প্রাসঙ্গিক আলাপ

আমরা কি ঠিক তাই করছি?

খ্রিস্টানদের সেইন্ট বা সাধুদের স্মরণের জন্য এক প্রকার ক্যালেন্ডার আছে। ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে Pope Gelasius I এই ক্যালেন্ডারে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন’স ডে অন্তর্ভুক্ত করেন। তবে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন একজন নন, এই নামের বেশ কয়েকজন ছিলেন। ভ্যালেন্টাইন দিবসের সাথে সম্পর্কিত রয়েছেন দুজন- একজন রোমের (Valentine of Rome) এবং অন্যজন টারনির (Valentine of Terni)। খ্রিস্টানদের সম্প্রদায়ভেদে সেইন্টদের স্মরণ করার ক্যালেন্ডারে তারতম্য আছে। বিভিন্ন সম্প্রদায় এখনো এই দিনটিতে সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনদের স্মরণ করেন। তবে তারা প্রাণ দিয়েছিলেন ধর্মীয় কারণে, ভ্যালেন্টাইন দিবসের সাথে রোমান্টিকতার সংশ্লেষ হয়েছে অনেক পরে। ট্রেডিশনালি প্রচলিত আছে রোমের সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারক্ষীর অন্ধ মেয়ের দৃষ্টিশক্তি সুস্থ করে দিয়েছিলেন। পরে আরো রং চড়েছে এর সাথে। চতুর্দশ শতকে ইংরেজ সাহিত্যিক জিওফ্রে চসারের লেখায় প্রথম ভ্যালেন্টাইন দিবসের সাথে রোমান্টিক ভালোবাসার নিদর্শন দেখা যায়। চতুর্দশ-পঞ্চদশ শতকের দিকে এই দিনটিতে courtly love উদযাপনের একটি ধারা দেখা যায়। Courtly love হলো মধ্যযুগীয় ইউরোপের ভালোবাসার একটি ধারণা, যেখানে আভিজাত্য ও বীরত্ব গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভ্যালেন্টাইন’স ডে বর্তমান রূপ ধারণ করতে শুরু করে উনিশ…

আরো পড়ুনআমরা কি ঠিক তাই করছি?

লক্ষ্য না হোক লক্ষ্যহীন!

অর্থ-সম্পদ-ক্ষমতা-প্রভাব-প্রতিপত্তির পেছনে নিরন্তর ছুটে চলি আমরা, কেন ছুটে চলি জানি না, শুধু একসময় মৃত্যু এসে আমাদের থামিয়ে দেয়, আর জীবনের অর্জনগুলো পড়ে থাকে পেছনেই। আমাদের জীবনে কিছু হওয়ার ইচ্ছা থাকে, যেমন শিক্ষক, গবেষক, ব্যবসায়ী, ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে চাওয়া। এটাকেই আমরা জীবনের লক্ষ্য বলে থাকি। কিন্তু লক্ষ্য কথাটা মনে হয় শুধু কর্মজীবনে নির্দিষ্ট কিছুকে সামনে রাখার থেকে আরেকটু বড় অর্থ বহন করে। মানুষ আর সব প্রাণীর মত নয়। মানুষের সূক্ষ্মতর চিন্তাধারা আছে, আছে জটিল অনুভূতি, আছে ভালো-মন্দের বোধ আর এমন বুদ্ধিমত্তা যার সাথে আর কোন প্রাণীর তুলনা চলে না। আর তাই একটা সুন্দর লক্ষ্য বোধহয় জীবনের থাকা উচিৎ। এবং আমাদের ক্যারিয়ার ও সম্পদ হতে পারে এই লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম। একটা সুন্দর গঠনমূলক জীবনের জন্য উত্তম একটা লক্ষ্য খুবই প্রয়োজন। শুধু খাদ্য গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো, খেল-তামাশা ও তার আয়োজনের ব্যবস্থাটুকু করে জীবন কাটিয়ে দেয়া বড় আফসোসের বিষয়। আবারো, এই লক্ষ্য বলতে ক্যারিয়ার নিয়ে স্বপ্ন নয়, বরং সেই ক্যারিয়ার অর্জন…

আরো পড়ুনলক্ষ্য না হোক লক্ষ্যহীন!

রসিকতা হোক সীমার মাঝে

মানুষের জীবনে আনন্দ ও বিনোদনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু জীবনটাকেই যদি বিনোদন বানিয়ে নেয়া হয়, যদি সবকিছুকে খেলতামাশা করে নেয়া হয়, তবে তা প্রশংসনীয় নয়। এই সময়ে প্রাঙ্ক, ট্রল ও মিম প্রভৃতি সংস্কৃতি যে রূপ ধারণ করছে- তা অনেক ক্ষেত্রেই বলা যায় সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রসিকতা বা হাসি-ঠাট্টার বিষয়টিকে কিছুটা লবণের সাথে তুলনা করা যায়। এর অনুপস্থিতি যখন খাবারকে বিস্বাদ করে তুলে, বিপরীতে এর আধিক্য খাবারকে করে তুলে খাবার অনুপোযুক্ত। হাসি-ঠাট্টা তখনই প্রশংসনীয় যতক্ষণ তা পরিমিত মাত্রার মধ্যে থাকছে। বিশেষ করে এখন তো এমন একটা অবস্থা হয়েছে- দুর্ঘটনা, মৃত্যু, বিপদ-আপদ কোনকিছুকেই আমরা রসিকতার হাত থেকে ছাড় দিচ্ছি না- নিঃসন্দেহে এটা নিন্দনীয়। যখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকেও তামাশা বানিয়ে নেয়া হয়, দরকারী সময়গুলোতেও সিরিয়াসনেস না দেখানো হয়- তা অন্যদের কাছে মানুষের গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। মানুষ হাসানোর জন্য মিথ্যা বলা নিয়ে হাদিসে খুব শক্ত কথা বলা হয়েছে (মিথ্যা বলা বলতে গল্প বা ফিকশন উদ্দেশ্য নয়)। কারো বিষয়ে গীবত করা, কাউকে অন্যায়ভাবে অপদস্থ করা, আঘাত বা…

আরো পড়ুনরসিকতা হোক সীমার মাঝে