Symphony i67: আরো একটি এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোন সিম্ফনির পক্ষ থেকে

বরাবরই লো বাজেট বা এন্ট্রি লেভেলে সুন্দর কিছু স্মার্টফোন নিয়ে আসছে সিম্ফনি এবং এই ধারাবাহিকতায় এবার তারা Symphony i67 নিয়ে এসেছে। এর আগে রিলিজ হওয়া i98 এর সাথে ফোনটির কনফিগারেশন বেশ কাছাকাছি, কিছু পার্থক্য আছে। তবে i98-এ রেগুলার Android 10 দেয়া ছিলো, কিন্তু i67-এ গো এডিশন দেয়া হয়েছে।

গো এডিশন হলো অ্যান্ড্রয়েডের লাইটার একটি এডিশন, যেখানে তুলনামূলক আরো লাইটওয়েট ইউআই দেয়া হয়, ফলে লো কনফিগারেশনে বেটার পারফর্মেন্স পাওয়া যায়। আমার মনে হয়েছে গো এডিশন দেয়ার জন্যই i98 এর পরিবর্তে i67 আনা হয়েছে, আমি জানতে পেরেছি i98 আর নতুন করে আনা হবে না।

i67 এর সাথে সিম্ফনি কিন্তু নতুন আরো একটি ডিভাইস লঞ্চ করেছে, Symphony ATOM, যেটা বেশ স্পেশাল একটি ডিভাইস এবং এটম নিয়ে আমরা কিছুক্ষণ পূর্বেই একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেছি, দেখে নিতে পারেন এখান থেকে। যাই হোক, আমরা মূল আলোচনা শুরু করি।

i98 vs i67

Symphony i98-এর অনুরূপ চিপসেট, র‌্যাম-রম, ব্যাটারী ও ক্যামেরা থাকছে i67-এ। তবে ডিসপ্লে একটু ছোট, 5.99″-এর পরিবর্তে 5.7″ এবং এখানে লাইট সেন্সর ও প্রক্সিমিটি সেন্সর দেয়া হয়নি। থিকনেসও একটু বেশি, 9.6″, যা লো বাজেট স্মার্টফোনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। তবে i67-এ নিচের দিকে স্পিকার থাকছে, যেখানে i98-এ ইয়ারপিস-ই স্পিকার হিসেবে ব্যবহার হত, তো এটা খুব ভালো ব্যাপার।

দামেও i98 থেকে i67 ৩০০ টাকা কম, ৬০০০ (৫৯৯০) টাকা। আর যেমনটা বলা হয়েছে, সফটওয়্যার সেকশনেও পার্থক্য থাকছে, Android 10 Go। ডিজাইনেও পার্থক্য থাকছে এবং এবার সিম্ফনি গ্র্যাডিয়েন্ট কালার দেয়নি।

এক্সটেরিয়র

ডিজাইন সেকশনে i67 বেশ সিম্পল। সিম্ফনির স্মার্টফোনে আজকাল সচারচর কালো কালার দেখা যায় না, তবে i67 এর একটি কালো ভ্যারিয়েন্ট থাকছে। এছাড়া নীল, লাল ও সবুজ রঙে স্মার্টফোনটি আনা হয়েছে। এর ব্যাকপার্ট রিমুভেবল।

নিচের দিকে স্পিকার দেয়া হয়েছে, যা লো বাজেটে দেখে ভালো লাগলো। চার্জিং পোর্ট ও ইয়ারফোন জ্যাক থাকছে ওপরের দিকে। এর থিকনেস অবশ্য খানিকটা বেশি, 9.6mm, যাই হোক, বাজেট বিবেচনায় মানা যেতে পারে। ফোনটির সঠিক ওজন জানতে পারিনি।

ডিসপ্লে

ডিসপ্লে সেকশনে 5.7″ সাইজের একটি IPS প্যানেল থাকছে এবং এটি কোন নচ ডিসপ্লে নয়, অর্থাৎ, ভালো পরিমাণে বেজেল থাকছে এখনকার হিসেবে। এর রেজ্যুলেশন HD+ (720*1440), অর্থাৎ, 18:9 অ্যাসপেক্ট রেশিও এবং PPI 282।

হার্ডওয়্যার

চিপসেট সেকশনে থাকছে Unisoc SC9863A, যেখানে প্রসেসর অক্টাকোর Cortex A55@1.6GHz Max ও জিপিইউ PowerVR GE8322@550MHz। এটা কিন্তু কম বাজেটের মধ্যে বেশ পাওয়ারফুল। আরেকটু বেশি দামে রিলিজ হওয়া সিম্ফনি এটমে থাকা Helio A20 থেকেও এর পারফর্মেন্স ভালো, তবে সমস্যাও আছে, তা হলো এটা 28nm-এ তৈরি। ফলে এখানে ইফিশিয়েন্সি তুলনামূলক কম, ব্যাটারী কনজাম্পশন ও হিট কিছুটা বেশি হয় এবং হিট হলে পারফর্মেন্সেও প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এই দামে আসলে এটাই সর্বোচ্চ যা সাধারণভাবে আশা করা যেতে পারে, অন্য বেশিরভাগ স্মার্টফোনে হয়ত MT6737, SC9832E এরকম চিপসেটগুলো পাবেন, সেখানে SC9863A দেয়াটা বেশ ভালো ব্যাপার। সাথে 2GB LPDDR4 র‌্যাম থাকছে। এদের সমন্বয়ে বাজেট অনুযায়ী ভালো পারফর্মেন্সের আশা রাখতে পারেন, তাই বলে অবশ্যই ৮-১০ হাজার টাকার ফোনের সাথে তুলনা করলে হবে না।

ইনবিল্ট 16GB স্টোরেজ থাকছে, যা এই দামে ঠিক আছে, অবশ্য হয়ত এর সাথে আপনার একটি মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে, আর সেক্ষেত্রে এখানে 128GB পর্যন্ত সমর্থিত।

ক্যামেরা

ক্যামেরা সেকশনে থাকছে একটি 8MP রেয়ার ক্যামেরা ও 5MP সেলফি ক্যামেরা। জাস্ট লো বাজেটে যেমনটা দেখা যায় সেরকমই। ক্যামেরাতে কিছু AI সিন ডিটেকশন, পোর্ট্রেট মোড থাকছে।

ব্যাটারী

এখানে 3000 mAh এর ব্যাটারী থাকছে, যা এই বাজেটে ওকে। ব্যাকআপ খুব বেশি এক্সপেক্ট না করাটাই ভালো হবে, কেননা এর চিপসেট কিছুটা পাওয়ার কনজিউমিং, আর এটা এই বাজেটের সব চিপসেটের বেলাতেই প্রযোজ্য। হয়ত রেগুলার ব্যবহারে একদিন যেতেও পারে।

সেন্সর ও সিকিউরিটি

শুধু গ্রাভিটি সেন্সর উল্লেখ রয়েছে, প্রক্সিমিটি ও লাইট সেন্সর থাকছে না। আপনি হয়ত লক্ষ্য করেছেন, বিভিন্ন স্মার্টফোনে ফোনকল চলাকালীন ডিসপ্লে অন থাকলে কানের কাছাকাছি আনলে ডিসপ্লে অটোমেটিক অফ হয়ে যায়, এটা মূলত প্রক্সিমিটি সেন্সর ডিটেক্ট করে। আর লাইট সেন্সর আলো ডিটেক্ট করে অটো ব্রাইটনেস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। i98-এ এই সেন্সরদুটো ছিলো, এখানে বাদ দেয়া হয়েছে।

তবে রেখে দেয়া হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, যা খুব ভালো ব্যাপার, সিম্ফনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর প্রায় কোন বাজেটেই বাদ দেয় না। আর সেলফি ক্যামেরাভিত্তিক ফেস আনলক ফিচারও এখানে থাকছে।

অন্যান্য

ফোরজি ও ওটিজি সুবিধা থাকছে। নোটিফিকেশন লাইট থাকছে না।

মতামত

এই ফোনের ভালো দিকগুলো যদি দেখি, এর চিপসেট, র‌্যাম, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, নিচের দিকে স্পিকার ব্যাপারগুলো এই বাজেটের অনেক ফোন থেকে ভালো। এছাড়া অন্য দিকগুলোতেও যে এজন্য বড় কোন কমতি আছে, তা নয়। এই স্মার্টফোনের যে লিমিটেশনগুলো আছে তা মূলত এই বাজেটের স্মার্টফোন মাত্রই থেকে থাকে। তাই ৬০০০ টাকা যদি বাজেট হয়, i67 বেশ ভালো একটি চয়েস হতে পারে।

Loading spinner

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these <abbr title="HyperText Markup Language">html</abbr> tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*