মেমরি কার্ড কেনার আগে যে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন

সময়ের সাথে সাথে মোবাইল ফোন যেমন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, তেমনি তথ্য সংরক্ষণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে মেমরি কার্ড। একসময় যে মেমরি কার্ড অল্প কিছু ইলেক্ট্রনিক্স দোকানে পাওয়া যেত, সেখানে আজ পাওয়া যাচ্ছে সিডি- ডিভিডি, ফ্লেক্সি-লোড এর দোকানে; আর সাথে সাথে কমেছে দাম ও। তাই প্রশ্ন উঠছে এর গুনগত মান নিয়ে।

লাইফটাইম গ্যারান্টি-

মেমরি কার্ড নিয়ে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি জানা প্রয়োজন, তা হলো লাইফ টাইম গ্যারান্টি। প্রায় সকল ব্রান্ডের মেমরির ব্যাপারে বলা হয় লাইফটাইম গ্যারান্টি। আপনাদের অনেকের মনে হতে পারে হয়ত লাইফ-টাইম গ্যারান্টি মানে আজীবন যে কোনো সময় সমস্যা হলেই গ্যারান্টি পাওয়া যাবে, যেহেতু লাইফটাইম কথাটি দ্বারা সেকথাই বুঝানো হয়। কিন্ত এ জীবন যে সে জীবন নয়, তা মেমোরি কার্ডের প্যাকেজিং পড়লেই বোঝা সম্ভব! মেমোরি কার্ড তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ফ্ল্যাশ মেমোরি সার্কিট। এসব সার্কিট থেকে কতবার ডাটা পড়া যাবে ও ডাটা লেখা যাবে সেটির একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। কম দামী মেমোরি কার্ডের ক্ষেত্রে হয়ত ১০,০০০ বার আর বেশী দামীর ক্ষেত্রে হয়ত ১০০,০০০ বার বা ১,০০০,০০০ বারও হতে পারে। এই রিড/রাইট সাইকেলের লিমিটকেই ধরা হয় মেমোরি কার্ডের লাইফ-টাইম। অর্থাৎ গ্যারান্টি ততদিনই পাবেন যতদিন এই লাইফ-টাইম পার না হবে। অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই লিমিটের পর কার্ডটি এমনিতেও নষ্ট হয়ে যাবে। তখন দেখা যাবে কার্ড করাপ্ট আর ফরম্যাট করাও সম্ভব হচ্ছে না।

কেনার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজনঃ মেমোরি কার্ডের গ্যারান্টির চেয়ে সেটার লাইফ-টাইম রিড-রাইট সাইকেল এর দিকে নজর দেওয়া বেশি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে রিড-রাইট সাইকেল যত বেশী হবে সেটি তত ভালো। অন্তত ১০০,০০০ বার না হলে সেটি কেনা উচিৎ নয় (যদি না আপনি কার্ডটি শুধু ডাটা ব্যাক-আপ রাখার কাজে ব্যবহার না করেন মানে ফোনে বা ট্যাবে লাগানো অবস্থায় থাকবে না)।

কার্ডের ক্লাস

মেমোরি কার্ডের ব্যবহারিক সুবিধা অনেকটাই নির্ভর করে তার রিড/রাইট স্পীডের ওপর। বিশেষ করে ডিএসএলআর ক্যামেরা বা হাই-ডেফিনিশন ভিডিও করার সিস্টেমসহ ফোনের জন্য এটি একটি বড় ব্যাপার। তবে এই রিড-রাইট স্পীড বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে কার্ডটির ক্লাস দেখে কেনা। ক্লাসটি মেমোরি কার্ডের গায়ে © এর মত করে লেখা থাকে।

ক্লাস ২ = ২ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব

ক্লাস ৪ = ৪ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব

ক্লাস ৬ =৬ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব

ক্লাস ৮ =৮ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব

ক্লাস ১০ =১০ মেগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে রাইট করা সম্ভব

ক্লাস T1 =১০ মেগাবাইটের ওপর স্পিডে রাইট করা যাবে

প্রতি সেকেন্ডে HD 1080P ভিডিও রেকর্ড করার জন্য অন্তত ক্লাস ৬ কার্ড কেনা উচিৎ। তবে ক্লাস ৬ এর চাইতে ক্লাস ১০ বা আরও বেশী ক্লাসের মেমোরি কার্ড পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। তবে নকল কার্ডের গায়ে লেখা ক্লাস সম্পূর্ণ ভুয়া।

সেগুলোর ক্লাস ২ বা ৪ এর বেশি নয়।

কার্ডটির সত্যিকারের নির্মাতা-

মেমোরি কার্ড কিনতে গেলে ব্র্যান্ডের অভাব পড়ে না। স্যামসাং, তোশিবা, ট্র্যানসেন্ড, অ্যাডাটা, অ্যাপ্যাসার, স্যানডিস্ক ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের ব্র্যান্ড রয়েছে। তবে কেনার সময় এই বিষয়ে বেশ সতর্কতার প্রয়োজন।

স্যামসাং-এর তৈরি কার্ড বাংলাদেশে খুব কম পাওয়া যায়। ৯০% ক্ষেত্রেই নিম্মমানের কার্ড স্যামসাং-এর নামে বাজারজাত করে অসাধু ব্যবসায়ীরা। তোশীবার কার্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, বেশীরভাগই নকল কার্ড। স্যানডিস্কের ক্ষেত্রেও অনেকটাই এমন, তবে T1 কার্ডগুলো নকল হবার সম্ভাবনা কম। ভালো বিশ্বস্ত দোকান থেকে মেমরি কার্ড কিনুন। কার্ড কেনার সময় কার্ডের গায়ে কোনও হলোগ্রাম আছে কিনা দেখে নিন। ট্র্যানসেন্ড, অ্যাডাটা বা অ্যাপ্যাসার নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এদের কার্ড অরিজিনাল, প্রচুর পাওয়া যায় এবং লাইফ-টাইমও ১০০,০০০ বার এর বেশী।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে মেমরিকার্ড কেনার অনুরোধ রইল। অন্যথায় তথ্য হারিয়ে গেলে ভাগ্যের দোষ দেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.