NexPhone: এটা একটা উইন্ডোজ ফোন, লিনাক্স ফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন! (এবং পার্সোনাল কম্পিউটার!)

আসসালামু আলাইকুম। তো মার্কেটের মেইনস্ট্রিম স্মার্টফোনগুলো নিয়ে আমি এখন যখন লিখি, সাধারণত GR+ BD-তে, লেখার একটাই উদ্দেশ্য থাকে, লেখালেখিতে নিয়মিত থাকা। কারণ সত্যি বলতে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো সবাই একইরকম স্মার্টফোন তৈরি করে যাচ্ছে। বোরিং একটা অবস্থা, যেটা কিছুটা তুলে ধরেছিলাম এখানে, প্রযুক্তি এবং পরিবর্তন: যেকারণে লেখালেখি কঠিন হয়ে উঠেছে

তবে মেইনস্ট্রিম মার্কেটের বাইরে কখনো কখনো কোন কিছু যে এক্সাইটমেন্ট তৈরি করে না, এমন না। NexPhone তেমন একটা স্মার্টফোন। এটা একইসাথে একটা উইন্ডোজ ফোন, লিনাক্স ফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন। এবং যখন আপনি এটা একটা এক্সটার্নাল মনিটর ও মাউস-কীবোর্ডের সাথে কানেক্ট করবেন, এটা একটা পার্সোনাল কম্পিউটারে পরিণত হবে!

NexPhone একইসাথে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, লিনাক্স ফোন এবং উইন্ডোজ ফোন

তো NexPhone এর কনসেপ্ট তারা শেয়ার করেছিলো ২০১২ সালে, ১৪ বছর আগে! কাইন্ড অফ অভিয়াস, কিন্তু বেশ ক্রিয়েটিভ একটা কনসেপ্ট- একটা স্মার্টফোন, যেটা ট্যাবলেট কিংবা ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ কম্পিউটারে পরিণত হতে পারবে। অর্থাৎ, একটা ডিভাইসের মধ্যেই আপনার সবরকম ফাইল, মিডিয়া থাকবে। যেটা সাধারণভাবে স্মার্টফোন হিসেবে ব্যবহার হবে, আবার মনিটর বা পেরিফেরাল ডিভাইসের সাথে কানেক্ট করে কম্পিউটারে পরিণত করা যাবে।

কনটেক্সটের জন্য Nex কোম্পানির আরেকটা ইন্টারেস্টিং প্রোডাক্ট নিয়ে কথা বলা যাক, NexDock Touch। এটার আইডিয়া হলো একটা ল্যাপটপ, যেখানে টাচ ডিসপ্লে, মাউস, টাচপ্যাড, পোর্টস, স্পিকার, ব্যাটারী সব আছে, কিন্তু ভেতরে কম্পিউটারটাই নেই- মানে প্রসেসর, র‌্যাম, হার্ডডিস্ক কিছুই নেই! এটা সত্যিকারের ল্যাপটপে পরিণত হবে যখন এর সাথে রাস্পবেরী পাই কিংবা ডেস্কটপ মোডসহ অ্যান্ড্রয়েড (যেমন- Samsung on Dex) বা যেকোন কম্পিউটার (সিপিইউ) কানেক্ট করবেন।

ছবি: NexDock

এবং তাদের অতীতে আনা আরেকটি প্রোডাক্ট হলো NexPad, যেটা আপনার ডেস্কটপ মোড সমর্থিত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলকে একটা ট্যাবলেটে পরিণত করবে অথবা সেকেন্ডারি ডেস্কটপ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।

সবশেষে NexPhone হলো এমন একটা ফোন, যেটা একইসাথে অ্যান্ড্রয়েড, ডেবিয়ান লিনাক্স ও উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেম সমর্থন করে। সো, অন দা গো-তে আপনি এটা অ্যান্ড্রয়েড হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। মনিটর ও অন্যান্য পেরিফেরালসের সাথে যুক্ত করে কম্পিউটার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। আর হ্যা, অবশ্যই NexDock এর সাথেও এটা কানেক্ট করা যাবে।

লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম

অ্যান্ড্রয়েডের মধ্যে থেকে অ্যাপস হিসেবে এখানে দেয়া আছে পূর্ণ ডেবিয়ান লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম। জিপিইউ এক্সেলেরেশন থাকাতে সাধারণ ব্যবহার, যেমন- স্কুল বা অফিস ব্যবহারকারীদের বেশ স্মুথলি সাপোর্ট দিতে পারবে ডিভাইসটি। এটা কোন মোবাইল লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম নয়, ফুল-ফিচার্ড ডেস্কটপ সংস্করণ, কেডিই প্লাজমা ডেস্কটপের সাথে।

মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে এর এক্সপ্রেরিয়েন্স যদিও সেভাবে সম্ভব না, এক্সটার্নাল মনিটর এবং মাউস ও কীবোর্ডের সাথে কানেক্ট করে নিলে এর পূর্ণ এক্সপ্রেরিয়েন্স পাওয়া যাবে। সেজন্য NexPhone এর সাথে থাকছে একটি ৫-পোর্ট ইউএসবি সি হাব, যেখানে আছে একটি HDMI পোর্ট, দুটি করে টাইপ-এ ও টাইপ-সি পোর্ট। অথবা কানেক্ট করে নেয়া যেতে পারে NexDock-এর সাথে।

লিনাক্স ও অ্যান্ড্রয়েড এখানে একই ফাইলসিস্টেম শেয়ার করবে, অর্থাৎ মিডিয়া ও ফাইলগুলো দুই অপারেটিং সিস্টেমেই একসেস করা যাবে। এক্সটার্নাল মনিটরে কানেক্ট করে লিনাক্স চালু রেখে একইসাথে মোবাইলে অ্যান্ড্রয়েডও এক্সেস করা যাবে। ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যান্ড্রয়েড চালু থাকার প্রভাব লিনাক্সের এক্সপ্রেরিয়েন্সে কতটা পড়বে, এই প্রশ্ন আসবে, তবে হার্ডওয়্যারের দিক থেকে NexPhone বেশ ক্যাপাবল।

উইন্ডোজ ফোনের ফিরে আসা?

তবে এই সবকিছুর মধ্যে এই ফোনের অন্যতম আকর্ষণ হলো উইন্ডোজ সমর্থন। উইন্ডোজ ফোনের ফিরে আসা? পুরোপুরি না। এটা উইন্ডোজ মোবাইল না, ডেস্কটপ Windows 11 এর ARM প্রসেসর উপযোগী সংস্করণ।

তবে উইন্ডোজ মোবাইলকে কিছুটা হলেও তারা ফিরিয়ে এনেছে এখানে। মোবাইল স্ক্রিনে ন্যাভিগেশনের জন্য তারা টাইলিং ইন্টারফেস সহ উইন্ডোজ ফোনের মত ইউআই তৈরি করেছে। এখানে স্বচ্ছন্দ্যে ইউআই ন্যাভিগেশন বা ওয়েব অ্যাপ যেখানে চালানো যাবে। তবে উইন্ডোজের সাধারণ সফটওয়্যারগুলো যেহেতু মোবাইল ডিভাইস ফ্রেন্ডলি না, কাজেই এটাও মূলত ডেস্কটপ মোডে চালানোর জন্য উপযোগী।

তবে উইন্ডোজ এখানে ডুয়াল বুটে আছে। উইন্ডোজ এক্সেস করতে হলে মোবাইল রিস্টার্ট করে চালু হওয়ার সময় সিলেক্ট করতে হবে। অ্যান্ড্রয়েড+লিনাক্স একই ফাইলসিস্টেমে থাকলেও উইন্ডোজ আলাদা ফাইলসিস্টেম ব্যবহার করাতে উইন্ডোজ থেকে অ্যান্ড্রয়েড+লিনাক্সের ফাইল এক্সেস করা যাবে না।

হার্ডওয়্যার

তো যখন আমরা এরকম মেইনলাইনের বাইরে কোন ফোন নিয়ে কাজ করতে দেখি, সাধারণত বাদবাকি স্মার্টফোন মার্কেটের সাথে কম্পেয়ারেবল জায়গায় সেগুলো থাকে না। যেহেতু প্রোডাকশন সংখ্যা কম, বা রিসার্চ-ডেভেলোপমেন্টের হিউজ একটা ব্যাপার আছে- তো কনফিগারেশনে বড় একটা কাট হয় সব মিলিয়ে।

কিন্তু যখন শুধু হার্ডওয়্যারের জন্য NexPhone আপনি কিনবেন না, এর কনফিগারেশন আমার কাছে সারপ্রাইজিং ব্যালেন্সড ও ভালো মনে হয়েছে। এবং রিয়েলিটি মাথায় রেখে প্রি-অর্ডারের আর্লি-বার্ড প্রাইসট্যাগ $549-ও একটা আকর্ষণীয় দাম। বর্তমানে $199 দিয়ে প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে, বছরের তৃতীয় চতুর্ভাগে চেকআউটের সময়ে বাকি $350 ও ডেলিভারি চার্জ/ট্যাক্স প্রভৃতি পরিশোধ করতে হবে।

তবে হ্যা, প্রি-অর্ডারে থাকলেও এটা কিন্তু এখন স্রেফ প্রটোটাইপ পর্যায়ে না। একচুয়াল ডিভাইসের হ্যান্ডস অন এক্সপ্রেরিয়েন্সসহ রিভিউ রয়েছে এখানে

সো, ফোনটা রাগেড ধরণের। রাবারাইজড ফিনিশের সাথে MIL-STD-810H স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে তৈরি। থাকছে IP68 ও IP69K প্রোটেকশন। অর্থাৎ ড্রপ, ডাস্ট, ওয়াটার স্প্ল্যাশ বা ইমার্শন সব ধরণের পরিস্থিতির জন্য ফোনটা সাজানো। ফোনটার ওজন আর থিকনেস স্ট্যান্ডার্ড থেকে একটু বেশি- 256 g আর 13.1 mm। কিন্তু সিরিয়াসলি, বরং এইটা একটা লেসন যে কিছু সংখ্যা কমিয়ে আনার থেকেও স্মার্টফোনে আরো ভালো কিছুতে ইনোভেশনের জায়গা আছে।

এই ফোনে ব্যবহার হয়েছে Qualcomm QCM6490, যেটা SD778G এর ওপর বিল্ড করা- তবে এই চিপটির বিশেষত্ব হলো এটা ২০৩৬ পর্যন্ত লং টার্ম সাপোর্টেড, এবং Windows on Arm এটা অফিসিয়ালি সমর্থন করে। মূলত অ্যান্ড্রয়েড, লিনাক্স ও উইন্ডোজ একইসাথে সাপোর্ট দেয়ার জন্য এটা একটা ইউনিক অপশন এবং SD778G, একদম লেটেস্ট না হলেও মিড বাজেটের জন্য ভালো একটি চিপসেট।

র‌্যাম থাকছে 12 GB, 256 GB স্টোরেজের সাথে 512 GB পর্যন্ত মাইক্রোএসডি সাপোর্ট। ডুয়াল সিম 5G। থাকছে 6.58″ LCD 120 Hz ডিসপ্লে, গরিলা গ্লাস 3 প্রোটেকশন। রেয়ার ক্যামেরাতে 64MP — Sony IMX787, 13MP ultrawide — Samsung S5K3L6XX এবং ফ্রন্ট ক্যামেরাতে 10MP — Samsung S5K3J1SX ব্যবহার হয়েছে। 5000 mAh ব্যাটারীর সাথে 18W চার্জিং থাকছে, রয়েছে ওয়ারলেস চার্জিং সাপোর্ট। এবং দেয়া আছে জাইরোস্কোপ ও কম্পাসসহ প্রয়োজনীয় সেন্সগুলো।

NexPhone

টেলিগ্রাম গ্রুপ: নিয়ন আলাপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *