবশ্যই কেডিই নয় এবং লাইটওয়েট হওয়াটা কেডিই-র মূল বিষয়ও নয়, তারপরও আইডল সিচুয়েশনে এখন কিন্তু কেডিই আর এক্সএফসিই প্রায় একইরকম র‌্যাম কনজাম্পশন করে, যেটা একটা চমৎকার বিষয়। দুই জিবি র‌্যামের পিসিতেও কেডিই বেশ সুন্দরভাবে ব্যবহারযোগ্য।

বিভিন্ন লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে কেডিই প্লাজমা ডেস্কটপসহ। উবুন্টুভিত্তিক KDE Neon ওএসটি কেডিই কমিউনিটি কতৃক মেইনটেন হয়। এছাড়া আছে Kubuntu, Garuda Linux, Manjaro KDE, Fedora KDE, openSUSE, Solus Plasma এবং আরো অনেক। FreeBSD-এর জন্যও প্লাজমা ডেস্কটপ রয়েছে।

ছবি: কুবুন্টু

বর্তমানে আমি ব্যবহার করছি সোলাস প্লাজমা, সাধারণত আমি মাল্টিবুটে কয়েকটি ডিস্ট্রো ইন্সটল রাখলেও বর্তমানে এটা আমার ডেস্কটপের একমাত্র অপারেটিং সিস্টেম। সোলাস একটি রোলিং রিলিজ লিনাক্স ডিস্ট্রো, তাই এখানে কেডিই প্লাজমার আপ টু ডেট এডিশন দেয়া আছে, লেখার সময় যেটা 5.22.2। প্লাজমা ডেস্কটপের পূর্ণ রিভিউ করার অবশ্য আমি এখানে চেষ্টাও করছি না, শুধু বিশেষভাবে ভালো লাগা কয়েকটি ব্যাপার নিয়ে কথা বলব।

ছবি: সোলাস প্লাজমা

সোলাসে বাই ডিফল্ট স্টার্ট মেনু হিসেবে Application Menu দেয়া হয়েছে, যেটা কিছুটা ক্লাসিক স্টাইল। অনেকটা মিনিমাল হলেও এখানে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ এবং ফেভারিট সেট করা পাওয়ার/সেশন বাটনগুলো বাম দিকে থাকে, ক্যাটাগরী অনুযায়ী বিন্যাসের সাথে রিসেন্ট অ্যাপ্লিকেশন ও রিসেন্ট ফাইলগুলোও হাতের নাগালে, সব মিলিয়ে এটা যথেষ্ট ফাংশনাল।

নিয়নবাতি ফেসবুক গ্রুপ
নিয়নবাতি টেলিগ্রাম চ্যানেল

তবে অবশ্যই আপনি এখানে Application Launcher সেট করে নিতে পারবেন এবং Plasma 5.20 বা আগের ভার্সনগুলো যদি পূর্বে চালিয়ে থাকেন, তবে এখানে পরিবর্তন কোনভাবেই দৃষ্টি এড়ানো সম্ভব না, পূর্বের লঞ্চার থেকে নতুনটি সম্পূর্ণ নতুন ধরণের। আমার কাছে এটা খুবই কনভিনিয়েন্ট মনে হয়েছে। ক্যাটাগরীওয়াইজ বিন্যাসের সাথে All Applications-এ বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসও পাওয়া যাবে, যা কোন অ্যাপ খুঁজতে বেশ সুবিধাজনক।

Places ট্যাবে রিসেন্ট ও ফ্রিকুয়েন্ট অ্যাপ্লিকেশনগুলো রয়েছে, আবার পাওয়ার ও সেশন বাটনগুলোও হাতের নাগালে। যদি এখানে কোন পরিবর্তন আমি চাইতাম, সেক্ষেত্রে সেটিংস আইকনে কনফিগার অ্যাপ্লিকেশন লঞ্চারের পরিবর্তে সিস্টেম সেটিংস সেট করা থাকলে সুবিধাজনক হত বোধ করি এবং রিসেন্ট অ্যাপ্লিকেশনগুলো Places ট্যাবে না গিয়ে Applications ট্যাব থেকে পাওয়া গেলে ভালো হত। কিন্তু সব মিলিয়ে আমার এটা পছন্দ হয়েছে।

তবে দিনশেষে বেস্ট ব্যাপারটা হলো কেডিই-র অসাধারণ ফ্লেক্সিবিলিটি। 5.21 এর আগের মেনুটি যদি আপনি ফিরিয়ে আনতে চান, তবে ‘Legacy Kickoff’ উইজেট হিসেবে সেটি ডাউনলোড করে নেয়া যাবে। অথবা Windows 10 স্টাইলের টাইলড মেনু, বা Windows 11 স্টাইলের মেনু কিংবা ম্যাক ওএসের LaunchPad স্টাইলসহ বিভিন্ন রকমের মেনু রয়েছে Plasma Widget হিসেবে।

ছবি: সোলাস প্লাজমা (কাস্টমাইজড)

কেডিই প্লাজমার উইজেটের ব্যাপারটা না বললেই না। দারুণ সব উইজেট এখানে রয়েছে এবং মজার ব্যাপার হলো একই উইজেট ডেস্কটপ বা প্যানেলে ব্যবহার সম্ভব। আবার নতুন উইজেট ডাউনলোড করতে হলে উইজেট মেনু থেকে Get New Widgets… > Download New Plasma Widgets এ গেলেই হয়। এটা শুধু উইজেটের ক্ষেত্রে না, সবদিকেই় কেডিই প্লাজমা অনেক ইন্টিগ্রেটেড।

Plasma 5.22-তে আগের KSysGuard এর পরিবর্তে নতুন একটি Plasma System Monitor ইন্ট্রিডিউস করা হয়েছে, আর সত্যি বলতে এত চমৎকার সিস্টেম মনিটর আমি এর আগে দেখিনি। শুধু দেখতে এটা সুন্দর ও আধুনিক এমনই না, বরং এটা প্রচন্ড রকম কাস্টমাইজেবল, প্রতিটি এখানে কম্পোনেন্টের অবস্থান, ডিজাইন, টেক্সট প্রভৃতি কাস্টমাইজযোগ্য, এবং কম্পোনেন্টগুলো ডেস্কটপে উইজেট হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এটা তারা দারুণ করেছে!

KDE-র KRunner ফিচারটি নতুন নয়, তবে এটা আগে ব্যবহার করা হয়নি ওরকম। এটাও চমৎকার ছিলো। ডিফল্ট শর্টকাট Alt+F2 দিয়ে এটা চালু করা যায়। আর এটা কোনভাবেই শুধু একটা সার্চবার না, এখানে ওয়েব সার্চ, এডভান্সড ক্যালকুলেশন, উইন্ডো ম্যানেজমেন্ট, স্পেল চেকসহ প্রচুর ফিচার নিয়ে এটা একটা সুইস আর্মি নাইফ!

কিন্তু মজাটা এখানেই শেষ না, সার্চে কোন বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে তা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং এখানেও Get New Plugins থেকে আরো ফিচার যুক্ত করে নিতে পারবেন।

KDE Connect নিয়েও কিছু বলতেই হয়। Android স্মার্টফোন এখন প্রায় সবার কাছেই পৌঁছে গেছে এবং যাচ্ছে। KDE Connect এর সাহায্যে পিসির সাথে স্মার্টফোন চমৎকারভাবে ইন্ট্রিগেট হয়। ফোন থেকে পিসিতে এবং পিসি থেকে ফোনে ফাইল আদান-প্রদান, স্লাইডশো, মাল্টিমিডিয়া কন্ট্রোল, ইনপুট দেয়া, নোটিফিকেশন দেখা কিংবা ফোনের মেসেজ পিসিতে দেখা এবং রিপ্লাই দেয়া, ফোন থেকে পিসিতে কমান্ড দেয়া এবং আরো অনেক কিছু কেডিই কানেক্ট দিয়ে করা যায়।

কেডিই প্লাজমার সেটিংস-ও একটা জিনিস, এখানে এত অসাধারণ সব অপশন আছে, যা আসলেই আশ্চর্য ব্যাপার। যেমন গ্নোম ডেস্কটপ যারা চালিয়েছেন, তারা জানেন যে সেটিংসে গ্নোম কিন্তু খুব কম অপশন-ই দেয়, গ্নোমের কাস্টমাইজেশনের জন্য টুইক টুল এবং এক্সটেনশনস প্রয়োজন, যেখানে কেডিই প্লাজমা ঠিক তার বিপরীত।

ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টের পছন্দটা সবার জন্য সবসময় এক হয় না। আমি নিজেও সবসময় কেডিই ব্যবহারকারী নই। তবে সবদিক দিয়ে দেখে যদি দেখি, ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টগুলোর মধ্যে কেডিই আমার কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয়।

লিনাক্স, ডিস্ট্রো ও ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্টমেন্ট নিয়ে আরো দেখুন এখানে: ৮০০০ শব্দে লিনাক্স পরিচিতি
সোলাস নিয়ে জানতে দেখুন: সোলাস: স্বাধীনভাবে ডেভেলোপকৃত একটি ফাস্ট, স্ন্যাপি লিনাক্স ডিস্ট্রো

সবশেষে একটা ভিডিও দিচ্ছি, যেটা অবশ্য গত বছরের। মজার ব্যাপার হলো ভিডিও করার সময় আমার পিসির র‌্যাম ছিলো ২ জিবি (এখন ৪ জিবি), তা দিয়েই এত ইফেক্ট চালিয়ে নেয়া গেছে। আর হ্যা, আমি জানি এত ফ্যান্সি লুক বা ভিডিও ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক সময়ই ডিস্ট্রাক্টিং, তবে এটা দেখাতে চেয়েছি যে এটা করা সম্ভব। নতুন একটি কাস্টমাইজেশন টিউটোরিয়াল কয়েকদিনের মধ্যে আসবে ইন শা আল্লাহ, নিয়নবাতির সাথে থাকুন।

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *