ভিভো বাংলাদেশে তাদের নতুন একটি ডিভাইস নিয়ে এসেছে, যা হলো Vivo Y51। এর দাম রাখা হয়েছে ২২ হাজার টাকা। ভিভোর এই নতুন স্মার্টফোনে যে দুটো ফিচার হাইলাইট করা হয়েছে, তা হলো ক্যামেরা ও ব্যাটারী। তবে ফোনটি সত্যি বলতে সব মিলিয়ে আমার পছন্দ হয়নি, আর এর চিপসেট বিশেষ করে এই দামে একদমই বেমানান।

ডিজাইনের ব্যাপারে আমার তেমন কিছু বলার নেই। এটা সুন্দর, তবে এধরণের ডিজাইন ভিভোর অন্য স্মার্টফোনেও আমরা দেখেছি, শুধু ক্যামেরা মডিউলে একটু পরিবর্তন এসেছে, যা ভালোই দেখায়। Titanium Sapphire ও Crystal Symphony দুটো কালারে আনা হয়েছে স্মার্টফোনটি। এর সুন্দর একটি ব্যাপার হলো এটি বেশ স্লিম, 8.38mm থিকনেস। আর এর ওজন 180g।

নচ ডিসপ্লে দেখে বেশ অবাক হলাম, কেননা আরো কম দামেও পাঞ্চহোল এখন স্ট্যান্ডার্ড। হয়ত কেউ থাকতেও পারে, যারা পাঞ্চহোল থেকে নচ বেশি পছন্দ করে, তাদের ভালো লাগতে পারে, আমি জানি না… এর ডিসপ্লে 6.58″ একটি FHD+ (2408*1080) রেজ্যুলেশনের ডিসপ্লে। এখানে IPS প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। থাকছে না কোন হায়ার রিফ্রেশ রেট।

স্মার্টফোনটি প্লাস্টিকে তৈরি। অন্য কোম্পানিগুলোও এখন প্রিমিয়াম গ্লাস বা মেটালের পরিবর্তে মিড এবং হায়ার মিড বাজেটে প্লাস্টিক ব্যবহার করছে, তবে তারা এর পরিবর্তে পারফর্মেন্স সেকশনে কিন্তু বেটার কিছু অফার করছে। ভিভোর ক্ষেত্রে যেহেতু তা হচ্ছে না, সেহেতু তাদের বিল্ড ম্যাটেরিয়াল আরো ভালো কিছু দেয়া উচিৎ ছিলো বলে মনে করি।

বিশেষ করে তারা কোন ডিসপ্লে প্রটেকশনের কথাও উল্লেখ করেনি, যার সহজ অর্থ হলো খুব সম্ভবত ডিসপ্লেতে কোন গরিলা গ্লাস বা এধরণের প্রটেকশন নেই। এত দামের একটা ফোনে অবশ্যই এমনটা কাম্য নয়।

এখানে চিপসেট হিসেবে দেয়া হয়েছে Qualcomm Snapdragon 662। এটা বর্তমানের হিসেবে এই দামে বেশ দুর্বল একটি চিপসেট বলা যায়, কেননা আমরা ১৩-১৪ হাজার টাকাতে বর্তমানে Helio G70, G80 বা G85 দেখছি, যেগুলো কিন্তু এর চেয়ে কিছুটা বেটার। ভিভো যেহেতু পারফর্মেন্স সেন্ট্রিক ফোন আনে না, তাদের কাছে হয়ত ১৭-১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত SD662 মানা যেত, কিন্তু ২২ হাজার টাকা প্রাইসট্যাগের সাথে এটা এখন একদমই যায় না, অন্তত SD675 দিলেও সান্তনা পাওয়া যেত।

এর সাথে অবশ্য তারা ব্যাপক পরিমাণে র‌্যাম দিয়েছে, পুরো ৮ জিবি। তবে আমার মনে হয় না এই ফোনে এত র‌্যাম দরকার ছিলো। কারণ এখানে অত বেশি হেভি ইউজিং বা মাল্টিটাস্কিং করতে গেলে চিপসেটের লিমিটেশন বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। আমার মতে SD662-র সাথে বেশি হলে ৬ জিবি র‌্যাম মানানসই। এর সাথে ১২৮ জিবি স্টোরেজ থাকছে।

ক্যামেরা সেকশনে ভিভো বরাবরই ফোকাস করে থাকে। Y51-এ 48MP প্রাইমারি সেন্সর থাকছে, যার অ্যাপার্চার f/1.79। এখানে EIS সমর্থন থাকছে। এর সাথে একটি 8MP f/2.2 আল্ট্রাওয়াইড ও 2MP f/2.4 ম্যাক্রো লেন্স দেয়া হয়েছে। সেলফি ক্যামেরা 16MP f/2.0।

তো, কনফিগারেশনের দিক থেকে, এর ক্যামেরা সেটআপ ভালোই মনে হয়েছে, বিশেষ করে ভিডিও করার বেলায় EIS আছে, এটা ভালো ব্যাপার। যদিও আমি হ্যান্ডস অন ক্যামেরা এক্সপেরিয়েন্স করিনি, ক্যামেরায় এই ফোনটি আশা করছি হতাশ করবে না। তাছাড়া, মেকআপ বক্স হিসেবে ওপ্পো-ভিভোর সুখ্যাতির কথা কে না জানে!

ক্যামেরার সাথে 5000mAh ব্যাটারী ফিচারটি তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, যদিও এখনকার সময়ে এটা সাধারণ ব্যাপার। 18W চার্জিং সমর্থন থাকায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের আশেপাশে সময় লাগতে পারে একে পূর্ণ চার্জ করতে এবং এরপর দেড়-দুইদিন সাধারণ ব্যবহারে আর চার্জ করার দরকার হয়ত হবে না।

প্রয়োজনীয় সেন্সরগুলো এখানে উপস্থিত। এক্সেলেরোমিটার, লাইট, প্রক্সিমিটি, ই-কম্পাস সেন্সর থাকছে। জাইরো সেন্সরটি খুব সম্ভবত সফটওয়্যার ভিত্তিক, অর্থাৎ, কম্পাস ও এক্সেলেরোমিটারের ডেটা একসাথে হিসেব করে কাজ করে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থাকছে সাইড মাউন্টেড। সফটওয়্যার সেকশনে এই ফোনটি Funtouch OS 11 অফার করছে, যা Android 11 এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

সব মিলিয়ে বললে ১৭-১৮ হাজার টাকার মধ্যে এই স্মার্টফোনটি আসলে তা বেশ চমৎকার হতে পারতো, প্রয়োজনে ৬ জিবি র‌্যাম দেয়া যেত। কিন্তু ২২ হাজার টাকা আমার কাছে অনেক বেশি মনে হয়েছে। তবে আমি একটা ব্যাপার উল্লেখ করতে চাই, খেয়াল করে দেখেছি, ভিভো ব্যবহারকারীরা অনেকেই তাদের ফোনের অভিজ্ঞতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে থাকে। হয়ত স্লিমনেস, লাইটওয়েট, স্পিকার কোয়ালিটি, সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স ব্যাপারগুলো এখানে ভূমিকা রাখে।

যাইহোক, তাই বলে এর দামকে আমি জাস্টিফাই করতে পারছি না। আমার কাছে Vivo Y51 ২২ হাজার টাকা রেঞ্জে ভালো অপশন বলে মনে হয়নি। এই স্মার্টফোনটি নিয়ে আপনার মন্তব্য কী? জানিয়ে দিন কমেন্ট সেকশনে।

তথ্য ও ছবি সোর্স

Leave a Reply