আসসালামু আলাইকুম।
জাভা কিংবা সিম্বিয়ানের মূল উন্মাদনা যখন ছিলো, বোধহয় ২০১০ এর দিকের সময়টাতে, তখন আমি তার অংশ ছিলাম না। অন্যদের নোকিয়া মোবাইলে গেম খেলার স্মৃতিগুলো বাদে ফিচার ফোনের সাথে আমার গভীর সখ্যতা হয়েছে নাইন-টেন আর কলেজের সময়টাতে, বলা যায় ২০১৭-২০২১। তদ্দিনে অ্যান্ড্রয়েড আমাদের বাসাসহ সবার কাছে পৌঁছে গেছে, ফিচার ফোনের বৈচিত্র আর উন্মাদনা অনেকটাই কমে গেছে।
Walton Olvio সিরিজের কোন একটা ফোন ছিলো আমার প্রথম নিজের ফোন, তবে ওটার সাথে বিশেষ কোন স্মৃতি মনে নেই। এরপর Symphony D101, Itel IT5081 আর IT5320। এই সবগুলো ফোনেই অপেরা মিনি, জাভা (J2ME) সমর্থন ছিলো। D101 আর IT5320-তে আবার ডুয়াল ক্যামেরা ছিলো, বিশেষ করে D101-এর 0.3 MP ক্যামেরা বেশ ভালোই ছবি তুলতো (বাটন ফোন স্ট্যান্ডার্ডে)। সত্যি বলতে আমার অ্যান্ড্রয়েডে আমি বেশি সেলফি তুলেছি, না ফিচার ফোনে- আমি নিশ্চিত না।
তো বুঝতেই পারছেন, ফিচার ফোন আমার কাছে শুধু কল যাওয়া আসার যন্ত্র না। ব্যাগের মধ্যে ফোন রেখে ফেসবুক চালানো অথবা Diamond Rush কিংবা R6Vegas খেলা, অথবা সাইমুম সিরিজের বড় একটা অংশ অপেরা মিনিতেই পড়ে শেষ করা, অথবা Symphony D101 দিয়ে এক্সট্রিম স্পোর্টস, মানে ক্যাচ ক্যাচ খেলা- স্মৃতির তালিকাটা দীর্ঘ (আর অদ্ভুত…)।
তো মাঝখানে ফিচার ফোনের বাজারটা বৈচিত্রের সবকিছুই প্রায় হারিয়েছিলো। বড় ডিসপ্লে, বড় ব্যাটারী- এবং এখানেই শেষ। তারপর অ্যান্ড্রয়েডের মত ফর্ম-ফ্যাক্টর নিয়ে কিছু স্লিম ধরণের ফোন আসলো। দাম দুই হাজার পার হলো ঠিকই, কিন্তু দিন দিন ফিচার ফোন আক্ষরিক অর্থেই dumb phone-এ পরিণত হলো। অথচ বাজারে শুনি এখনো স্মার্টফোন থেকে ফিচার ফোন বেশি বিক্রি হয়, এবং সেটা খুব সহসা পরিবর্তনেরও সম্ভাবনা আছে মনে হয় না। কিন্তু নতুন ফিচার ফোন যারা ব্যবহার করছে, তারা অনেকে হয়ত জানবেও না একটা সময় ছিলো যখন ফিচার ফোনগুলো আরো বেশি কিছু করতে পারতো।
এখন অবশ্য বাজারে নতুন করে 4G ফিচার ফোন এসেছে কিছু। ২ হাজারের আশেপাশেই। অ্যান্ড্রয়েড ফিচার ফোন আছে, ৪-৫ হাজার বাজেটে গেলে। তবে ফিচার ফোনের সাথে আমার নস্টালজিয়া যেখানে, সেই জায়গাটা প্রায় হারিয়ে গেছে।
এর মধ্যে আমার অ্যান্ড্রয়েড (Symphony Z40) সেট বয়সের ভার আর তার ওপর কনক্রিটের ওপর পড়ে কিছু সমস্যা করতে শুরু করায় একটা ব্যাকআপ সেট দরকার ছিলো। খুঁজতে গিয়ে এই দুর্দিনের বাজারের করুণ দশা আরেকটু সামনে থেকে দেখলাম। যাইহোক, তার মধ্যে আমার চেকমার্কগুলো পূরণ করে, এমন যে ফোনটার সন্ধান পেলাম, সেটা হলো Itel Super Guru 600। মনে হল সেটটা যেন একটা প্রজন্মের হারাতে বসা স্মৃতিগুলোর নিভু নিভু শেষ আলোটুকু ধরে রেখেছে। তবে হতাশাও অপেক্ষা করছিলো আমার জন্য।
Itel Super Guru 600 (SG600N)
2.8″ Big Screen, 10.8″ Slim Design, King Talker, 1900 mAh ব্যাটারী- এই কথাগুলোই ফোনটার বক্সের সামনে থেকে বড় করে দেখা যাবে। Itel Bangladesh-এর ওয়েবসাইটেও 2000 Contacts, 500 messages ক্যাপাসিটি কথাগুলোই হাইলাইট করা দেখবেন। তবে ফোনের বক্সের এক সাইডে ছোট করে লেখা আছে “Install App (JAVA)”।

বক্সের ভেতর আমি চার্জার আর ওয়ারেন্টি কার্ড বাদে কিছুই পাইনি। মানে কোন ইউজার ম্যানুয়াল বা স্পেকশিট ধরণের কিছু ছিলো না। ফোনের ভেতর একটা অনলাইন ইউজার ম্যানুয়াল লিঙ্ক করা থাকলেও ওতে স্পেসিফিকেশন নিয়ে তেমন কিছু নেই। Itel India ওয়েবসাইটে অবশ্য অনেক ডিটেইলড সব আছে, কিন্তু জাভা সাপোর্ট নিয়ে কিছু নেই। কেমন যেন একটা লুকোচুরি ব্যাপার। কেন জানি না।
জাভা সমর্থন, অপেরা মিনি, ইবুক ও গেমস
ফোনটাতে জাভা অ্যাপস কাজ করে, তবে একটা বড় ‘কিন্তু’ আছে। মেমোরি। Itel India অনুযায়ী ফোনটার র্যাম 8 MB। ৫-৭ বছর আগের জাভা ফোনগুলোতেও 6 MB থেকে 8 MB র্যাম থাকতে দেখেছি বলে মনে পড়ে। কিন্তু জাভার জন্য Itel SG600N সম্ভবত খুব কম মেমোরি অ্যালোকেট করেছে এবং এটার প্রভাবে ফোনের এক্সপ্রেরিয়েন্স বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
অপেরা মিনি
অপেরা মিনি প্রিইন্সটল্ড ছিলো না। তবে Internet টুল থেকে m.opera.com এ গিয়ে একদম সহজে ডাউনলোড ও ইন্সটল করতে পেরেছি। বর্তমানে অনেক ওয়েবসাইট-ই অপেরা মিনিতে কাজ করে না। ফেসবুক বর্তমানে দেখলাম একেবারেই সাপোর্ট করে না। যাইহোক, নিয়নবাতি আর GR+ BD-তে ঘুরতে পারবেন, বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ফাইল ডাউনলোডও করতে পারবেন।

অপেরা মিনিতে টেক্সট ফিল্ডগুলোতে ব্যাকস্পেস কাজ করছিলো না, এটা একটু সমস্যা। নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি 2G অবশ্যই। অফিসিয়াল স্পেক থেকে নিশ্চিত হতে না পারিনি, তবে E চিহ্ন দেখায়, গতিতেও EDGE নেটওয়ার্ক বলেই মনে হলো, যেটা GPRS থেকে একটু ফাস্ট। তবে যেটাই হোক, এখানে ব্রাউজিং করতে গেলে সেটা বিরাট ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিবে বলাই বাহুল্য।
ই-বুক
যাইহোক, এই পর্যায়ে চলে আসে কম মেমোরি অ্যালোকেশনের ব্যাপারটা। কোন পেইজের সাইজ একটু বড় হলে, যেমন হয়ত 150 kB ছাড়িয়ে গেলে Insufficient memory-এর সম্মুখীন হবেন। ফলাফল? অতীতে সাইমুম সিরিজ (অনুমোদিত) অপেরা মিনি থেকে পড়তে পারলেও এই ফোনে পারিনি। Gutenberg থেকে কিছু ক্লাসিক বইয়ের .txt নামানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু সেটা ডাউনলোড না হয়ে সরাসরি অপেরা মিনিতে ওপেন করার চেষ্টা করে, ফলে একইভাবে অপর্যাপ্ত মেমোরির সমস্যায় পড়ে।
অবশ্য .txt ফাইলের প্রসঙ্গে, ফোনটিতে Ebook টুল আছে, যেখানে .txt ফাইল পড়তে পারবেন। তবে সেটা হয়ত স্মার্টফোন বা পিসিতে ডাউনলোড করে ট্রান্সফার করে নিতে হবে, ফোনে সরাসরি ডাউনলোড করতে পারিনি এই আরকি। ফাইল ম্যানেজার (My Files) থেকে ওপেন করার পাশাপাশি ইবুক রিডারে শো করার জন্য Cool_Ebook ফোল্ডারে বইগুলো রাখতে হবে।

.txt ফাইল শুনে যতটা লিমিটেড মনে হয়, ব্যাপারটা ততটা খারাপ না আসলে। Gutenberg সহ বিভিন্ন জায়গায় অন্যান্য ফরমেটের সাথে .txt ফরমেটে ক্লাসিক বইগুলো পাওয়া যায়, আর যেকোন লেখা কপি-পেস্ট করে টেক্সট ফাইল তো বানানো যায়ই। এবং বাটন ফোনের স্ক্রিনে বিষয়টা ইবুক পড়ার মতই লাগে, নোটপ্যাড বা কোড এডিটর ধরণের ফিল দেয় না। আর পুরোটা যেহেতু একসাথে লোড করবে না, এখানে ফাইল সাইজ বেশি হলেও সমস্যা নেই।
গেমস
জাভা গেমস ইন্সটল বা রান করার ক্ষেত্রেও মেমোরি স্বল্পতা বেশ ভালোই লিমিটেশন তৈরি করেছে। D101 বা IT5320 তে অনেক অ্যাপ বা গেম-ই কাজ করত না। কিন্তু SG600N-এ ব্যাপারটা আরো করুণ।
তো শুরুতে Diamond Rush ইন্সটল করেছিলাম। ভালোভাবেই চললো। কিন্তু এরপর যেগুলো ট্রাই করেছি, হয়ত একদমই চলে না, নয়ত পারফর্মেন্স ভালোই খারাপ। Zuma, Asphalt 4 মোটামুটি চলে। R6Vegas সহ কিছু গেমস রান হয়, তবে ল্যাগি। কিছু রান হলেও ক্রাশ করে। আর কিছু শুরুতেই Insufficient memory। এরকম পরিস্থিতি আরেকটা হলো এই গেমগুলোর কোনটাই যেহেতু অফিসিয়ালি এখন পাওয়া সম্ভব না, থার্ড পার্টি পাইরেটেড বা আরেকটু সুগারকোটেড ভাষায় ‘গ্রে এরিয়া’ একমাত্র সোর্স, ঠিকঠাক চলবে এমন ফাইল খোঁজাটা একটা র্যাবিট হোল।

তার বাইরে ফোনটাতে ১০ টা প্রিইন্সটল্ড গেমস আছে, অবশ্য গেমস না বলে বিজ্ঞাপন বা সাবস্ক্রিপশন ট্র্যাপ বলাই ভালো। এর মধ্যে শুধু দুটো গেম ফ্রি- Cosmic Escape আর Ninja Up। বাকি ৮টা গেম ৫টা করে ট্রায়ালের পর সাবস্ক্রিপশন বেজড। এর মধ্যে আছে DOODLE JUMP, CROSSY ROAD, Racing Attack, Football Trophy এক মাস ১০ টাকা এবং Blackjack, Arrow Master, Air Strike, Bubble Bash 2 এক মাস ৪০ টাকা। আবার কিছু গেমে ইন-অ্যাপ পারচেজও আছে দেখলাম, যেমন Ninja Up ৫ রিভাইভ ৪০ টাকা, Blackjack ৫০০০ কয়েন ৪০ টাকা।

আমার আসলে এতদিন ধারণা ছিলো এখনকার বাটন ফোনের গেমগুলো ১০ টাকা দিয়ে এককালীন কিনতে হয়। আর ভাবতাম ২০০০ টাকার ফোনে ১০ টাকার গেম আলাদাভাবে কেনানো লাগে কেন কোম্পানিগুলোর। সকরুণ বাস্তবতা এখন বুঝলাম।
ক্যামেরা
বাটন ফোনের ক্যামেরা নিয়ে কথা বলতে গেলে এখন একটা প্রশ্ন আসে, অ্যান্ড্রয়েড থাকতে বাটন ফোনের ক্যামেরা নিয়ে চিন্তা কেন। এটার ঠিকঠাক উত্তর দেয়া কঠিন, তবে it’s kind of fun and nostalgic for me I guess…
আর ফিচার ফোন ইউজার সবাই সেকেন্ডারি ফোন হিসেবে সেটা ব্যবহার করে না। সেক্ষেত্রে একটু ইউজেবল ক্যামেরা থাকাটা উচিৎ বলেই মনে করি। অনেক দিকে ফিচার কাট করেও দামের দিক থেকে বাটন ফোনের গড়পড়তা দাম কিন্তু বরং বেশিই কয়েক বছর আগের থেকে। ২০০০ টাকার আশেপাশে দামের ফোনে যখন 0.08 MP ক্রমাগত ক্যামেরা দেখি, বিষয়টা দুঃখজনক।

Itel India-তে 1.3 MP ক্যামেরা দেখে শুরুতে বেশি খুশি হয়ে গেছিলাম। কিন্তু Full Specifications চেক করে দেখলাম 1.3 MP with software 😅 তো মেবি একচুয়ালি এটা 0.3 MP ক্যামেরা। যাইহোক, এখানে সফটওয়্যার প্রসেসিং বা যেভাবেই হোক, 960×1280 রেজ্যুলেশনের HD ছবি তোলা যায় এবং যদি আপনি প্রত্যাশা ঠিক জায়গায় রাখেন, তবে ক্যামেরার ছবি ভালোই।




এরকম কোয়ালিটির আরেকটা সেলফি ক্যামেরা দেয়া গেলে খারাপ হত না… ক্যামেরা মডিউলের দিকটা কিছুটা রিফ্লেক্টিভ ধরণের হওয়াতে অবশ্য ব্যাক ক্যামেরাতে সেলফি তুলতে হেল্প করে টুকটাক।

অডিও, কল কোয়ালিটি ও মিডিয়া প্লেব্যাক
Itel-এর আমার আগে চালানো দুটো বাটন ফোন- IT5081, IT5320 এর বড় একটা সমস্যা ছিলো অডিও। IT5081-এ অডিও কোয়ালিটি বেশ নিম্নমানের ছিলো। IT5320-এর একটাই রিসিভার+স্পিকার ছিলো, লাউডনেস খুবই কম, যেকারণে ফোনে কথা বলাতে বেশ অসুবিধা। IT5320 অবশ্য ডিসপ্লেতে কয়েকটা লাইন পড়া বাদে এখনো টিকে আছে, কল কোয়ালিটিই ওটার মূল সমস্যা।
তো এজন্য SG600N কেনা নিয়ে আশঙ্কা ছিলো এই জায়গাতে। তবে অডিও আর কল কোয়ালিটিতে ফোনটা ভালো পেয়েছি। আলাদা স্পিকার আর রিসিভার। স্পিকারের ক্ল্যারিটি ও লাউডনেস দুটোই ভালো ছিলো, যে দুটো একসাথে বাটন ফোনে অনেক সময়ই পাওয়া যায় না। নেটওয়ার্ক ও কল কোয়ালিটি নিয়েও কোন সমস্যা পাইনি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট- অটো কল রেকর্ডিং ফাংশন আছে। আপনার জন্য ভালো, যার সাথে কথা বলবেন, তার প্রাইভেসির জন্য অবশ্য না।
FM Radio আছে, ওয়ারলেস। অডিও প্লেয়ার, ভিডিও প্লেয়ার আছে। ভিডিও প্লেব্যাক ক্যাপাবিলিটি অবশ্য সীমিত। 240p পর্যন্ত AVI, 3GP এরকম ফর্মেটগুলো সম্ভবত ভালো চলবে- ফোনের ক্যামেরাতে করা ভিডিও বাদে এই ফর্মেটগুলোর আলাদা কোন ভিডিও টেস্ট করা হয়নি। তবে MP4 ফর্মেটের ভিডিওগুলো শুধু অডিও প্লে হচ্ছিলো, ভিডিও আসেনা। বাটন ফোনের জন্য এক্সপেক্টেড একচুয়ালি।

অন্যান্য
ফোনটার এই উজ্জ্বল কমলা রং যদি বেশি চোখে লাগে মনে হয়, আমি একমত। এখন এই কালারটাই পেলাম আরকি। বুধবার উত্তরা আজমপুর, রাজলক্ষ্মীর সব মার্কেট বন্ধ থাকে, এটা না জানা তো আমার দোষ না। যাইহোক, এর বাইরে ডিপ ব্লু আর শ্যাম্পেন গোল্ড দুটো কালার আছে, বাংলাদেশের মার্কেটে সবগুলো আছে কিনা বলতে পারি না। ডিজাইন অবশ্য সুন্দর আছে সব মিলিয়ে।
বিল্ড কোয়ালিটি কেমন জানি না। ড্রপ টেস্ট বা বেন্ড টেস্ট করে দেখতে চাচ্ছি না। হাতে ধরতে সাধারণ প্লাস্টিক বিল্ড বাটন ফোন যেমন হয়, তেমনই।
2.8″ ডিসপ্লে সাইজ বাটন ফোনের জন্য বেশ আদর্শ মনে করি। 240×320 QVGA রেজ্যুলেশন, যেটা এধরণের ফোনে স্ট্যান্ডার্ড। ওপর-নিচে বাঁকালে ডিসপ্লে নেগেটিভিটি আছে, ক্লাসিক ব্যাপার। সর্বোপরি গুড-এনাফ।
5 V 0.35 A এর চার্জার দিয়ে 1900 mAh ব্যাটারী পুরো চার্জ দিতে ৬ ঘন্টা লেগে যাবে। সেই চার্জ ফুরোতে অবশ্য বেশ কয়েকদিন লেগে যাবে, so, it’s ok I guess।

ফোনটার ইউআই ভালোই। কল ইন্টারফেস, অডিও প্লেয়ার, FM রেডিও প্রভৃতি ইন্টারফেসে ব্লারের ব্যবহার বেশ সুন্দর লাগে। একটা ডার্ক থিম থাকলে পুরো ব্যাপারটা আরো ব্যাপক হত, তবে সেটা বাস্তবতার নিরিখে বেশি চাওয়া হয়ে যাচ্ছে।
কীবোর্ড ব্যাকলিট আছে। ব্লুটুথ আছে। ভাইব্রেশন ফাংশন আছে। ব্লাকলিস্ট আছে। কিছু কোয়ালিটি অফ লাইফ ফিচারও আছে- যেমন, নাম্বার লেখার সময় ম্যাচগুলো দেখানো, এসএমএস লেখার সময় কারো নাম বা নাম্বার ইনসার্ট করা। ফান টু হ্যাভ কয়েকটা ফিচার আছে। যেমন Magic Voice (ভয়েস চেঞ্জার), ফোনে সেভ করা নাম্বারে হেডপোট্রেট (নোকিয়ার সেই ক্লাসিক ফোনগুলোতে থাকতো) সেট করা প্রভৃতি।

না থাকার মধ্যে Smart English (En) লেআউট নেই। এটা প্রায় সব বাটন ফোনে আগে থাকতো, এখন থাকে কিনা জানি না। যদি না জানেন, এটার ক্ষেত্রে ধরা যাক Text লিখবেন, 833998 না লিখে 8398 লিখলেই হত (অর্থাৎ যে লেটারই হোক, সংশ্লিষ্ট নাম্বার একবার করে), ডিকশোনারিতে থাকা সব সম্ভাব্য ম্যাচগুলো মিলিয়ে সাজেশন দেখাতো।
শেষ কথা
অন্য কোন ফোনের বদলে আমার Itel Super Guru 600 কেনার মূল কারণ ছিলো জাভা সাপোর্ট, এবং ফোনটার সবচেয়ে বড় উইকনেসও ছিলো জাভা সাপোর্টের লিমিটেশন। Itel Magic 4 ও Flip 1 এও সম্ভবত জাভা সমর্থন আছে, সেগুলো কীরকম অবস্থা জানি না। আইটেলের বাইরের অন্য কোন মেজর ব্র্যান্ডের রিসেন্ট কোন মডেলে জাভা সমর্থন চোখে পড়েনি।
বাস্তবতা হলো ২০২৬ সালের দাঁড়প্রান্তে এসে ফিচার ফোনে জাভা, তথা J2ME বর্তমানে মৃতপ্রায়। নস্টালজিয়া বাদে এখনো এটা নিয়ে পড়ে থাকার কোন কারণ কী আছে? কারণ এখানে কোন ডেভেলোপমেন্ট নেই, সাপোর্ট নেই, অফিসিয়াল চ্যানেলে জাভা অ্যাপস পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। নিরাপত্তা ও প্রাইভেসির দিক থেকে সচেতন একজন বাটন ফোনেও এটাকে খুব ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবেই দেখবেন। বিশেষ করে যখন আপনি আনঅফিসিয়াল থার্ড পার্টি থেকে অ্যাপস ডাউনলোড বা ইন্সটল করবেন।
এখান থেকে কোন পুনর্জাগরণ কী সম্ভব? নাকি জাভা ফোন অধ্যায় তার অনিবার্য মৃত্যুর শেষ প্রান্তে?
এখনকার নতুন ফিচার ফোনগুলোতে অপারেটিং সিস্টেমগুলো খুবই বেসিক থাকে। নোকিয়া বা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বেশ দামি 4G ডিভাইসগুলোও এখন খুবই লিমিটেড অপারেটিং সিস্টেম এক্সপ্রেরিয়েন্স অফার করে, যেখানে নিজে থেকে অ্যাপস ইন্সটলের সুযোগ নেই। মাঝখানে KaiOS এসেছিলো, কোন কারণে হারিয়ে গেছে দ্রুতই।
এর অন্যদিকে আছে অ্যান্ড্রয়েডচালিত স্মার্ট বাটন ফোন। কিন্তু আমার দেখায় ফোনগুলো অনেকাংশে টাচ নির্ভর। দাম এবং সহজলভ্যতার দিক থেকেও সাধারণ ফিচার ফোনগুলোর স্পিরিটের সাথে পুরোপুরি এক না। তবে হয়ত নিকট ভবিষ্যতে ব্রাঞ্চিংটা সেদিকেই যাচ্ছে- dumb ফোন আর অ্যান্ড্রয়েড বাটন ফোন।
সার্বিকভাবে যদি দেখি, জাভা ফোনের অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হয়ত একটা বাস্তবতা। তবে এর কোন উন্নত সংস্করণ গড়ে উঠেনি এবং বাটন ফোনগুলো বর্তমানে সকরুণ একটা দশায় আছে, এটাও বাস্তবতা। শুধু অ্যাপ্লিকেশন প্লাটফর্মের অভাবই নয়- ক্যামেরা, ইউআই, ফিচার, বিল্ড কোয়ালিটি, মিডিয়া প্লেব্যাক, নেটওয়ার্ক অনেক জায়গাতে ফোনগুলো যেন সময়ের সাথে পিছিয়েছে।
Itel Super Guru 600 আমার চোখে এই দিকগুলোতে ভালোর দিকে থাকবে, তবে সেটা বর্তমান মার্কেট বিবেচনায়। ফ্ল্যাগশিপ কিংবা লেটেস্ট সবচেয়ে এডভান্সড টেক- এগুলো কিন্তু সবার জন্য না এবং সবার চাওয়াও কিন্তু সেটা না। পকেটে একটা বাটন ফোন রাখার যে দিকগুলো- একটা ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন হয়ত অনেকের সে চাওয়াগুলো পূরণ করতে পারবে না। আর বাজেটের জন্য যারা বাটন সেট নিচ্ছে তাদের জন্যও একটু ভালো কিছু আনার জন্য কোম্পানিগুলো চেষ্টা করতে পারে।
সর্বোপরি ঠিক এই মুহুর্তে, যদি আইটেল কিংবা যেকোন ব্র্যান্ড অন্য সবকিছু ঠিক রেখে যৌক্তিক দামের মধ্যে বেটার বিল্ড ম্যাটেরিয়াল, বেটার হার্ডওয়্যারসহ আরো পূর্ণ জাভা সমর্থনসহ ডিভাইস মার্কেটে আনতে পারে এবং সেটা যথাযথ মার্কেটিং করতে পারে- একটা প্রজন্ম তা লুফে নিবে বলেই আমার বিশ্বাস।





Nice post
Thanks