Itel Vision1 Pro: আসলেই প্রো?

আসসালামু আলাইকুম। আমার একটা ধারণা ছিলো Pro বলতে একটু প্রোফেশনাল বা একটু উঁচুমানের জিনিস বোঝায়। কিন্তু মনে হচ্ছে আইটেল বাংলাদেশে তাদের খুবই জনপ্রিয় Itel Vision 1 এর ‘Lite’ ভার্সনকে ‘Pro’ নামে এনেছে, উন্নতি বলতে দেখতে সুন্দর, ডিসপ্লে বড়, আর দামটা বেশি। আরেকটা মজার ব্যাপার হলো Vision 1 আর Vision 1 Plus এর বেলায় নামের মধ্যে স্পেস ছিলো, কিন্তু এবার নাম Vision1 Pro।

এর দাম রাখা হয়েছে ৭৭০০ টাকা। প্রসঙ্গত, বর্তমানে Itel A48 এর দাম ৬৭০০ টাকা, Vision 1 এর দাম ৭০০০ টাকা, Vision 1 Plus এর দাম ৮০০০ টাকা (২/৩২) ও ৯০০০ টাকা (৩/৩২)। তবে Vision 1 ও 1 Plus এখন মার্কেটে কতটা এভেইলেবল, আমি নিশ্চিত নই। আমার ধারণা, তারা এই ফোনদুটো আর বাজারে আনবে না, যেহেতু A48 আর Vision1 Pro কাছাকাছি দামে এনেছে।

বাংলাদেশে ভিশন সিরিজের বেশ জনপ্রিয়তা আছে। হয়ত সেই নামকরণটা সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর জন্য। নাহলে Itel A48 Pro নামটা এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হতে পারতো, বেশ মিল আছে কিছুদিন আগে রিলিজ হওয়া Itel A48 এর সাথে। ওরকমই ডিজাইন, র‌্যাম-রম, চিপসেট, সাথে কিছুটা বড় ডিসপ্লে আর একটু বেটার ক্যামেরা।

কিন্তু যদি Vision 1 এর সাথে কম্পেয়ার করি, তাহলে তিনটা দিকে এটা এগিয়ে। দেখতে বেশি সুন্দর, ডিসপ্লে বড়, আর একটা বেশি ক্যামেরা আছে, যা বিশেষ কাজের না। অন্যদিকে পারফর্মেন্সে এটা একটা বড় ডাউনগ্রেড, লো পাওয়ারফুল চিপসেটের ফলে থাকছে অ্যান্ড্রয়েডের গো এডিশন, স্পিকার গ্রিলস থাকছে নিচের দিকে এবং তারপরও দাম বেশি।

Vision 1 Plus এর সাথে তুলনা করলে ক্যামেরার সংখ্যা একটি বেশি, এটাই শুধু উন্নতি। ৩০০ টাকা কমের বিনিময়ে পারফর্মেন্স, সফটওয়্যার, স্পিকার পজিশন, ব্যাটারীতে কম্প্রোমাইজ করতে হচ্ছে। তো যাই হোক, সংক্ষেপে আইটেলের কিছু ফোনের সাথে কম্পেয়ার করে নিলাম তুলনামূলক ধারণা দেয়ার জন্য, এখন ফোনের ব্যাপারে আসি।

Cosmic Shine

ডিজাইন অবশ্যই সুন্দর বলতে হয়, এই দামের মধ্যে এরকম খুব একটা দেখা যায় না। ট্রেন্ডি ক্যামেরা বাম্প, গ্রাডিয়েন্ট কালার, সাথে শাইনিং ইফেক্ট, আর খুব সম্ভবত ম্যাট ফিনিশ একে অন্যরকম সৌন্দর্য্য দিয়েছে। Cosmic Shine কালারটি বিশেষ করে পছন্দ হয়েছে। অন্য কালারটি Ice Crystal Blue। এর ব্যাকপার্ট রিমুভেবল।

Ice Crystal Blue

সামনে থেকেও ফোনটি কিন্তু বেশ সুন্দর, V-শেপ নচ, চিন বেজেল বাজেট অনুযায়ী বেশি নয়। ডিসপ্লে সাইজ 6.5″, যেটা এই দামের মধ্যে আকর্ষণীয়। থিকনেসও কম, 8.5mm, তবে এর কারণ হলো এখানে Vision 1 এর মত 4000 mAh ব্যাটারী থাকছে, যেখানে Vision 1 Plus-এ 5000 mAh ব্যাটারী দেয়া হয়েছিলো।

4000 mAh ব্যাটারীকে চার্জ করার জন্য ফাস্ট চার্জ তো থাকছেই না, এমনকি এখন 10W চার্জিং রেগুলার ধরা হয়, কিন্তু এখানে 5W। ফলে পুরো চার্জ হতে বেশ ভালোই সময় অপেক্ষা করতে হবে। আর অবশ্যই চার্জিং পোর্ট মাইক্রোইউএসবি টাইপ বি, আর ইয়ারফোন জ্যাক থাকছে।

রেয়ারে তিন-তিনটি ক্যামেরা, সাথে সেই স্টাইলিশ ক্যামেরা বাম্প দেখে ধোঁকা খেয়ে হবেন না, ওতে একটা ক্যামেরা হলো 8MP, আর দুটো কী সেটা তারা ওয়েবসাইটে বলে পর্যন্ত নি। অনুমান করতে পারছি এর একটি হলো ডেপথ সেন্সর, অন্যটি AI লেন্স হয়ে থাকবে। আর সামনের ক্যামেরাটি 5MP।

তবে এর থেকে খারাপ ব্যাপার হলো এর চিপসেট, Unisoc SC9832E। এটি একটি কোয়াড কোর চিপসেট, যার সবগুলো কোর ARM Cortex A53, যাদের ক্লকস্পিড 1.4 GHz, জিপিইউ Mali T820, আর্কিটেকচার 12nm। এটা একদমই লো বাজেটের জন্য, ৫-৬ হাজার টাকায় ভালো, কিন্তু ৭৭০০ টাকার উপযুক্ত চিপসেট এটা নয়।

চিপসেটের জন্য আরো একটি লিমিটেশন মেনে নিতে হচ্ছে, এখানে থাকছে Android 10 Go Edition। গো এডিশন হলো অ্যান্ড্রয়েডের লাইট ভার্সন, যা লো কনফিগারেশন ফোনের উপযুক্ত করে তৈরি এবং স্বাভাবিকভাবেই ফিচারের দিক থেকে কিছুটা কম।

বাই দা ওয়ে, ফোরজি সমর্থন থাকছে, থাকছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও ফেস আনলক। এখানে ২ জিবি র‌্যাম আর ৩২ জিবি ইন্টার্নাল স্টোরেজ থাকছে। দাম হিসেবে এটা ঠিক আছে, আর এসডি কার্ড ব্যবহারের সুযোগও আছে।

সবশেষে, ফোনটির কিছু ভালো দিক তো আছে, যেমন ডিজাইন আর ডিসপ্লে। তবে এমন কিছু লিমিটেশন আছে, বিশেষ করে এর চিপসেট, ক্যামেরা, স্লো চার্জিং যা ৭৭০০ টাকা বাজেটে এসে আসলে মেনে নেয়া কঠিন। ৭০০০ টাকার মধ্যে হলে হয়ত ওভারঅল এটা খারাপ ছিলো না, তবে ৭৭০০ টাকায় আমি এটা সাজেস্ট করতে পারছি না।

আমার কাছে মনে হয়েছে ৮৩০০ টাকায় Symphony Z16 এর থেকে অনেক বেটার। ৬০০ টাকা বাড়তি দামের বিনিময়ে পাচ্ছেন ফুল অ্যান্ড্রয়েড ১০, 10W চার্জিং, বেটার চিপসেট (Helio A25, 12nm 1.8GHz Octacore A53), আল্ট্রাওয়াইডসহ বেটার ক্যামেরা সিস্টেম মিলিয়ে বেশ ভালো একটা প্যাকেজ। তো, আমার মনে হয়েছে যদি বাজেট একটু বাড়াতে পারেন, তাহলে এটা দেখতে পারেন।

এছাড়া সামনে কিন্তু Symphony Z18 আসছে, সেটি সম্ভবত Vision1 Pro-র দামের আশেপাশেই থাকবে। ফুল অ্যান্ড্রয়েড ১০, 10W চার্জিং, Unisoc SC9863A (28nm 1.6GHz Octacore A55), বেটার ক্যামেরা (আল্ট্রাওয়াইড নেই), 5000 mAh ব্যাটারী থাকছে সেখানে, ডিজাইনটাও সুন্দর, সেটির জন্য অপেক্ষা করতে পারেন। বিস্তারিত এখানে

আইটেলের মধ্যে Itel Vision 1 Plus 2/32 যদি পাওয়া যায়, সেটি দেখতে পারেন, 5000 mAh ব্যাটারী, Unisoc SC9863A পাচ্ছেন, বেটার ক্যামেরা (আল্ট্রাওয়াইড নেই) পাচ্ছেন এখানে। তবে 2/32 ভার্সনে চার্জিং 5W-ই পাচ্ছেন, আর থাকছে কিছুটা পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ৯।
Loading spinner

One Reply to “Itel Vision1 Pro: আসলেই প্রো?”

  1. ইমরান says: December 5, 2020 at 7:05 am

    Excellent review 👍👌☺️

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these <abbr title="HyperText Markup Language">html</abbr> tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*