বাজেট যদি ৭০০০ টাকা হয়, তাহলে এতদিন একটি সহজ সাজেশন ছিলো Itel Vision 1, কেননা এই দামে এটি যেরকম স্পেক অফার করছিলো, তা আসলে আর উল্লেখযোগ্য কোন ফোনই করছিলো না। তবে অল্পদিনের মধ্যেই সিম্ফনির নতুন একটি ডিভাইস লঞ্চ হওয়ার কথা রয়েছে, Symphony i99, যেটি Itel Vision 1 এর সরাসরি প্রতিপক্ষ হতে পারে। তো, আজকে Itel Vision 1 আর Symphony i99 এর কম্পারিজন করতে চাই, যেন উপযুক্ত ডিভাইসটি বেছে নেওয়া সহজ হয়।

ফোনদুটোর মধ্যে বেশ মিল রয়েছে, পার্থক্য আসলে খুব বেশি নয়। যেকারণে এর মধ্য একটি বেছে নেওয়া কঠিন হতে পারে। আমার মনে হয়েছে Itel Vision 1 নেওয়ার সবচেয়ে বড় এডভান্টেজ হলো 32GB স্টোরেজ, অন্যদিকে Symphony i99 এর এডভান্টেজ হলো Android 10। যাহোক, আমরা ডিটেইল কম্পারিজনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

দাম

Vision 1 আর Smyphony i99 দুটো ফোনেরই দাম রাখা হয়েছে ৬৯৯০ টাকা। ৭০০০ পূর্ণ করতে এর সাথে একটি বোম্বাই সুইটস পটেটো ক্র্যাকার্স কিনে নিতে পারেন।

ব্র্যান্ড

সিম্ফনিকে নিয়ে কিছু বলার আসলে প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি, কেননা বাংলাদেশের মানুষের বড় অংশের প্রথম স্মার্টফোনটি তাদেরই ছিলো। যদিও এখন শাওমি রিয়েলমির মত ব্র্যান্ডগুলোর কারণে প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে উঠছে, তারপরও এন্ট্রি লেভেলের বাজেটে এখনও তাদের শক্ত দখল। অন্যদিকে ব্র্যান্ড হিসেবে আইটেল অল্পদিনেই খুব ভালো জনপ্রিয়তা পেতে সমর্থ হয়েছে। চীনের ট্র্যানশান কোম্পানির এই ব্র্যান্ডটি এন্ট্রি লেভেলে তারা পরিচিত একটি নাম। তবে এই ব্র্যান্ডদুটোর মধ্যে কোন ব্র্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা বেশি যদি প্রশ্ন করা হয়, সহজেই বলা যায় উত্তরটি হলো সিম্ফনি।

ডিজাইন ও বিল্ড

দুটো ফোনের বিল্ড একই ধরণের। গ্লসি প্লাস্টিক ব্যাকপার্টটি রিমুভেবল। ডিজাইনের কথায় আসলে দুটো ফোনই দেখতে বেশ সুন্দর। সম্ভবত এখানে বেশিরভাগ মানুষের পছন্দ হবে Itel Vision 1। তাদের ফোনের অন্যতম সেলিং পয়েন্ট হলো এর আইফোন স্টাইল ক্যামেরা কাটআউট, যা কিছুটা গরিবের আইফোন ফিল দেয়। আমারও এর ডিজাইন পছন্দ হয়েছে তবে Symphony i99 এর মত মিনিমালিস্টিক ক্যামেরা কাটআউটও আমার ভালো লেগেছে। আসলে এটি পার্সোনাল প্রিফারেন্সের বিষয়। Vision 1 গ্র্যাডিয়েশন পার্পল অথবা গ্র্যাডিয়েশন ব্লু দুটি কালারে পাওয়া যায়। i99 আনা হয়েছে চারটি কালারে- Caribbean Blue, Amazon Green, Irish Purple, Persian Blue।

ডিসপ্লে

দুটো ফোনেরই ডিসপ্লে 6.09″। দুটোরই অ্যাসপেক্ট রেশিও 19.5:9 আর রেজ্যুলেশন 1560*720 অর্থাৎ, HD+।

মেমোরি ও স্টোরেজ

দুটো ফোনই 2GB র‌্যাম অফার করছে। তবে Vision 1 এর বড় এডভান্টেজ থাকছে স্টোরেজে। এটি 32GB ইনবিল্ট স্টোরেজ প্রোভাইড করছে, অন্যদিকে i99-এ থাকছে 16GB। কাজেই i99 এর সাথে এসডি কার্ড ব্যবহারের প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকছে।

SoC (চিপসেট)

SoC হিসেবে দুটো ডিভাইসেই থাকছে Unisoc SC9863A। ৭০০০ টাকায় এটি বেশ ভালো একটি চিপসেট। এখানে ৮টি ARM Cortex-A55 আছে, যাদের চারটির ক্লকস্পিড 1.6GHz এবং বাকি চারটি 1.2GHz। GPU রয়েছে IMG8322@550MHz। এরকম লো বাজেট চিপসেটে Cortex-A53 থাকে সাধারণত, এখানে থাকা A55 তার থেকে 20% শক্তিশালী বলে বলা হয়েছে। তবে এর ট্রানজিস্টর সাইজ 28nm।

ব্যাটারী

এখানেও এগিয়ে থাকছে Itel Vision 1। এত কম দামে তারা 4000 mAh এর বড় ব্যাটারী দিচ্ছে, যেটি একটি প্লাসপয়েন্ট। Symphony i99-এ ব্যাটারী দেওয়া হয়েছে 3500 mAh, এই দামে এটা নিয়ে অভিযোগ করছি না, তবে অবশ্যই Vision 1 থেকে এখানে পিছিয়ে যাচ্ছে।

ক্যামেরা

স্বাভাবিক যে, কম দামের মধ্যে কোন দিকে একটু বেশি দিতে হলে অন্য দিকে কিছুটা কম্প্রোমাইজ করতে হয়। আর Itel Vision 1-এ ক্যামেরাতে কিছুটা কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে। এখানে থাকছে 8MP মেইন ক্যামেরা, এর সাথে দ্বিতীয় একটি লেন্স থাকছে, যার সম্বন্ধে তথ্য দেওয়া হয়নি, সম্ভবত এটি AI লেন্স, ধরে নিন এর কোন কাজ নেই। অন্যদিকে সামনে থাকছে 5MP সেলফি ক্যামেরা। আইটেলের ক্যামেরা সাধারণত ভালোই হয়, তবে MP কম হওয়ায় ছবির রেজ্যুলেশনে অবশ্যই প্রভাব পড়বে।

সিম্ফনি সেখানে এই দামের মধ্যে 13MP মেইন ক্যামেরা, 2MP ডেপথ সেন্সর ও 8MP সেলফি ক্যামেরা দিয়েছে। তারা বর্তমানে ক্যামেরা সেকশনে বেশ ভালো করছে। যদিও কোন ক্যামেরা স্যাম্পল আমি দেখিনি, তবে স্বাভাবিকভাবেই Vision 1 এর ক্যামেরা থেকে এটি ভালোভাবেই এগিয়ে থাকে।

সফটওয়্যার

আজকে রিলিজ হয়ে গেলো Android 11 আর এই সময়ে এসে Itel Vision 1 নিলে সেখানে কিন্তু থাকছে Android 9.0, যেটা এখন ব্যাকডেটেড হয়ে যাচ্ছে। তো, Symphony i99 বেছে নেওয়ার আরেকটি বড় কারণ হতে পারে সফটওয়্যার, কেননা এখানে Android 10 দেওয়া হয়েছে। Android 10 এর বেশ কিছু প্লাস পয়েন্ট রয়েছে, যার মধ্যে বিশেষ করে ডার্ক মোড একটি আকর্ষণীয় ফিচার। সিম্ফনির ইউআই অলমোস্ট স্টক, অন্যদিকে আইটেলের ইউআই কিছুটা কাস্টমাইজড হলেও ক্লিন লাইট একটি ইউআই।

সেন্সর

এধরণের ফোনে সচারচর জাইরো, কম্পাস এরকম সেন্সরগুলো পাওয়া যায় না এবং এ দুটো ফোনেও নেই। আইটেল সেন্সর নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি, তবে দুটো ডিভাইসেই Proximity, Light, Accelerometer এরকম বেসিক সেন্সরগুলো পেয়ে যাওয়ার কথা। আর দুটো ফোনেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থাকছে, যেটা অনেক ব্র্যান্ড ৯-১০ হাজার টাকাতেও দেয় না।

অন্যান্য

ব্যাটারী বেশি হলেও থিকনেস Vision 1-এ একটু কম, 8.5mm, যেটি i99-এ 8.9mm। এছাড়া Vision 1-এ স্পিকার গ্রিলস নিচের দিকে আছে, কিন্তু i99-এ রেয়ারে দেওয়া হয়েছে।

অভিমত

তো এখন তাহলে সামারাইজ করলে দুটো ফোন প্রায় সেম এবং কিছুদিকে একটু কমবেশি আছে। স্টোরেজের বিষয়টি Vision 1 বেছে নেওয়ার কারণ হতে পারে, তবে পার্সোনালি আমার চয়েস থাকবে Symphony i99। এর কারণ প্রথমত, ব্র্যান্ড হিসেবে সিম্ফনিকে আমি প্রিফার করি, বিশেষ করে যখন এটি দেশীয় একটি ব্র্যান্ড। দ্বিতীয়ত, সফটওয়্যার, Android 10-এর অনেক এডভান্টেজ রয়েছে, আর তার সাথে আমি স্টক ইউআই পছন্দ করি। তৃতীয়ত, ক্যামেরা, আমি খুব বেশি ছবি তুলি না, তারপরও একই দামে অবশ্যই ভালোটাই নিতে চাইবো।

অন্যদের জন্য যদি সাজেস্ট করতে বলা হয়, Itel Vision 1 এখনো একটি ভালো ডিল। এর ডিজাইন, স্টোরেজ, ব্যাটারী এই ফোনটি বেছে নেওয়ার কারণ হতে পারে। আবার, স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে বড় একটা অংশের মূল প্রায়োরিটি থাকে ক্যামেরা। এত অল্প দামের মধ্যে i99 যেরকম ক্যামেরা সেটআপ দিচ্ছে, তা বেশ দুর্লভ। সফটওয়্যারের বিষয়টিও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এই দিকগুলো i99 পছন্দ করার সম্ভাব্য কারণ। আপনার প্রায়োরিটির কথা খেয়াল রেখেই আসলে নিজের ডিভাইসটি বেছে নিবেন।

Symphony i99 এর ছবি ও কিছু তথ্য সহায়তার জন্য Md Mohim Uddin ভাইকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ। Symphony i99 নিয়ে আরো জানতে এটি দেখুন। Itel Vision 1 সংক্রান্ত তথ্য ও ছবি তাদের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।

Leave a Reply