টেলিগ্রাম: একটি অসাধারণ মেসেজিং অ্যাপ

টেলিগ্রাম একটি অসাধারণ মেসেজিং অ্যাপ। এটি মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটস অ্যাপের তুলনায় বেশি নিরাপদ এবং সুবিধাজনক। টেলিগ্রাম মোবাইল, ট্যাবলেট কিংবা ল্যাপটপ – সব ডিভাইসেই ব্যবহার করা যায়। এবং মজার ব্যাপার হলো এর একটি ওয়েব ভার্সনও আছে।

এ অ্যাপের ব্যবহারকারীগণ মোবাইল ব্যবহার না করেও একাউন্ট তৈরি কিংবা ব্যবহার করতে পারে; যা হোয়াটস অ্যাপ কিংবা ইমোর ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। ব্যবহারকারীগণ চাইলে নির্দিষ্ট ডিভাইস এর জন্য ৪ সংখ্যার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারে।

টেলিগ্রামে একাউন্ট খুলতে হলে অবশ্যই মোবাইল নম্বর ব্যাবহার করতে হবে। তবে ব্যবহারকারী চাইলে তার মোবাইল নম্বর অন্য কারো সাথে শেয়ার না করতে পারে। সাধারণত এ একাউন্ট ব্যবহার থেকে ১ বছর বিরত থাকলে একাউন্ট স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডিলিট হয়ে যায়। তবে ব্যাবহারকারী চাইলে এ সময় কমিয়ে ১ মাসেও আনতে পারে।

টেলিগ্রাম ওপেনসোর্স বিধায় আপনি চাইলে এর পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন করতে পারেন। এ অ্যাপের ব্যাবহারকারীরা চাইলে খুব সহজেই চ্যাট ডিলিট করতে পারে, অনেক বড় বড় ফাইল (১.৫ জিবি পর্যন্ত) আদান প্রদান করতে পারেন।

বলে রাখা ভালো টেলিগ্রাম সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপনমুক্ত এবং তারা স্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছে ভবিষ্যতেও কখনোই তারা বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে।। টুকটাক সহনীয় ভদ্রোচিত বিজ্ঞাপনে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু আজকাল ফেসবুক-ইউটিউবের মত বড় বড় কোম্পানিগুলোও বিজ্ঞাপনকে যেভাবে ক্রমেই চরম বিরক্তিকর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, সেদিক থেকে বিজ্ঞাপনমুক্ত হওয়া টেলিগ্রামের বড় একটি এডভান্টেজ।

গত সপ্তাহের বুধবার আমি টেলিগ্রাম ব্যাবহারের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। এখন আমি টেলিগ্রাম এর নিয়মিত ব্যাবহারকারী। এর ফিচার, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিষয়গুলি সত্যি আমাকে মুগ্ধ করেছে।

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
পিসি/মোবাইল/ওয়েব অ্যাপ

নিয়নবাতি টেলিগ্রাম চ্যানেল

হ্যাঁ, টেলিগ্রামে চ্যানেল খোলা যায়, যেখানে সাবস্ক্রাইবাররা চ্যানেলের পোস্টগুলো দেখতে পারে, তাছাড়া বিভিন্ন পোলে অংশ নিতে পারে। নিয়নবাতির টেলিগ্রাম চ্যানেলে সকলের আমন্ত্রণ রইলো, এখানে টেক আপডেট এবং ইন্টেরেস্টিং বিভিন্ন ফ্যাক্টস নিয়মিত শেয়ার করা হবে ইন শা আল্লাহ।

নিয়নবাতি টেলিগ্রাম চ্যানেল

সিগন্যাল ও টেলিগ্রাম

কিছুদিন আগে ইমরান ভাই সিগন্যাল অ্যাপটি নিয়ে একটি পরিচিতি পোস্ট লিখেছিলেন, দেখে নিতে পারেন। অনেকের হয়ত প্রশ্ন আসতে পারে, এই দুটো অ্যাপের তফাৎটা কোথায়। আমার মতে এর উত্তর হলো, সিক্যুরিটির দিক থেকে দেখলে সিগন্যাল বেশি নিরাপদ, তবে একজন সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য টেলিগ্রামের ইন্টারফেস ও ফিচার বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।

টেলিগ্রামের ক্লায়েন্ট সাইড ওপেনসোর্স, তবে এর সার্ভারসাইড পুরোপুরি ওপেনসোর্স নয়। যারা বিশুদ্ধ ওপেনসোর্স পছন্দ করেন, তাদের জন্য সিগন্যাল একটি ভালো বিকল্প। এরপর, সিগন্যালের মত টেলিগ্রাম তত বেশি সিক্যুরিটি ও প্রাইভেসি ফোকাসড নয়। যেমন, সিগন্যাল সাধারণভাবে এন্ড টু এন্ড ট্রান্সক্রিপশন ব্যবহার করে, তবে টেলিগ্রাম শুধুমাত্র সিকিউর চ্যাট ফিচারটিতে এই ফিচারটি ব্যবহার হয়।

এখানে একটি বিষয়, সাধারণভাবে টেলিগ্রাম অন্য অনেক মেসেজিং ক্লায়েন্ট থেকে বেশি সিকিউর, এটিকে অবশ্যই অনিরাপদ বলা হচ্ছে না। তবে সিগন্যালের সাথে তুলনা করা হলে সিগন্যাল এগিয়ে থাকে। তাই সিক্যুরিটি যদি বড় প্রায়োরিটি হয়, সিগন্যাল হতে পারে বেটার চয়েস।

তবে টেলিগ্রাম চালানোর অনেক কারণ আছে, যেমন আমরা টেলিগ্রামের যে ফিচারগুলো আলোচনা করেছি, তার অনেকগুলোই সিগন্যালে অনুপস্থিত। তাছাড়া, টেলিগ্রামের ইউজারবেসও খুব সম্ভবত সিগন্যাল থেকে সমৃদ্ধ। টেলিগ্রাম ইউআই বেশ সুন্দর, এর একটি ওয়েব ভার্সনও আছে, ফলে পিসিতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যাপ ইন্সটল করা আবশ্যক নয়।

3 Comments

  1. দিনে দিনে আপনাদের কন্টেন্ট আমার অনেক উপকার করছে। এগিয়ে যাক আরও অনেকের মাঝে আমাদের প্রিয় নিয়ন বাতি

Leave a Reply