- লোকালহোস্টে বিনা খরচে ওয়ার্ডপ্রেস সাইট তৈরি (ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল – পর্ব ১)
- ওয়ার্ডপ্রেস.কম ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি (ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল – পর্ব ২)
- নিজের হোস্টিংয়ে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি (ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল – পর্ব ৩)
- ম্যানুয়ালি ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলেশন (ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল – পর্ব ৪)
- ওয়ার্ডপ্রেসে একটি পোস্ট লেখা (ওয়ার্ডপ্রেস টিউটোরিয়াল – পর্ব ৫)
আগের দুটো পর্বে আমরা লোকালহোস্ট এবং ওয়ার্ডপ্রেস.কম ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরি করা দেখেছি, যেগুলো অধিকাংশ সময়ে আদর্শ উপায় নয়। সত্যিকারের একটা ওয়ার্ডপ্রেস সাইট করতে হলে, যেখানে সে ধরণের কোন সীমাবদ্ধতা থাকবে না, আমাদের দরকার হবে নিজের একটি ডোমেইন ও হোস্টিং।
প্রথমে ডোমেইনের কথায় আসি। ডোমেইন নামের ক্ষেত্রে বর্তমানে সহস্রাধিক এক্সটেনশন রয়েছে, দামেও রয়েছে তারতম্য। আপনি হয়ত খেয়াল করেছেন অধিকাংশ ওয়েবসাইট .com ডোমেইন ব্যবহার করে। আসলে এর একটা বিশেষ ফেস ভ্যালু গড়ে ওঠেছে। তবে ভালো একটি নামের .com ডোমেইন এভেইলেবল পাওয়াটা সাধারণত বেশ কঠিন, কেননা দেখা যায় আগেই অন্য কেউ তা কিনে রেখেছে, বিশেষ করে আকর্ষণীয় ডোমেইন নেম উচ্চমূল্যে বিক্রির বেশ বড় মার্কেট আছে।
.com এর বিকল্প হিসেবে .net বেশ জনপ্রিয়, এছাড়া .io, .co এগুলো এখন চলছে অনেকক্ষেত্রে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে .xyz দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। .org ডোমেইনটি সাধারণত অর্গানাইজেশনগুলো ব্যবহার করে। বাংলাদেশ বেজড হলে .com.bd বা অন্য কোন .bd ডোমেইনও নেয়া যেতে পারে, তবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে .বাংলা সাধারণভাবে না নেয়া সাজেস্ট করব, কেননা বাংলা লিখতে সবাই স্বচ্ছন্দ্য না এবং অনেক জায়গায় এটা xn--habizabi.xn--arohabizabi এরকমভাবে ইংরেজিতে কনভার্ট করে নেয়, যাতে ক্লিক করতে স্বাভাবিকভাবেই কেউ কয়েকবার ভাববে।
যাই হোক, ডোমেইন নাম ও এক্সটেনশন সতর্কতার সাথে বাছাই করা উচিৎ, কেননা এটা আপনার সাইটের আইডেন্টিটি। আরেকটা ব্যাপার, অনেক সময় কিছু ওয়েবসাইট প্রমোশনাল অফারে প্রথম বছর বা স্বল্প মেয়াদে অল্প মূল্যে ডোমেইন নাম অফার করে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকলে কেনার আগে অবশ্যই রিনিউয়াল প্রাইস দেখে নিবেন।
এবার হোস্টিংয়ের কথায় আসি। যদি আপনার ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টের সুবিধা থাকে, গ্লোবালি বেস্ট কিছু প্রোভাইডারদের তালিকা দেখে নিতে পারেন এখানে। তবে বাংলাদেশেও কিন্তু অনেক প্রোভাইডার বিশ্বস্ততার সাথে সেবা দিয়ে আসছে। ExonHost (অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক), XeonBD, Hostever, Dianahost কয়েকটি জনপ্রিয় প্রোভাইডার এবং এর বাইরেও আরো আছে।
হোস্টিংয়ের মধ্যে বিভিন্ন রকমফের কখনো কখনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ছোটখাট ওয়েবসাইটের জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং সাধারণভাবে উপযুক্ত, কারণ এর দাম তুলনামূলক কম, ম্যানেজ করা সহজ। কিছু কিছু প্রোভাইডার একাধিক দেশের ডাটা সেন্টার থেকে হোস্টিং নেয়ার সুযোগ দেয়। বাংলাদেশি অডিয়েন্স হলে BDIX হোস্টিং নিতে পারেন, ইন্টারন্যাশনাল হলে ইউরোপীয় বা আমেরিকান নেয়া যেতে পারে।
কন্ট্রোল প্যানেলের মধ্যে cPanel সবচেয়ে জনপ্রিয়, তবে বর্তমানে সিপ্যানেল লাইসেন্সের দাম বেশি হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে DirectAdmin (DA) প্যানেল অনেকে অফার করছে। এর বাইরেও CentOS Panel, Webmin, Plesk, Virtualmin, Zpanel, VestaCP সহ আরো বেশ কিছু বিকল্প আছে। cPanel নেয়ার সুবিধা হলো এটা ইউজার ফ্রেন্ডলি, প্রয়োজনে অনলাইনে অনেক রিসোর্স আছে, ইউজার বেশি বলে কোন সমস্যায় পড়লে সমাধান পাওয়া সহজ। যদি বাজেট কম হয়, DA-তেও যেতে পারেন।
হোস্টিং স্পেস কতটা দরকার হতে পারে এটা আসলে নির্ভর করছে আপনি সাইটটিতে কী করতে চাইছেন বা কীভাবে ব্যবহার করবেন। সাধারণ একটি ব্লগ বা এধরণের ওয়েবসাইটে আসলে খুব বেশি স্টোরেজ দরকার হয় না, ৩ থেকে ৫ জিবি হোস্টিং নিলে যথেষ্ট। আবার আপনি যদি সাইটে অনেক ছবি বা ভিডিও বা অন্যান্য ফাইল আপলোড করতে চান, তাহলে স্টোরেজ বেশি লাগবে।
খরচের যদি একটা ছোট্ট আইডিয়া দিই, একটি ডট কম ডোমেইন ও ৫ জিবি শেয়ার্ড হোস্টিংয়ের দাম বছরে ৪ হাজার টাকার আশেপাশে হতে পারে, যখন আপনি একটি মানসম্মত প্রোভাইডার থেকে নিবেন। তবে এটা ক্ষেত্রবিশেষে অনেক কমবেশি হতে পারে। এছাড়া প্রথম বছর অনেক সময় ডিসকাউন্ট থাকে কিছু।
ডোমেইন হোস্টিং কেনার পর হোস্টিংয়ের সাথে ডোমেইনকে কানেক্ট করতে হবে। এজন্য সাধারণত নেমসার্ভার বা DNS ব্যবহার হয়। এটা কেমন হবে হোস্টিংয়ের ওপর নির্ভর করছে, আপনার হোস্টিং প্রোভাইডারের নিকট থেকে এ সংক্রান্ত সহায়তা নিতে হবে।
এরপরের কাজ হলো একটি SSL সার্টিফিকেট যুক্ত করা। আমরা ওয়েবসাইটের এড্রেসে http বা https দেখি, https এ শেষের s সিকিউরড নির্দেশ করে, যার জন্য SSL সার্টিফিকেট প্রয়োজন। এতে তৃতীয় পক্ষ ইনফর্মেশন এক্সেস করা থেকে নিরাপত্তা থাকে। এজন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কিছু পেইড সার্ভিস আছে, তবে Let’s Encrypt সহ ভালো কিছু ফ্রি সার্ভিসও আছে। প্রোভাইডারভেদে এটা সবসময় এক না, SSL সার্টিফিকেশনের পদ্ধতি হোস্টিং প্রোভাইডারের সাথে যোগাযোগ করে জেনে নিতে পারেন।
এখন ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলের পালা। এটা আমরা ম্যানুয়ালি করতে পারি অথবা হোস্টিংয়ে যুক্ত অটো ইন্সটল স্ক্রিপ্ট দিয়ে করতে পারি। ম্যানুয়াল ইন্সটলেশন প্রসেসটি আমরা পরের পর্বে দেখাবো ইন শা আল্লাহ, তবে অটো ইন্সটলার এভেইলেবল থাকলে তা ব্যবহার করা সহজ এবং সুবিধাজনক। অটো ইন্সটলারের মধ্যে Softaculous Apps Installer বিশেষভাবে জনপ্রিয়, আমরা এটা দিয়েই ইন্সটল প্রসেস দেখাবো। তবে কিছু প্রোভাইডার অন্য ইন্সটলারও দিয়ে থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে এখানে দেখতে পারেন।
টিউটোরিয়ালে আমরা মনে করছি আপনার ডোমেইনটি example.com। প্রথমে আমরা হোস্টিংয়ের cPanel-এ লগইন করছি। যদি আপনার প্রোভাইডার প্রদান করে থাকে, তাহলে Softaculous Apps Installer একদম নিচের দিকে পেয়ে যাবেন। এখান থেকে আমরা WordPress স্ক্রিপ্টটি নির্বাচন করব।

ইন্সটলের সময় Quick Install একটি অপশন আছে, এটা ব্যবহার করলে কিছু অপশন কম প্রদর্শন করবে। ব্যাপারটাকে সিম্পল রাখতে Quick Install ব্যবহার করতে পারেন, আমরা Custom Install প্রসেস দিয়ে দেখাচ্ছি। ভার্সন হিসেবে আমরা সাধারণভাবে লেটেস্টটি ব্যবহার করতে পারি। যদি এসএসএল কনফিগার করা থাকে, তাহলে https:// প্রটোকল ব্যবহার করা উচিৎ। ডোমেইনের ক্ষেত্রে আপনি মূল ডোমেইন (যেমন example.com) অথবা পূর্বে তৈরি করে রাখা সাবডোমেইন (যেমন sub.example.com) ব্যবহার করতে পারেন, সাবডোমেইন তৈরির পদ্ধতি এখানে দেখুন। যদি example.com/dir এরকম ঠিকানায় ইন্সটল করতে চান, তবে ডিরেক্টরীর ঘরে dir (বা আপনি যা চাচ্ছেন আরকি) লিখুন। আর যদি example.com-এই ইন্সটল করতে চান, তাহলে ডিরেক্টরীর ঘর খালি রাখুন।

এরপর Name, Description দিন। Multisite দরকার থাকলে দিতে পারেন, এটা একই ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটলেশনের অধীনে একাধিক সাইট ম্যানেজের জন্য ইউজ হয়। Cron বলতে রেগুলার শিডিউলড কিছু মেইনটেইনেন্স ধরণের কাজ বোঝায়, ডিজেবল করলে ওয়ার্ডপ্রেসের পরিবর্তে সিপ্যানেলে একটি Cron Job যুক্ত হবে। যদি আপনার আইডিয়া না থাকে, Multisite বা Disable Cron Job কোনটিই দরকার নেই।
এরপর ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড, এডমিন ইমেইল নির্বাচন করুন ও নিরাপদভাবে এই তথ্যগুলো সংরক্ষন করুন। এরপরের Language হলো ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ডের ভাষা, কাজেই English রাখতে পারেন। প্লাগইনস, থিম এগুলো এখনই কোন পরিবর্তন করা জরুরী নয়, পরে করতে পারবেন। যাইহোক, সাইটের সিক্যুরিটির স্বার্থে Loginizer প্লাগইন চাইলে ব্যবহার করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস বর্তমানে বেশি ফিচারসম্পন্ন এডভান্সড ব্লক এডিটর ব্যবহার করে, যদি আপনি আগের মত সিম্পল এডিটর চান, তবে ক্লাসিক এডিটর প্লাগইন ব্যবহার করতে পারেন। উল্লেখ্য এতে ব্লক এডিটর ডিজেবল হয়ে যাবে না, আপনি লেখার সময়ে এডিটর পরিবর্তন করতে পারবেন। আগে থেকে আপনার আরো ওয়ার্ডপ্রেস সাইট থাকলে বা পরে তৈরি করতে চাইলে wpCentral ব্যবহার করে সবগুলো এক ড্যাশবোর্ড থেকে ম্যানেজ করা যায়, অবশ্য আমি এটা কখনো ব্যবহার করিনি।
এডভান্সড অপশন পরিবর্তন করা ঐচ্ছিক। এখান থেকে চাইলে কাস্টম ডাটাবেস নাম এবং টেবিল প্রিফিক্স সেট করতে পারেন, নাহলে Softaculous এটা সেট করে নিবে। একই ডাটাবেস এ অনেকগুলো ওয়েবসাইট হোস্ট করতে আলাদা টেবিল প্রিফিক্স ব্যবহার করা হয়। ওয়ার্ডপ্রেস ভার্সন, থিম, প্লাগইন এগুলো অটো আপগ্রেড হবে কিনা নির্বাচন করুন। ব্যাকআপ কতদিন পরপর নিবে এবং তা কোথায় থাকবে তা নির্বাচন করুন। ব্যাকআপ রোটেশন হলো সর্বোচ্চ কতটি ব্যাকআপ একসাথে থাকবে, সেটি। এই লিমিট পূর্ণ হলে নতুন ব্যাকআপ নেয়ার সময় সর্বশেষ পুরনো ব্যাকআপটি ডিলিট করে দিবে।
সবশেষে Install-এ ক্লিক করুন এবং অভিনন্দন! ইন্সটল সম্পন্ন হয়েছে।
লেখা: শাহরিয়ার নাজিম রিফাত
সম্পাদনা: তাহমিদ হাসান মুত্তাকী





এই সিরিজের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম
hello, how can i solve this problem with this page showing? eyeg