মাসখানেক ফিডোরার সাথে খুব ভালো কাটেনি…

তো আমার আগের পোস্টে যেমনটা বলেছিলাম, ফিডোরাতে দীর্ঘদিন স্থায়ী হওয়ারই চিন্তা ছিলো, যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে। এটা সে পোস্টের আপডেট বলা যায়। তো না, সবকিছু ঠিকঠাক থাকেনি, প্রায় এক মাসের মত ব্যবহারের পর আমি সিদ্ধান্তে উপনীত হই, তা হলো ফিডোরাতে বেশিদিন কাটানোর চিন্তা খুব সুবিধাজনক হবে না। পৃথিবীতে কোনকিছু পারফেক্ট না, অবশ্যই কিছু সমস্যা থাকবে যা হয়ত সমাধান করতে হবে, অথবা মেনে নিতে হবে। কিন্তু কখনো কখনো সমস্যাগুলোর সমাধান খোঁজার চেয়ে যদি থাকে তো বিকল্প পথ বেছে নেয়াটাই শ্রেয় বোধ হয়।

তো শুরুতে বলি যে সমস্যাটা আমাকে ফিডোরা ছাড়তে মোটামুটি বাধ্য করেছে, তা হলো জুম ও টেলিগ্রামে অনলাইন ভিডিও চ্যাটে স্ক্রিন শেয়ার করতে না পারা। কল চলাকালীন কথা বলা বা শোনা, ক্যামেরা ভিডিও অন করা নিয়ে কোন সমস্যা না থাকলেও স্ক্রিন শেয়ার কাজ করছিলো না। ফিডোরা মডার্ন Wayland ডিসপ্লে সার্ভার বাই ডিফল্ট ব্যবহার করে, পাশাপাশি লিগ্যাসি X11 সার্ভারে সুইচের সুবিধা আছে। X11 অনেক পুরনো প্রযুক্তি, ওয়েল্যান্ড অনেক দিকে উন্নত হলেও তুলনামূলক নতুন হিসেবে এখনো সবকিছু ওয়েল্যান্ডের সাথে প্রোপারলি অপটিমাইজড নয়। তাই X11-এ সুইচ করে সমস্যাটি হয় কিনা দেখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু স্ক্রিন শেয়ার তো পরের কথা, X11-এর সাথে টেলিগ্রাম কলসহ অনেক কিছু একদমই কাজ করে না, পুরো ডেস্কটপে স্ল্যাগিশ একটা ফিল, মূলত ব্যবহারের অনুপযুক্ত একটা অবস্থা। আমি জানি না কেন।

এরর রিপোর্ট নোটিফিকেশনের দেখা অনেকবারই পেয়েছি। টেলিগ্রাম ক্র্যাশ করার প্রবলেমটা সবচেয়ে কমন ছিলো, যদিও সেটা মূলত স্ক্রিন লক হওয়ার পর আনলক করলে বা এরকম ক্ষেত্রে, ব্যবহার করতে করতে ক্র্যাশ করত এমন না। প্রিন্টার ড্রাইভার ইন্সটলেও প্রথমে সমস্যা হচ্ছিলো, পরে অবশ্য সেটআপ করা গেছে। কোডব্লকস নিয়েও সমস্যা পেয়েছিলাম। এবং টুকটাক কিছু ইস্যু, এককভাবে নগন্য হলেও সবকিছু মিলিয়ে বেশ বিরক্তির একটা পর্যায়ই তৈরি করেছিলো।

এটা অবশ্যই বলবো, এরকম ইস্যুগুলো যদি না থাকতো, তবে ফিডোরা অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অনেক দিক থেকে চমৎকার লেগেছে। সফটওয়্যার ম্যানেজমেন্ট, রিলিজ শিডিউল, ব্যাটারী ব্যাকআপ, পিওর গ্নোম, গ্রুপ ইন্সটলেশন ফিচার অনেককিছু দারুণ ছিলো। গ্নোম ৪১ আরেকটা দারুণ জিনিস, ওভারভিউ, জেসচার, এনিমেশন মিলিয়ে পিসি ব্যবহারের অন্যরকম একটা ফিল দেয়। কিন্তু সমস্যাগুলো একচুয়ালি ডিলব্রেকিং পর্যায়ের।

ফিডোরা: ড্যাশ টু প্যানেল, Layan থিম, Tela আইকনের সাথে

প্রসঙ্গত, আমি যখন ফিডোরা ২৯ প্রথম ব্যবহার করেছিলাম, তখন শুরুতে পিওর গ্নোম ডিজাস্টার লাগলেও, কয়েকদিনে অভ্যস্থ হয়ে উঠলে ভালো লাগতে শুরু করলো। কিন্তু ওখানেও ছিলো একটা বিশাল প্রবলেম, গ্নোম শেলে মাঝেমাঝেই কার্সর অদৃশ্য হয়ে যেতো। যদ্দুর মনে পড়ে, অ্যাপ্লিকেশনে কার্সর দেখা যেত, কিন্তু প্যানেল বা ওভারভিউ বা অ্যাপ গ্রিড তথা শেলে অদৃশ্য হয়ে থাকতো। আর যতটুকু বুঝলাম, ফিডোরাতে টুকটাক বাগস সবসময়ই ছিলো, আমার বেলায় হয়ত সেটা কিছুটা বেশিই পেয়েছি।

বর্তমানে আমি ফিডোরার পরিবর্তে মানজারো কেডিই ইন্সটল করেছি। গ্নোম আর কেডিই-র আলাদা স্ট্রেন্থ আছে। গ্নোমের ওয়ার্কফ্লো, আই-ক্যান্ডি এনিমেশন, জেসচার তাদের অনেক লিমিটেশন পুষিয়ে দেয়, যদিও পরবর্তী গ্নোম ৪২-এর থিমিং সাপোর্ট বাদ পড়াটা আমার কাছে কনসার্নিং-ই। গ্নোম আর কেডিই দুই মেরুর জিনিস বলা যায়, কেডিই সর্বোচ্চ প্রিফারেন্স দেয়ার পক্ষে, গ্নোম বেশি প্রিফারেন্সের পরিবর্তে সলিড এক্সপ্রেরিয়েন্স নিশ্চিত করার পক্ষে। এবং দুটোতেই ভালো লাগার আলাদা উপাদান আছে আমি বলবো।

2 Comments

  1. আপনার সাধারণ লেখাগুলোই অসাধারণ ভাবে পড়ি। ব্লগ পড়ার প্রতি আমার একটা আলাদা ভালোবাসা আছে। আগে নিয়মিত লিখতাম ও, ঈদানিং আর পারিনা। ১৪ সালের দিকে টেকটিউনস এর ভক্ত ছিলাম, ১২-১৩তে ইন্টারনেট এক্সেস বলতে জাভা ফোন থেকে শুধু ফেসবুক ব্রাউজিং বুঝতাম৷ ১৪ তে যখন প্রথম পিসি হাতে পাই তখন টেকটিউনস চিনলাম, টেকপ্রেমী হিসেবে আমি যেন চাঁদ হাতে পেয়েছিলাম। কলেজ, কোচিং যেখানেই যেতাম মন যেন ব্লগে পরে থাকতো। এক সময় অবশ্য সেসময়ের জৌলুশ টা হারিয়েই গেলো। এখন তো একেবারেই নেই৷ এখন ইংরেজি ব্লগ পড়া হয়, তবে বাধ্য হয়ে। প্রফুল্লতার সাথে বাংলা ব্লগ পড়ার মজা নিয়ন বাতিই দিয়েছে৷ এই একটা বাংলা ব্লগে আমি ঘুড়ে ফিরে আসি। ভালো লাগে। নিয়নবাতি দীর্ঘজীবী হোক।

Leave a Reply