Tecno Spark 6: টেকনোর পক্ষ থেকে রিজেনবলি প্রাইসড ফোন

যখন দেখেছিলাম টেকনো Helio G70 দিয়ে ফোন আনছে, তখন ভয় লাগছিলো দাম আবার ২০ হাজার দিয়ে না বসে, কেননা যে কোম্পানি কিছুদিন আগেও Tecno Spark 6 Air-এ ১০ হাজারে Helio A22 আর ১১ হাজারে A25 দিয়েছিলো, তাদের কাছ থেকে G70-র ফোনের দাম ২০ হাজার অস্বাভাবিক না। তবে তারা Tecno Spark 6 এনেছে মাত্র ১৪ হাজারে, যেটা স্পেকের হিসেবে টেকনোর পূর্ববর্তী ফোনগুলোর তুলনায় অনেক রিজনেবল।

খুব সম্ভবত টেকনোর কোন ফোন এবারই প্রথমবারের মত আমার কাছে ওভারপ্রাইসড মনে হয়নি। ভালো চিপসেট, ঠিকঠাক র‍্যাম, পর্যাপ্ত স্টোরেজ, বড় ডিসপ্লে মিলিয়ে ফোনটি বেশ। তবে কিছু জায়গায় কস্ট কাট অবশ্যই করতে হয়েছে এবং মার্কেটও এখন বেশ কম্পিটিটিভ, তো সব মিলিয়ে ফোনটি কেমন হতে পারে তা নিয়ে আমার মতামত শেয়ার করছি এই লেখায়।

ডিজাইনের কথা থেকেই শুরু করি। Spark 6 Air এর ডিজাইন আমার বেশ পছন্দ ছিলো, Spark 6-এর ডিজাইন খারাপ না, ক্যামেরা মডিউলটা বেশ সুন্দর, তবে মনে হচ্ছে এর সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটা যেন ঠিক মানাচ্ছে না। হয়ত অনেকের ভালোই লাগবে। বাংলাদেশে ফোনটি দুটি কালার ভ্যারিয়েন্টে আনা হয়েছে, Ocean Blue, Comet Black।

Tecno Spark 6 প্লাস্টিকে তৈরি এবং এটা দেখতেও প্লাস্টিকের মতই, অর্থাৎ, কিছু প্লাস্টিক বিল্ড ফোনে এখন গ্লাস ধরণের একটা লুক দেয়া হয়, এখানে তেমনটা করা হয়নি। আর ডিসপ্লেতেও কোন গরিলা গ্লাস প্রটেকশন থাকছে না। ডিসপ্লের কথায় যখন চলে আসলাম, 6.8″ হিউজ IPS ডিসপ্লে থাকছে এখানে, আর এই ডিসপ্লেটিতে থাকছে পাঞ্চহোল, যা এই দামে বেশ ভালো। চিন এরিয়া কিছুটা আছে, যেটা ওকে বলব। তবে খারাপ দিক হলো এর রেজ্যুলেশন, HD+ (1640*720)।

ক্যামেরা সেকশনে ফোনটিতে থাকছে 16MP প্রাইমারী ক্যামেরা, যার অ্যাপার্চার f/1.8 এবং 8X ডিজিটাল জুম সমর্থন করে। বাজেট অনুযায়ী এটা ঠিকঠাকই হবে আশা করি। তবে টেকনো, ইনফিনিক্সের অন্য বিভিন্ন ফোনের মত এখানেও রেয়ারে ক্যামেরা ৪টা দেওয়া হয়েছে বটে, তবে প্রাইমারী বাদে বাকিগুলো 2MP Depth, 2MP Macro, AI len। 8MP সেলফি ক্যামেরা। ফ্রন্ট ক্যামেরাতে তারা ফ্ল্যাশ যুক্ত করে দিয়েছে যেটা একটা সুন্দর ব্যাপার।

তবে এই ফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই এর Helio G70 চিপসেট, এর আগের Tecno Spark 5 Pro-তে যেখানে ছিলো Helio A25, এবার তারা সেখান থেকে হিউজ রকমের আপগ্রেড এনেছে। এই বাজেটে Helio G70 খুব পাওয়ারফুল চিপসেটগুলোর একটি। 12nm এই চিপসেটে সিপিইউ আছে ২টি ARM Cortex A75@2.0GHz এবং ৬টি Arm Cortex-A55 @ 1.7GHz। জিপিইউ Arm Mali-G52 MC2@820MHz। Snapdragon এর সাথে তুলনা করলে এটা Snapdragon 675 এর কাছাকাছি।

4GB র‍্যাম থাকায় এই বাজেট অনুযায়ী মাল্টিটাস্কিং ঠিকঠাকই হবে আশা করি, আর সাথে ফাইল স্টোর করারও সুযোগ থাকছে পর্যাপ্ত, কেননা ইনবিল্ট স্টোরেজ দেওয়া হয়েছে 128GB, আর তাতেও যদি না হয়, এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা তো আছেই!

Spark 6 Air-এ ব্যাটারী ছিলো 6000 mAh, এখানে কিছুটা কম, 5000 mAh, তারপরও বেশ বড় ব্যাটারীই আছে। তবে থিকনেস এখানে কিছুটা বেশি 9.2mm। ভালো ব্যাপার হলো এই ফোনে 18W ফাস্ট চার্জিং সমর্থিত। চার্জার তারা বক্সেই দিয়ে দিয়েছে, তবে সেটি 10W-এর। আর এর চার্জিং পোর্ট মাইক্রোইউএসবি টাইপ বি।

ফোনটির সেন্সর সেকশনে ম্যাগনেটোমিটার (কম্পাস ব্যবহারের জন্য) ও জাইরোস্কোপ (ত্রিমাত্রিক কৌণিক বিন্যাস নির্ণয়ের জন্য, যা ৩৬০ ডিগ্রি কনটেন্ট উপভোগে সহায়ক) সেন্সরের দুটোই অনুপস্থিত। শুধু জি-সেন্সর (ত্রিমাত্রিক ত্বরণ পরিমাপের জন্য), প্রক্সিমিটি সেন্সর (ফোনের নিকটে কোন কিছুর উপস্থিতি ডিটেক্ট করার জন্য, এর ব্যবহারের উদাহরণ, ফোন কল চলাকালীন কানের কাছে নিলে ডিসপ্লে স্বয়ংক্রিয় বন্ধ হয়ে যায়) ও এম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর (চারপাশের আলো ডিটেক্ট করে অটো ব্রাইটনেস কন্ট্রোলের জন্য) আছে।

কিন্তু আমার মতে এই বাজেটে এই ফোনের সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি হলো এখানে ইয়ারপিস বাদে আলাদা কোন স্পিকার নেই। ফলে লাউডস্পিকারের সাউন্ড কোয়ালিটি ও লাউডনেসে একটা দুর্বলতা থাকছে। এবং ফোনের ক্ষেত্রে সাউন্ড আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তো এই বাজেটে এসে এরকম একটা জায়গায় কস্ট কাটিং ঠিক মেনে নেয়া যায় না।

এবং সফটওয়্যারের কথা যদি বলি, এখানে থাকছে HiOS 7.0, বেজড অন Android 10। আমি কখনো HiOS ব্যবহার করিনি, তবে আমার জানামতে এই ইউআইয়ে বেশ বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয় এবং ফোনের ইউআইয়ে বিজ্ঞাপন থাকাটা আমার খুবই অপছন্দ।

সব মিলিয়ে সামারাইজ করলে টেকনোর এই স্মার্টফোনটির প্রশংসা করতে হয়, তাদের আগের ফোনগুলো থেকে বড় ধরণের আপগ্রেড অবশ্যই। তবে ডিসপ্লে রেজ্যুলেশন, আলাদা স্পিকার না থাকা, সেন্সরের কমতি, নামেমাত্র কোয়াড ক্যামেরা সেটআপ এরকম কয়েকটি দিক একটু খারাপ লেগেছে। তবে যদি ভালো পারফর্মেন্সের পাশাপাশি একটা হিউজ পাঞ্চহোল ডিসপ্লে আপনার পছন্দ হয়, তাহলে এটা ভালোই বলব।

এছাড়া ১৫ হাজার টাকায় Redmi 9 অনেকের জন্য বেটার ডিল হতে পারে। ডিসপ্লে রেজ্যুলেশন, গরিলা গ্লাস প্রটেকশন, চিপসেট, ক্যামেরা, সেন্সর সেকশনগুলোতে সেটি বেটার, আর অবশ্যই সেখানে আলাদা স্পিকার থাকছে, থাকছে ইউএসবি টাইপ সি। যদিও এখানে পাঞ্চহোল ডিসপ্লে নেই, ডিসপ্লে সাইজ 6.53″, দাম এক হাজার টাকা বেশি।

নিয়নবাতি স্কোর

কোন ফোন কতটা ভ্যালু ফর মানি তা নির্ণয়ের জন্য আমাদের বিশেষায়িত একটি স্কেল হলো নিয়নবাতি স্কেল। এখানে ৫০ পেলে তা বাজেট অনুযায়ী ঠিকঠাক একটি ডিভাইস, ৬০ এর বেশি পাওয়া অর্থ হলো ভালো একটি ডিল এবং ৭০ এর বেশি পেলে গ্রেট ভ্যালু ফর মানি।

  • ডিজাইন: ৫/৮
  • বিল্ড: ৪/১০
  • ডিসপ্লে: ৭/১২
  • ক্যামেরা: ৬/১৫
  • ব্যাটারী ও চার্জিং: ৬/১০
  • চিপসেট ও র‍্যাম: ১৯/২৮
  • স্টোরেজ: ৫/৭
  • অন্যান্য: ৩/১০

মোট স্কোর: ৫৫/১০০

তথ্য ও ছবি

Loading spinner

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these <abbr title="HyperText Markup Language">html</abbr> tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*